somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নারী জাগরন এবং বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে বর্তমান অবস্থা

০৮ ই এপ্রিল, ২০১৩ দুপুর ১:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় পুরুষ নারীর উপর
প্রতিষ্ঠা করেছে তার আধিপত্য। কিন্তু সুযোগ পেলে পুরুষের
মত নারীরাও পারে তাদের সাফল্যগাঁথা রচনা করতে।
ইতিহাসেই রয়েছে তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ৬৯৫
খ্রিষ্টাব্দে উত্তর আফ্রিকার জেনেতা বার্বার সম্প্রদায়
কাহিনা নামের এক নারীর নামে সংঘবদ্ধ হয়ে হাসান ইবনে নামান এর অধীনস্থ বাহিনীকে পর্যদুস্থ করেছিল।
এক্ষেত্রে ফ্রান্সের কিংবদন্তি নারী জোয়ান অব আর্কের
কথাও স্মরণীয়। এ উপমহাদেশেও রয়েছে নারীদের বহু
সাফল্যগাঁথা। সুলতানা রাজিয়ার নাম
এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য। বাবার মৃত্যুর পর ১২৩৬ সালে প্রবল
আপত্তির মুখেও দিল্লীর সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন রাজিয়া। বাংলায় কৃষক বিদ্রেহের কিংবদন্তি নায়িকা হয়ে আছেন
রংপুরের দেবী চৌধুরাণী। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের
বিপ্লবী নেত্রী ইলা মিত্রের সাহসিকতা আজো আমাদের
অনুপ্রাণিত করে। সেই অতীতের যুদ্ধ বিগ্রহ থেকে আজকের
মহাকাশ জয়- সবখানেই রয়েছে নারীর পদচিহ্ন। শুধু তাই নয়
যোগ্যতাকে তুলে ধরার পাশাপাশি নারী চালিয়ে যাচ্ছে তার অধিকার অর্জনের
দীর্ঘ সংগ্রাম। আঠারো শতকের শেষভাগে যখন পূরুষেরা দেশে দেশে বিপ্লব
করে যাচ্ছে তেত্রিশ বছরের এক তরুণী তখন ঘোষণা করেন
নারীমুক্তির ইশতেহার। মার্কিন এই তরুণীর নাম
মেরি ওলস্টোনক্র্যাফট। ১৭৯২ সালে বেরোয় তার
ভিন্ডিকেশন অফ দি রাইটস অফ ওম্যান যাকে নারীবাদের
প্রথম মহাইশতেহার মনে করা হয়। পিতৃতন্ত্র নানা প্রথা আর কুসংস্কারের জন্ম দিয়ে নারীর
উপর চালিয়েছে অকথ্য অত্যাচার। এমনকি কখনও প্রভুর
ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে কেড়ে নিয়েছে বেঁচে থাকার
অধিকার। ভারতীয় উপমহাদেশের সহমরণ ও সতীদাহ
প্রথা নারী নির্যাতনের এমনই দৃষ্টান্ত। এই কুসংস্কারের
বিরুদ্ধে সোচ্চার হন রামমোহন রায়। এর ধারাবাহিকতায় ১৮২৯ সালে লর্ড বেন্টিংক সতীদাহ নিষেধ
বিধিতে স্বাক্ষর করেন। একইভাবে ঈশ্বরচন্দ্র
বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টায় ১৮৫৬ সালের ২৬ জুলাই
ভারতে বিধবা বিবাহ আইন প্রবর্তিত হয়। আমেরিকানদেরও আছে নারী অধিকার আন্দোলনের দীর্ঘ
ইতিহাস। ১৮৩৭ এ আমেরিকায় প্রথম
দাসপ্রথাবিরোধী নারীসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
