অনেকদিন লেখা কিংবা পড়া হয়না এই ব্লগে, কারন টা সবারই বোধহয় জানা...এই বিশ্বজোড়া মহামরীর ভুক্তভোগী আমিও..
এপ্রিলের ২ তারিখ থেকেই আমি খুবি অসুস্থ ছিলাম--জ্বর, কাশী, পেট ঝারাপ সব ছিল..২ সপতাহ ঘরের মধ্যই কোয়ারানটিন ছিলাম..কি যে ভয়াবহ সেই দিনগুলো কেটেছে আমার!..ছেলেমেয়ে, স্বামী ওরা কি খেয়েছে, কি করেছে কিছুই জানতে পারিনি. একা একা নীচতলার ফ্যামিলী লিভিং রুমে প্রায় বন্দীর মতো দিনরাত কেটেছে!..টেলি ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করে ওষুধ খেয়েছি, ঘরোয়া টোটকা কিছু নিয়ম মেনে চলেছি---আলাহামদুলিল্লাহ এখন অনেক ভাল হয়ে গিয়েছি!..একটা জিনিস বুঝেছি যে, করোনা মোকাবিলা করতে খুবই মনোবল দরকার আর দরকার, পরিবারের কারো সহযোগীতা!..আমার স্বামী, মেয়ে, এমনকি আমার ননাশরা এসে খাবার দিয়ে গেছে ড্রাইভওয়েতে, পরে আমার ছেলেমেয়ে সেগুলো তুলে এনে ঘরে রেখেছে!
আমার মার্চের ৩০ তারিখ পর্যন্তও সাইটে যেয়ে কাজ করতে হয়েছে আমাকে, এবং সেটাই জন্য আমার এই পরিণতী হয়েছিল..এর জন্য আমি নি্উ ইয়র্ক সিটির প্রশাষন কে দায়ী করছি---আমরা যে সব সাইট অফিস /ট্রেইলার গুলোতে যেতাম, সেখানে নিষেধ সত্তেও বেশী মানুষ থাকত, ক্লীন/স্যানিটাইজ করত কি না ঠিকমত কে জানে!..এ সমস্ত গাফিলতীর জন্য নি্উ ইয়র্ক এর এই অবস্থা! এখন বাসা থেকে কাজ করছি টেলি ওয়ার্কের মাধ্যমে, কিনতু আবার কখন হঠাৎ করে সাইটে আবার যেতে হয়, কে জানে!
সবাই ভাল থাকুন, প্রয়োজন ছাড়া ঘরের থেকে বের হবেন না, যদি যেতেই হয় খাবার/ওষুধ কিনতে, অবশ্যই মাস্ক, গ্লাভস পরে বের হবেন..বাজার করে এসে জিনিসপত্রের ব্যাগ গুলো গ্যারাজে/ বারান্দা/পোরচে ফেলে রাখবেন মিনিমাম ২৪ ঘন্টা...পরে সব বের করে ভাল করে ধুয়ে ফ্রীজ বা, কাউন্টারে রাখবেন। ফলমুল সাবান পানি দিয়ে ধোয়ার দরকার নেই...শুধু পানি দিয়ে পরিস্কার করলেই হবে। আর একটা কথা, আপনি বাজার করে এসে জিনিসগুলো রেখে সেখানেই মাস্ক, গ্লাভস গুলো খুলে ফেলে দেবেন, এবং সাথে সাথেই সাবান পানি দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলবেন। তারপর শাওয়ার নেবেন। কাল কে থেকে আমাদের এখানে পবিত্র রমজান--- সবাইকে রমাদান মুবারাক!..নিজেদের ভাল রাখার পাশাপাশী প্রতিবেশী, আত্বীয়, এবং দুখী মানুষদের পারলে খোজখবর রাখবেন। সবচেয়ে বড় কথা মনোবল হাাবেন না---সময় টা বড় কঠিন যাচ্ছে এখন..যে যেভাবে আল্লাহ/ইশ্বর/গড কে বিশ্বাস করেন, সেভাবেই ডাকুন তাকে! আলো একদিন আসবেই টানেলের শেষ প্রান্তে!
কোয়ারানটাইন কালীন কিছয় খন্ডচিত্র...

আমার ননাশের ছেলেরা খাবার দিয়ে গেল ড্রাইভওয়েতে, মেয়ে সেগুলো তুলতে যাচ্ছে।


আমার একাকী রাতের সাক্ষী এই চাঁদ-তারা গুলো (হিউমিডিফায়ারের আলো!)...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

