هُوَ اللَّهُ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ ۖ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَىٰ ۚ يُسَبِّحُ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ [٥٩:٢٤]
He is Allah, the Creator, the Evolver, the Bestower of Forms (or Colours). To Him belong the Most Beautiful Names: whatever is in the heavens and on earth, doth declare His Praises and Glory: and He is the Exalted in Might, the Wise.
-Sura Hashor:24
তিনিই আল্লাহ তা’আলা, স্রষ্টা, উদ্ভাবক, রূপদাতা, উত্তম নাম সমূহ তাঁরই। নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, সবই তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে। তিনি পরাক্রান্ত প্রজ্ঞাময়।
-সূরা হাশরঃ২৪
(উপরের জিনিসটা আজ সকালে ফেইসবুকে পেলাম। দৈনিক কোরআন নামক একটি গ্রুপের পোস্ট।)
আমি নিশ্চয় কখনো বলবো না, ‘তিনিই অমুক যিনি...।’ আল্লাহ এত শক্তিশালি-ক্ষমতাধর হওয়ার পরও কেন একজন তৃতীয়পক্ষকে নিয়োগ দিতে হয়েছে তার গুণগান গাওয়ার জন্য! নাকি এটা একজন তৃতীয়পক্ষের মস্তিস্কজাত ধারণা-উপরে একজন তাকে এইসব পাঠাচ্ছে? আর কথার মাঝে আরবিতে কোট করার কোন মানে হয় না। আরবি জাস্ট একটা ভাষা, আরিবতে চটিও লেখা যায়। উপরওয়ালা এতই শক্তিশালী যে তাকে আরবিতে অনুবাদ করে দেওয়ার দরকার হওয়ার কথা না। এমনকি তিনি ইহুদিদের ভাষাতে কোরআন অনুবাদ করা হলেও বুঝার কথা, কিংবা এখনো যারা বন্যমানুষ(আদিম) রয়ে গেছে তাদের ভাষায়। সম্ভবত আল্লাহ এখন আর দুনিয়াতে ভিজিটর পাঠান না। আফ্রিকার ডিপ কালাহারি জাতীয় এলাকায় এখনো যারা আছে তাদের কাছে আল্লাহর ভিজিটরের আগে ডিসকভারীরর লোক পৌঁছে গেছে। হয়তো ওদেরকেই তিনি পাঠিয়েছেন! তার লীলা আবার বুঝা বড় দায়। আল্লাহ যেহেতু অসম্ভব শক্তিশালী-অসীম ক্ষমতাধর, তার উচিত ছিল নশ্বর কাউকে তার মুখপাত্র নিয়োগ না দেওয়া। বরং তিনি যেহেতু সবখানে আছেন, সবার সঙ্গেই থাকার ক্ষমতা তার আছে সেহেতু তাঁর নিজের কাজটি তার নিজেরই করা উচিত ছিল। অথবা তিনি কী মানবজাতিকে সুপরামর্শ দিতে দিতে ক্লান্ত যে শেষ পর্যন্ত মুখপাত্র নিয়োগ দেওয়ার ব্যাপারটি এখন আর ভালো লাগছে না? কারণ এখন তার প্রেরিত জীবন ব্যবস্থা নিয়ে টানটানি সবচেয়ে বেশি হচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা তার অনুসারীরাই তার কোরআনকে যার যেমনে সুবিধা হেমনে কাজে লাগাচ্ছে। জিবরাইল নামক সেই বার্তাবাহকের এখন কাজ কী? তার কী চাকরি আছে? দীর্ঘদিন বেকার রেখে একজনকে ভাতা(তার আনুগত্য, বেহেশে্তর আশা) দেওয়ার কী কোন মানে হয়? কারণ তার বুঝা উচিত ছিল একসময় মানুষ আরো উন্নত চিন্তা করবে, আলোচনা করবে, সমালোচনা করবে। এতে যেকোনদিন আসল