somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রম্য (সত্য) গল্পঃ ফার্মগেট

১৮ ই মার্চ, ২০১৭ রাত ১২:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ঢাকায় আসলে একটা জায়গায়ই আছে। আর সেটা হলো ফার্মগেট। আর এই ফার্মগেট একদা এই লেখকের জান এবং মান বাঁচিয়েছিল।

বলেই ফেলি ঘটনাটা তাহলে।

এই ফার্মগেট ম্যানিয়ার উৎপত্তি আমার হার ম্যাজেস্টির মাধ্যমে। গাড়িতে হোক বা বাসে, সিএনজি অথবা রিকশা - যেটাতেই তিনি চলমান থাকেন আর পাশে যদি আমি থাকি, প্রশ্নটা এরকম হবেই - "এটা কোথায়? ফার্মগেট?" উত্তরা হলেও ফার্মগেট, যাত্রাবাড়ি হলেও ফার্মগেট, পল্লবী হলেও ফার্মগেট। আর ফার্মগেট হলে....!!!

কিন্তু তার আগে জানতে হবে 'ফার্মগেট সিন্ড্রোমের' উৎপত্তি বা বুৎপত্তি - যা-ই বলেন।

দূর অতীতে কোন এক সান্ধ্যকালীন ভ্রমনে ম্যাডাম গভীর নিদ্রায় ছিলেন। মাথা আমারই কাঁধে। যখন ফার্মগেট পার হচ্ছি, কোন কারনে সেই সময় ধড়মড় করে তিনি উঠে পড়েছিলেন। সবাই জানেন, আচমকা ঘুম ভাঙলে নিউরনে সামান্য শর্ট-সার্কিট হয়ে যায়। বাড়িকে মনে হয় সিনেমাহল আর স্বামীকে দুলাভাই। আমার হার ম্যাজেস্টিরও তাই হয়ে গেল। আর তখন থেকেই এই ফার্মগেট রোগের শুরু। যেখানেই যায়, আচমকা প্রশ্ন - "এটা কোথায়? ফার্মগেট?"

যাই হোক, গত সপ্তাহের ঘটনা বলি।

দুপুরে অফিসে ব্যাপক ব্যস্ত। মানে ব্যস্ততার ভাব নিতে ব্যস্ত। এমন সময় ফোন। কলার নেম - LOVE। হার হাইনেসের নাম এভাবেই সেভ করা।

প্রশ্ন ছিটকে এলো - "তুমি কোথায়?" আমি শুনলাম যেন হুমকিঃ "এই শালা, তুই কই রে?"

"কোথায় মানে? এই সময় আমি কোথায় থাকি? অফিসে!" - কড়া গলায় উত্তর দিলাম। আসলে ঝাড়ির জোশে ছিলাম তো, সেইটাই বেরিয়ে গেছে। অফেন্স ইজ দ্য বেস্ট ডিফেন্স।

"জলদি নিচে নামো। আমি তোমার অফিসের সামনে।" আবার হুমকির সুর। যেন বলছেঃ নিচে আয় বজ্জাত। তোকে দেখাচ্ছি।

আমি ফাপরে পড়লাম। কারন এইখানে একটু প্যাঁচ আছে।

বর্তমানে আমার কর্মক্ষেত্র তিনটা বিল্ডিং ছড়ানো। যেটাতেই থাকি না কেন, টেকনিক্যালি আমি অফিসেই থাকি। কিন্তু উনি চেনেন শুধু আমার হেড অফিস। এইতো ভ্যাজালে পড়লাম। এখন মিনিমাম ১৫ মিনিট লাগবে হেড অফিসে পৌঁছাতে। এই টাইম গ্যাপ ক্যামনে সামলাই?

হঠাৎ মনে পড়ল 'ফার্মগেট-সিন্ড্রোমের' কথা। ইউরেকা...!!!

