somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি থাপ্পর ও সিনেমা হল

১৩ ই জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ৯:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি প্রথম যেবার সিনেমা হলে গিয়েছিলাম, তখন নিতান্তই বাচ্চা মানুষ ছিলাম। একজন বাদে বাকি সবাই আমার চাইতে ছিল বড়। সিনেমা হলে গিয়ে সেবার খুব বেশী কিছু বুঝিনি, কারণ তখনও সিনেমা বুঝতামনা। তবে অনেক কষ্টে মনে করতে পেরেছি সিনেমার নাম, সেটা হল “আপন ঘর”। হলে যেয়ে এই সিনেমাটি দেখবার পর সিনেমা হল থেকে মোটামুটি চার বছরের ছুটি নিয়েছিলাম। ক্লাশ ফোরে থাকতে রাজশাহী থেকে মুন্সীগঞ্জ এলাম নানী বাড়িতে ঈদ করবার জন্য। অবশ্য তখন প্রতি বছরই ঈদ করবার জন্য নানী বাড়ি যেতাম। সেবার আমার মামাতো ভাইয়ের সাথে ঠিক হল ঈদের দিন হলে যেয়ে ছবি দেখব। কিন্তু বাড়িতে কেউ যেন না জানে সেজন্য খালা বাড়িতে যাবার উছিলা নেওয়া হল। ঈদের দিন সকাল বেলায় সময় যেন আর কাটেনা। চিন্তাও হচ্ছিল, দুজনের হাতেই টাকা নেই। মায়ের কাছ থেকে লুকিয়ে ঈদের বকশিশ সাথে নিলাম একটু বেশী। তারপর দে ছুট। সে কি উত্তেজনা, রাস্তায় খালি রিক্সা ছিলনা। তারপরেও থামিনি। দেড় কিলো পথ অতিক্রম করে চলে এলাম হলে, কিন্তু টিকিট কাটতে যেয়ে বাধল বিপত্তি। দুটো একই ক্যাটাগরীর টিকিট চাইলেও দুটো দুই রকম দেয়া হয়েছিল। মামাতো ভাই রিফাত আমার চাইতে একটু বড়, সে বুঝেছিল একটু পরে। কিন্তু তখন কিছুই করার ছিলনা। সিনেমা দেখতে হলে দুইজনকে দুই জায়গায় বসতে হবে। একা সিনেমা দেখতে হবে ভেবে ভয় পেয়ে গেলাম। রিফাত আমাকে বুঝিয়ে বলল, কিছু হবেনা। আমার হাতে ভাল ক্যাটাগরীর টিকিট ধরিয়ে দিয়ে সে চলে গেল খারাপ টিকিট নিয়ে এক্কেবারে পর্দার সামনের বেঞ্চিতে। আমি ছোট ছিলাম, চেয়ারে কিভাবে বসতে হয় জানতামনা। সিনেমা হলের চেয়ারে ব্যালেন্স করে বসতে হয়। আমি অসাবধানতা বশত বসতে গিয়ে মেঝেতে পরে গেলাম। পাশের একজনের সাহায্যে আবার উঠে বসেছিলাম। যথারীতি সিনেমা শুরু হল। নায়ক সালমান শাহের ‘কন্যাদান’। জমজমাট কাহিনী, বেশ মজা হচ্ছিল আমার। কিভাবে সময় কেটে গেছে বুঝতে পারিনি। মনের আনন্দে হাতে থাকা সিনেমার টিকিট ডলে মুচড়ে বিচ্ছিরি অবস্থায় নিয়ে এসেছিলাম। অঘটন ঘটল তখনই যখন টিকিট কালেক্টর এসে আমার হাতের টিকিটের এই অবস্থা দেখল। দিল কষে একটা থাপ্পর, আমার সব আনন্দ মাটি হয়ে গেল। তবে আমি কেঁদেছিলাম কিনা মনে নেই।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছবি ব্লগ -৭ বিনীত, অবনত বৃক্ষ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৯

পথে যেতে চোখে পড়লো নুয়ে পড়া বৃক্ষের শাখাগুলো। মনে হলো স্রষ্টার কাছে সে যেন নিবেদিত প্রার্থনায় অবনত। সব অহংকার, সব আত্মগরিমা, কৃতিত্বের ভার সে ধীরে ধীরে ঝরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি আর তুমিঃ ফানা থেকে বাকাঃ জীবনের উপলব্দি সবই তোমার

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:১১


ইশ্‌কে আমি ও তুমি’র ব্যবধান ক্ষীণ হওয়া, ফানা-তে অহংকারের বিলয়, এবং বাকা-তে প্রকৃত বোধ নিয়ে কর্মময় জগতে ফিরে সেবা, বিনয়, করুণা ও কৃতজ্ঞতার জীবন বেছে নেয়ার উপলব্দিতে লেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ঢাকা দক্ষিণের নতুন সমীকরণ: রাজনৈতিক খেলায় ইশরাক কোথায়?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২

রাজনীতির মাঠে অতি-উৎসাহ কখনো কখনো যে আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়াতে পারে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে, দলবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবের প্রতি বাংলার মানুষের কেন এত ক্ষোভ?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশটিতে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। সৌদি আরবই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক শ্রমবাজার। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×