আগের ছয়বারের মতো এবারও বাংলালিংক থেকে মুক্তি পেলো বাংলালিংক এর নাচে-গানে ভরপুর একটি বিজ্ঞাপন। বাংলালিংক এর এই আইটেম বিজ্ঞাপনটিতে সবসময় চেষ্টা করা হয় নতুন কিছু করার। নতুন কোন গল্প বলার এবং অবশ্যই সেটা নাচ ও গানের মাধ্যমে। এই মুহূর্তে দেশের দুজন সেরা সুন্দরী (তাই-ই ভাবা হয়) মডেল কন্যা শখ ও সারিকা এবং দুজন হ্যান্ডসাম তরুণ নিলয় ও ইমরানকে নিয়ে মূল গল্পটা বলার চেষ্টা করা হয়। প্রতিবারই একটা দেশীয় কালচারকে ধরে একটা সুন্দর জিঙ্গেল ও নাচের মাধ্যমে পরিবেশন করা হয়। তাতে একটা ফেস্টিভ মুড থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। শুরুতেই আকাশে মেঘ ডাকে। একটু পর শুরু হয় ঝুম বৃষ্টি। তাতে শখ বর্ষার আহ্বান নিয়ে নাচ ও গান শুরু করেন। আমার ব্যাক্তিগতভাবে শখ-এর শুরুর পায়ের কাজটা ভালোই লেগেছে। মুখে সুন্দর হাসিও ছিল। এরপর সারিকার চোখ বড় বড় করে জিঙ্গেলের পরের অংশের সঙ্গের অভিনয়টাও বিজ্ঞাপনী দৃষ্টিকোণ থেকে খারাপ লাগেনি। এছাড়া পুরো বিজ্ঞাপনে নাচ-গান খারাপ না। আগেরগুলোর মতই। বিষয় হচ্ছে আগেরগুলোকে ছাড়াতে পেরেছে কিনা। আমাদের দেশে মানুষের মধ্যে সমালোচনার ক্ষেত্রে একটা বড় সমস্যা হলো সমালোচনা করার জন্য সমালোচনা করা। অন্ধভাবে সমালোচনা করা। ভালোও যে কিছু জিনিস থাকে সেগুলো বেমালুম ভুলে যাওয়া। কোনকিছুর সমালোচনার সময় তার ভালো দিকগুলোও বলা উচিত সবার আগে। এতবড় একটা টিম নিয়ে কাজ করা কতটা দুরুহ তা কেউ কাজে নামলে তারপর বুঝা যাবে। যে লোকটা এত কষ্ট করে একটা কাজ করলো তার প্রতি অবিচার হয় যদি অন্ধভাবে সমালোচনা করা হয়। অন্য কারো কথা জানিনা বিজ্ঞাপনটি আমার কাছে সব মিলিয়ে খারাপ লাগেনি। যে উদ্দেশ্যে বিজ্ঞাপনটি করা সে উদ্দেশ্য সফল। আমি জানি আমি তেমন কেউ না। কিন্তু একজন দর্শক হিসেবে নিশ্চয় আমার এইটুকু বলার অধিকার আছে। কিন্তু আমার কিছু অবজারভেশন আছে, সেগুলো আমার ভুলও হতে পারে। যাই হোক, আমার প্রশ্ন হচ্ছে এখন শীত চলে এসেছে। সেখানে বিজ্ঞাপনে বর্ষার আহ্বানটা কি একটু বেমানান লাগছে না? প্রথমবার আমি যখন বিজ্ঞাপনটি দেখি সেখানে শখ-সারিকাকে ভিজতে দেখেই আমার শীত শীত করছিল। শীতের শুরুতে আমাদের দেশে আরেকটি কালচারাল ফেস্টিভাল প্রচলিত (যদিও এখন প্রায়ই বিলুপ্তির পথে।) সেটা হলো নবান্ন উৎসব। শীতের ঠিক আগে আগে ফসল উঠে ঘরে। ঠিক এই সময়টাতে। আমার মনে হয় বর্ষা নিয়ে গল্পটা না করে শীতের আগের এই নবান্নের উপর ভিত্তি করে কাজটা করলে হয়তো এই সমস্যাটা হতো