গলাটা যথাসম্ভব মিহি করে জিজ্ঞেস করলাম, "তুমি এই মুহূর্তে ঠিক কোথায়, বলতো?"

"আমি ওই যে, একটা বড় রাস্তায়। এখন কি ইউটার্ন নেব না কি, বুঝতে পারছি না।" - ওপাশের উত্তর।

ইউরেকা..! আবার ইউরেকা...!!

আমি জানতাম, এই 'ফার্মগেট'ই একদিন আমার প্রাণ বাঁচাবে। বুঝলাম, এইবার ওর সাথে 'ফার্মগেট' (পড়ুন পথনির্দেশনা) চেনাবার কেউ নেই। তাই ফার্মগেটও নেই।

গলার স্বর হালকা চড়ালাম। "কিসের ইউটার্ন? তুমি না বললে আমার অফিসের সামনে। তাহলে ডান দিকে বায়তুল মোকাররম দেখতে পাচ্ছ?"

এইবার উদ্বিঘ্ন স্বরঃ "কই যে আছি, বুঝতেছি না তো। আমি প্রেসক্লাবের গলিতে। এখন কি শাপলা চত্ত্বর থেকে ইউটার্ন নেব?"

এইবার আমার মাথা পুরাই গিট্টু লেগে গেল। কোথায় প্রেসক্লাব, আর কোথায় শাপলা চত্ত্বর..! না কি কদম ফোয়ারাকে ফার্মগেট-শকে শাপলা ফুল দেখছে। হায় হায়..! গেল বুঝি আজ বউ হারিয়ে।

লিফটের তোয়াক্কা না করে ততক্ষনে এক দৌড়ে রাস্তায় নেমে এসেছি। ফোন কানে। জিজ্ঞেস করলাম - "তোমার ডানে কি দেখছ? আর বামে কি, আমাকে বল।"

"দাঁড়াও দেখছি।" কিছুক্ষন গ্যাপ। তারপর কানে এলো - "ডানে হলো ৩৫ তোপখানা। আর বামে বিজেএমই ভবন। আর তো কিছু দেখি না।"

হায় খোদা...!

বিজিএমই ভবন তো সেই বেগুনবাড়ি খালে। আর তোপখানা এখানে। স্পেস-টাইমে মোচড় খেয়ে গেল না কি? না কি ওয়র্ম-হোল?? প্রভু হে...! বউ বোধহয় এইবার প্যারালাল ইউনিভার্সে চলে গেল। যেখানে বিজিএমই ভবন তোপখানায় থাকে। পাশে থাকে প্রেসক্লাব আর গায়ে গায়ে শাপলা চত্ত্বর।

বুঝতে আর বাকি নেই - এ সেই ফার্মগেট সিন্ড্রোম।

এইবার বাজখাঁই গলায় চেঁচিয়ে উঠলাম। "কি বল এই সব? কোত্থেকে রওনা দিয়েছ, সেইটা আগে বল। এইখানে বিজিএমই ভবন পেলে কোথায়?"

যাই হোক, ঘটনা আরও অনেকক্ষন চলেছিল। সেটা বলে আর ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটাবো না।

আসল কথা হলো, হার হাইনেস এতক্ষন আজাদ প্রোডাক্টস আর হাউজ বিল্ডিং এর সামনে ছিলেন। ওইটার নাম কি যেন বিজেইসি টাইপের। শেষ পর্যন্ত তাঁরা যখন আমার আসল অফিসের সামনে, তার অনেক আগেই আমি সেখানে দন্ডায়মান।

'ফার্মগেট' জায়গাটা আসলে খারাপ না, কি বলেন?
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই মার্চ, ২০১৭ রাত ১২:৫৯
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রাম্পের উপর ওভার ট্রাম্প!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৫৫

ট্রাম্পের উপর ওভার ট্রাম্প!

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন একটি সমীকরণ তৈরি হয়েছ- সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি। ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে একটি সদস্য রাষ্ট্রের ওপর সশস্ত্র হামলাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×