সত্য বেড়িয়ে আসবে। এইসব মধ্যযুগীয় প্রচারব্যবস্থা ও জীবনব্যবস্থা আধুনিকযুগে আর মানুষ মেনে চলবে না। জোর করে ধর্মীয় জীবনব্যবস্থা এখনকার সময় খাটানোর চেষ্টা না করে এটাকে এডিট করা যায় কিনা সেজন্য বরং উপরওয়ালাদের( আমি সব ধর্মের উপরওয়ালাদের কথা বলছি একসঙ্গে) কাছে আরজি পাঠানো যেতে পারে। আমার একটা প্রশ্ন। ফেরেস্তা নামক প্রাণীটি (ঠিক প্রাণী কিনা জানিনা) মানুষের চেয়ে সবদিক দিয়ে স্মার্ট, উন্নত কিন্তু তাদের বানানো হয়েছে মানুষের আনুগত্য করার জন্য? উপরওয়ালার লীলা বুঝা বড় দায়! নিম্নস্তরের প্রাণীর সেবার জন্য উন্নত প্রাণীর নিয়োগ! ফেরেস্তাদের ক্ষমতা ও দক্ষতার তুলনায় মানুষ অবশ্যই নিম্নস্তরের।
আর অনেকগুলো ফেরেস্তার এখন কোন কাজ নাই। তারা কী করছে জানতে খুব ইচ্ছে করে? পৃথিবী ধ্বংসের দিন যে ফেরেস্তা সিঙ্গায় ফুঁ (তার ফুঁ-এর কী জোর, গোটা সুর্যও নিবে যাবে। হুজুররা যে কিছু হলেই ফু দেয়ার চেষ্টা করেন সেটা এখান থেকে মনে হয় ইনস্পায়ারড্) দিবে তাকে এত আগে বানানেরা কী দরকার ছিল। মিসম্যানেজমেন্ট! বিধর্মী-নাস্তিকদের কী দুই কাঁধেই ফেরেস্তা আছে নাকি দুজনই বাম কাঁধে? দুজন যদি দুই কাঁধে থাকেন তার মানে বিধর্মী-নাস্তিক হলেও তাদের এখনো ভালো কাজ করার পসিবিলিটি ফুরিয়ে যায়নি! যে কারণেই হোক মানুষ হত্যা করা হলে কোন কাঁধের ফেরেস্তা নোট নিবেন? আর আল্লাহ্'র আদেশ অমান্যকারীর ইতিহাস কিন্তু মানুষের আগে থেকেই। ফেরেস্তাকুলের সরদার স্বয়ং আল্লাহ'র আদেশ অমান্য করেছিল। তার মানে কী এই দাঁড়ায় আল্লাহ'র সৃষ্টির উপর তার নিজেরই কন্ট্রোল নাই? তার পরিণতির ব্যাপারটাতেও আল্লাহকে ছাড় দিতে দেখা গেছে। তিনি সেই ফেরেস্তাকেই পৃথিবীতে তার প্রতিদ্বন্দীরূপে শয়তান বানিয়ে পাঠিয়েছেন! আসলে এই শয়তানের উপস্থিতি ছাড় ধর্ম বেশ অসহায়। ধর্ম টিকিয়ে রাখার জন্যই শয়তানের সৃষ্টি আবশ্যক ছিল। যার শয়তানী মূলত শুরু হয়েছিল স্বয়ং আল্লাহ'র সঙ্গেই! তখন একটু মানতে দ্বিধা হয় আল্লাহই একমাত্র পরম ক্ষমতাধর কিনা! কারণ সেদিন ওই ফেরেস্তার পরিণতি ভিন্ন হওয়া উচিত ছিল। এই ফেরেস্তাগুলোকে মাঝে মাঝে রোবটিক মনে হয়। পূর্বনির্ধারিত কাজ ছাড়া এরা কিছু করতে ভাবতে পারে না। হয়তো এই জনেই এরা মানুষের সেবায় নিয়োজিত। কিন্তু তাই যদি হয় একজন ফেরেস্তা আবার নিজ থেকে শয়তান হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছিল, শয়তানী ক্ষমতার সেরা হওয়ার। তখন আল্লাহ তার সফ্টওয়ারটা পাল্টে দিলেই আজ দুনিয়াটা কত সুন্দর হতো। তার মানে কী আল্লাহ নিজেই চান নি পৃথিবী সুন্দর হোক? তাহলে পূর্নাঙ্গ জীবন বিধান পাঠানোর মানে কী? নিজের সৃষ্ট শয়তানের সঙ্গে দাবা খেলা?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


