somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পালোয়ান বধ

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ৮:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এক

নজর আলীর সুপুত্র হাবুল এখন মস্ত বড় পালোয়ান। এলাকার সকল উঠতি বয়সী ছেলেরা তাকে ভয় পেয়ে চলে। কারণ সে শুধু শুধুই এলাকার উঠতি বয়সী ছেলেদের জাপটে ধরে তার হাত থেকে মুক্ত হবার জন্য বলে। আর সে যখন তার বিশাল দুইখানা বপু দিয়ে বুকের সাথে কাউকে জাপটে ধরে সে সময় অপেক্ষাকৃত দুর্বল ছেলেদের জান যায় যায় অবস্থা। ছাড়া পাবার জন্য হাপিত্যেশ করে। আর হাবুইল্লা এই জিনিসটাতেই আনন্দ পায়। যেসব ছেলেদের শরীর দুর্বল তাদের মুখ দিয়ে তাকে দুলাভাই, খালু, ফুপা ইত্যাদি যার যে উপযুক্ত অবস্থা আছে সে নামে ডাকিয়ে নেয়।

তার পালোয়ান হওয়ার পেছনের ইতিহাস এলাকার সবারই জানা। শরীরের অবকাঠামো পরিবর্তন করতে সে ঢাকা শহরের এমন কোন নামি দামী জিমনেশিয়াম ও বডি বিল্ডার্সদের প্রশিক্ষক খুঁজে পাওয়া যাবেনা যেখানে সে ধর্না দেয়নি। নিজেকে হিন্দি ফ্লিমের নায়কদের মত দেখাবার জন্য যা যা দরকার তার সবই সে করেছে। কিন্তু সেরকম হওয়া কি সহজ কথা!

দুই
ফজর আলীর ছেলে মকবুল নিতান্তই রোগা শোকা একটা ছেলে। পালোয়ান হাবুইল্লার সমবয়সী। আবার স্কুলের সহপাঠীও ছিল। দুইজনে আপন চাচাতো ভাই হওয়াতে প্রায়ই তাদের মায়েরা নিজেদের ছেলেদের প্রশংসা করতে যেয়ে ঝগড়া বাধিয়ে দিতেন। বেশীরভাগ সময়তেই স্কুলের পুরনো বিভিন্ন কাহিনী নিয়ে তাদের ঝগড়া বাধত। দুই পরিবারের মাত্র দুটিই পুত্র। তাদের নিয়ে মায়েরা ঝগড়া বাধাবেনাই বা কেন!

মকবুল ইদানীং হাবুইল্লাকে এড়িয়ে চলছিল। কারণ পালোয়ান প্রায়ই তাকে জাপটে ধরতো। আর নিজের হেড়ে যাওয়া দিনগুলো স্মরণ করিয়ে দিয়ে তার যে জিত হয়েছিল সে কথা জোড় করে বলিয়ে নিত। মকবুল পালোয়ানের চাইতে একটু ভাল ছাত্র ছিল। তা নিয়েই তার মায়ের গর্ব। আর পালোয়ানের মা তার ছেলের পালোয়ান গিরি নিয়েই গর্বিত। মকবুল সিদ্ধান্ত নিলো যে ভাবেই হউক হাবুলকে একটা ফান্দে ফেলতে হবে। প্রতিদিনই একই রকম ভাবে অপদস্থ হতে তাকে আর ভাল লাগেনা। তাই অনেক চিন্তা ভাবনা করে সে পালোয়ানের কিছু দুর্বল দিক খুঁজে বের করল। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিলো হাবুলকে প্রেমে ফেলেই বধ করতে হবে।

তিন
হাবুলের শরীর গঠনের পিছনে সবচাইতে বড় উদ্দেশ্য ছিল মেয়েদের নজর কাড়া। মেইন রাস্তার ধারে যেখানে গলির মুখ, সেখানেই তাকে বিভিন্ন ছেলেদের সাথে আড্ডা মারতে দেখা যেত। সে অনেক চেষ্টা করতো মেয়েদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে। কিন্তু পারতো কৈ? আর এই সুযোগটাই কাজে লাগালো মকবুল। নিজ দূর সম্পর্কীয় এক খালাতো বোনের সাথে তার পরিচয় করিয়ে দিল। মেয়েটি সুন্দরী ছিল বটে, ছেলে পটানোটাও সে খুব ভাল জানত। একদিন মকবুল ও তার খালাতো বোন শান্তা হাবুলের সাথে কথা বলছিল। পালোয়ান নানা ভাবেই শান্তার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছিল। শান্তা পূর্ব পরিকল্পনা মতই অতি সুন্দর করে বলে দিল, “ভাইয়া আপকো বহুত কিউট লাগতা হ্যাঁয়”।

হিন্দি ভাষায় এমন ডায়লগ শুনে হাবুলের প্রাণ যায় যায় অবস্থা। সারা রাত সে ঘুমুতে পারল না। তার কাছে মনে হল স্বয়ং ঐচ্ছরিয়া তাকে অফার করেছে। পরদিন সকাল থেকেই রাতারাতি হাবুলের ভাব সাব পরিবর্তন হয়ে গেল। এখনো সে পালোয়ানই আছে সবার কাছে। কিন্তু এখন সে দারোয়ানও হয়েছে, সেটা হচ্ছে সম্ভাব্য প্রেমিকার দারোয়ান। সকাল থেকেই গলির মুখ থেকে চেয়ে থাকতে শুরু করল ঠিক শান্তাদের বাড়ির বরাবর। মকবুল ব্যপারটা একদিনেই আঁচ করতে পারল।

প্রেম ঘটিত কাহিনী থেকেই মকবুল হাবুলের চরম শত্রু থেকে পরম বন্ধু হয়ে গেল। সে কি খাতির! শান্তাকে দেখলে সেটা আরও বেড়ে যেত। মাঝে মাঝে শান্তাকে দেখে সে ইচ্ছে করেই শরীরের গেঞ্জিটা খুলে ফেলত। তারপর পাশের কাউকে বলত, “দোস্ত দেখিতো তোর গেঞ্জিটায় কেমন মানায় আমাকে?” একদিন তো শুঁটকো এক বন্ধুর গেঞ্জি পড়তে গিয়ে তারটা ফাঁসিয়েই দিল। তাতেও হাবুল দমলনা। শান্তার হাসি মুখ তার দেখা চাইই চাই।

চার

নজর আলীর সুপুত্র হাবুল এখনও মস্ত বড় পালোয়ান। কিন্তু সে এখন দারোয়ানও বটে। সেটা মকবুলের খালতো বোন শান্তার। ইদানীং তাকে বেশ উত্তেজিত দেখা যেতে লাগল। কারণ শান্তার বিয়ের প্রস্তাব আসা শুরু হয়েছে। হাবুল মনঃস্থির করেছে যেভাবেই হউক সেটা ঠেকাবে। আর এ কাজ করতে গিয়ে তার শরীর চর্চায় ব্যঘাত ঘটল। মাত্রাতিরিক্ত চোখের ব্যয়াম করতে গিয়ে ফিটনেসের বারোটা বাজিয়ে দিল। হাবুল পালোনের মস্ত বড় শরীরটা ঠিকই থাকল, কিন্তু একটা পরিবর্তন সবাই আবিষ্কার করলো। সেটা হল, হাবুল পালোয়ানের শরীরের মাঝ বরাবর বেশ বড়সড় একটা ‘ভ-দ্বীপ’।

০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×