কিছুদিন আগে আ্যনটিবডি টেস্ট করলাম। পজিটিভ এলো আমার, আমার বর ও মেয়ের--শুধু ছেলে ছাড়া, ও নেগেটিভ! আমার লাস্ট পোস্টে আমি লিখেছিলাম যে আমি খুব অসুস্থ, তখন কিন্তু আমি করোনা টেস্ট করাই নাই ভয়ে..ডাক্তারের প্রেসক্রাইব করা ওষুধ, পর্যাপ্ত রেস্ট আর আইসোলেশনে থেকেছি শুধু..এখন এতদিন পরে আ্যনটিবডি টেস্ট করার পড়ে জানতে পারলাম, আমার করোনা হয়েছিল!..সেই সাথে আমার বর আর মেয়ের শরীরেও আ্যনটিবডি তৈরি হয়ে গেছে! শুধু ছেলে আমার সবসময় ওর রুমে থেকেছে, একদমই বের হয়নি--মানে ওর করোনা হয়নি, আবার শরীরে আ্যনটিবডিও তৈরি হয়নি। ভাবতেই গা কাঁপে---ইস কি ভয়ংকর দিনগুলো ছিল সে সময় (এপ্রিলের শুরু তে), জ্বর চলে গেলও টানা ৩ সপ্তাহ শরীর প্রচন্ড উইক ছিল!
এত কিছুর মধ্যেই আমার ছেলের হাইস্কুল গ্রাজুয়েশন হয়ে গেল জুনে..ওর দিকে একটু খেয়ালও করতে পারি নাই! লাস্ট সেমেস্টার টা অনলাইন ক্লাসেই হয়েছিল, ভয়ে ছিলাম যে ফেলই করে ফেলে কিনা!.. কারন বাসায় এই অবস্থা (মোটামুটি সবাই অসুস্থ, খাবার দাবারের করুন অবস্থা, ভয়-আতংক...), ও কি পড়ছে, কি করছে, কেউ দেখার নেই! (একটু ফাঁকিবাজ আছে আমার ছেলে---ভিডিও গেম আ্যডিক্টেড!)..যা হোক, আল্লাহর অশেষ রহমতে ও ভালভাবেই গ্রাজুয়েট হল। ওদের স্কুল খুব সাবধানতার সাথে, সোসাল ডিসটানসিং মেনে ছোটখাট একটা সেলেব্রেশন ও করল!..ভাইবোন এখন একসাথে বোস্টনে পড়বে (আমার মেয়ে ফাইনাল ইয়ারে, ছেলে ফ্রেশম্যান), আরও মজার ব্যাপার হোল, ওরা দুজন একই ডর্মে থাকবে---শুধু চিন্তা লাগে আবার যদি সেকেন্ড ওয়েভ আসে করোনার এই ফল সেমেস্টারে? তখন কি হবে! বাসাও খালি হয়ে যাবে..করোনার কারনে আমরা চারজন একসাথে থাকছি, হোম অফিস করছি...মোটামুটি বন্দি জীবন হলেও খুব খারাপ লাগেনা শুধু এটা ভেবেই যে, আমরা সবাই একসাথেই আছি! (আমার মেয়ে ইউনিভারসিটি তে যাবার পর থেকে লাস্ট ৩ বছর ও এতদিন আমাদের সাথে থাকেনি কখনো, অথবা সে সুযোগও হয়নি)...আমরাও কাজ নিয়ে ব্যস্ত থেকেছি ওদের ছোট বেলা থেকেই---একসাথে, এত সময় আমরা কখনো থাকার সুযোগ পাইনি! হয়ত এটাই একটা ছোট্ট ভাল দিক ছিল এই কোয়ারানটাইনের যে আমরা আমাদের এত সময় দিতে পারছি, কাজের ফাঁকে ওদের জন্য পছন্দের রান্না করছি, একসাথে কোন টিভি প্রোগ্রাম দেখছি...
এই কোয়ারানটাইনে, বিশেষ করে, আমার অসুস্থতাকালীন সময়ে একটা নেটফ্লিক্স টিভি সিরীজ আমাকে মুগ্ধ করে রেখেছিল---
"SHTISEL"! এটা একটা ইজরায়েলী টিভি সিরীজ--অর্থডক্স ইহুদীদের জীবন নিয়ে। তাদের প্রচন্ড কট্টর ধর্মীয় জীবনযাপনের সাথে একটা শিল্পীর(ঐ পরিবারে ছোট ছেলে) মানসিক টানাপোড়েন, প্রতিনিয়ত মানিয়ে নেয়ার যুদ্ধ...কি যে অপূর্ব কাহিনী, শক্তিশালী অভিনয় আর পরিচালনা! ..SHTISEL যেন আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল সেই কঠিন সময়ে, অক্সিজেনের মতো কাজ করত আমার ভেতরে মানসিক শক্তি প্রবাহিত হওয়ার জন্য! অবশ্য আমার মত অনেকের কাছে এত ভাল নাও লাগতে পারে! আসলে আমি এই অর্থডক্স হাসিদীক ইহুদীদের এলাকার সাথে পরিচিত কাজের কারনে ---তাদের লাইফস্টাইল, পোশাক পরিচ্ছদ, খাদ্যাভ্যাস, চেহারা আমাকে সবসময়ই কৌতুহলী করেছে, এবং তাদের এত অতি সাধারন জীবন যাপনও আমাকে বিশেষ মুগ্ধ করেছে! এত বর্ণ, এত র্ভীন্নতার জন্যই তো পৃথিবী এত সুন্দর, এত মায়াময়! এই সিরীজ দেখে আমার একটা রিয়েলাইজেশন হয়েছে যে, কত সামান্য উপকরণ (নেই কোন দামী সাজ পোষাক, নেই কোন অশ্লীলতা, নেই কোন ভায়োলেন্স!..যেগুলো দিয়ে ভর্তি আমাদের দেশের বর্তমানের টিভি ওয়েব সিরীজ, অথবা, হৈ চৈ টিভির প্রোগ্রাম গুলো) দিয়ে কত সুন্দর কাজ বানানো যায়! সুযোগ পেলে দেখতে পারেন SHTISEL!


আমার ছেলের গ্রাজুয়েশন..

সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জুলাই, ২০২০ রাত ২:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