না। বরং সময় ও বাস্তবতার সঙ্গে বেশি মানানসই হতো। আর যেটা বানানো হয়েছে সেটা আমার মনে হয় আগামীবার বর্ষার আগে টিভিতে চালালে খুব ভালো জমতো। কারণ দর্শক যেই হোক, এই ছোটখাট ব্যাপারগুলো বুঝার জন্য খুব বেশি জ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন হয়না। এটা এমনি এমনি চলে আসবে। পেট ভরা অবস্তায় যেমন কাউকে খেতে দেখলে বমি বমি লাগে, তেমনি শীতকালে কাউকে ভিজতে দেখলে এই শীত শীত অস্বস্তি লাগবেই। এই অস্বস্তিটা দর্শক অটোমেটিক টের পাবেই। সেটা হয়তো তারা বুঝিয়ে বলতে পারবে না কিন্তু অস্বস্তিটা ঠিক ঠিক পাবেই।
এবার বিজ্ঞাপনের ভিতরের দুটি ছোট ছোট কাজ নিয়ে আমার একটু সমস্যা হয়েছে দেখতে-সেগুলো নিয়ে বলব। একটা হচ্ছে ইমরান যখন বলটা হেড করে এবং বলটা গিয়ে একজন পথচারী ভদ্রলোকের গায়ে (বুকে) লাগে তখন জিঙ্গেলের মধ্যে একটা পজ আছে। পথচারী লোকটা অবাক হয়ে তাকায়। পজটা ভালোই লাগে। কিন্তু পরক্ষণেই আবার যখন সবাই নাচা শুরু করে গানের তালে তালে তখন সমস্যা হয়। কারণ একজনের গায়ে অনিচ্ছাকৃত বল লাগলো, লোকটা অবাক হয়ে তাকালো কিন্তু এর কোন সমাধান না দিয়েই আবার সবাই গানে মেতে উঠলো এটা কীভাবে সম্ভব! যদি এরপর সেই ভদ্রলোকও বলটা নিয়ে হেড দিতেন অথবা লাথি দিয়ে ফিরিয়ে দিতেন অথবা কিছু একটা করতেন অর্থাৎ তিনিও এদেরে নাচের সঙ্গে একাত্ত হতেন তা হলে এতটা অসঙ্গতিপূর্ণ হয়তো মনে হতো না। এইরকম আরেকটা পজ আছে শেষদিকে। ছোট্ট একটা মেয়ের হাত থেকে ফুল নিয়ে পুলিশের সামনে পরার পর। এবং এখানেও সমস্যা আছে কিন্তু এর কোন সমাধান ছাড়াই আবার সবাই মিলে নাচ-গান! দেখতে একটু খারাপ লাগে।
আমি গান অতটা গভীরভাবে ভালো বুঝি না। কী সুর, কী উৎস এইসব খুঁজিও না। কানে শুনে যদি মনে ধরে তাতেই আমি খুশি। সুরের ব্যাপারে আমি গ্রামার খুঁজতে যাই না, কারণ আমি গানের গ্রামারই বুঝি না। মনে ধরাটাই আমার কাছে মূল বিষয়। সেদিক দিয়ে একটা বিজ্ঞাপনের জিঙ্গেল হিসেবে মিউজিকটা খারাপ না।( বাংলালিংক দেশের টার্গেট দর্শকের কথা চিন্তা করতে হবে।) এবং আমি নিশ্চিত তাদের কথা চিন্তা করলে আমার আগের প্রশ্নগুলোও অর্থহীন। তারা হয়তো এতটা খেয়াল করবে না। আগের প্রশ্নগুলো আমার আসলে এর সাথে জড়িত ছিলেন তাদের কাছে। আমার ভুল হলে ধরিয়ে দিবেন। ভুল হতেই পারে, মানুষ মাত্রই ভুল। (কিন্তু এটা বোধহয় টিমওয়ার্কের ক্ষেত্রে খাটে না। কারণ টিমওয়ার্কটা করাই হয় যাতে ভুলগুলো না হয়।)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