দাসপ্রথা রহিতকরণ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই মার্কিন
নারীরা রাজনীতিতে প্রবেশ করে। ১৮৩৮ সালে দুই মার্কিন
কৃষ্ণাঙ্গ বোন গ্রিম্কে কৃতদাস ও নারী মুক্তিকে অভিন্ন করে দেখে সমস্যা সমাধানের দাবী জানান। নারীর
ভোটাধিকার অর্জনে ১৮৪৮ সালের ১৯ ও ২০ জুলাই
নিউইয়র্কের সেনেকা ফলস এ প্রথম নারী অধিকার সম্মেলন
অনুষ্ঠিত হয়। বহু সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯২০ সালের ২৬
আগস্ট মার্কিন কংগ্রেস নারী ভোটাধিকার সংশোধনী বিল
পাস হয়। ভারতীয় উপমহাদেশে যখন সোচ্চার হন রামমোহন রায়
সেসময় সমাজতান্ত্রিক দার্শনিক উইলিয়াম টমসন
ইউরোপে নারীদের জেগে ওঠার ডাক দেন।
যুক্তরাজ্যে নারী ভোটাধিকার আন্দোলন তীব্র
হয়ে ওঠে ১৯১৩ সালে। এ বছরই নারী আন্দোলনে প্রথম শহীদ
হন এমিলি ওয়াইল্ডিং ডেভিসন। এই পথ ধরেই ১৯১৮ সালে যুক্তরাজ্যে ত্রিশোর্ধ নারীরা ভোটাধিকার পান।
১৯২৮ এ তাদের ভোটাধিকারের বয়স কমিয়ে পুরুষের সমান ২১
বছর করা হয়। ভারতে ১৯২১ সালে মাদ্রাজের নারীরা প্রথম
ভোটাধিকার লাভ করে। ১৯২৯ এর মধ্যে সব প্রদেশে এই
অধিকার প্রতিষ্ঠা পায় । বাংলার নারীরা ভোটধিকার পায়
১৯২৫ সালে। ভারতে নারীদের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতাটি ছিল
শিক্ষার অধিকার। ১৮৪৯ সালের মে মাসে জে.ই.ডি. বেথুন
কলকাতায় স্থাপন করেন ভিক্টোরিয়া গার্লস স্কুল। ১৮৮৩
সালে ভারতীয় নারীদের মধ্যে প্রথম বি এ পাস করেন
কাদম্বিনী বসু। ১৮৮৪ প্রথম এম এ পাস করেন চন্দ্রমুখী বসু।
তবে এক্ষেত্রে স্বভাবতই পিছিয়ে ছিল মুসলমান নারীরা। বাঙ্গালি মুসলমান নারীদের মধ্যে প্রথম এম এ পাস করেন
ফজিলাতুন্নেসা ১৯২৭ সালে। তবে বাংলায় নারী অধিকার
আর শিক্ষার কথা বললে যার নাম
আপনা আপনি চলে আসে তিনি এদেশে নারী জাগরণের অগ্রদূত
বেগম রোকেয়া। ১৯০৪ সালে প্রকাশিত হয় বেগম রোকেয়ার
বিপ্লবী প্রবন্ধ ‘স্ত্রী জাতির অবনতি’। ১৯১১ এর ১৬ মার্চে রোকেয়ার উদ্যোগে কলকাতায় সাখাওয়াৎ
মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। নারী আজ প্রমাণ করেছে কোন কাজই তার কাছে অসাধ্য নয়।
নারী তার কর্ম দিয়ে এমনকি জয় করে নিয়েছে বিশ্ববাসীর
হৃদয়। মাদার তেরেসা আজ দেশ জাতির উর্দ্ধে সবার কাছেই
শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার প্রতিমূর্তি। তবু অধিকার আর
মর্যাদার জন্য নারীর যে দীর্ঘ সংগ্রাম তা আজো অসমাপ্ত। বিশ্বের নারী সরকারপ্রধান শ্রীমাভো বন্দরনায়েক

(শ্রীলঙ্কা, প্রধানমন্ত্রী, ১৯৬০),
ইন্দিরা গান্ধী (ভারত, প্রধানমন্ত্রী, ১৯৬৬), গোল্ড মেয়ার
(ইসরায়েল, প্রধানমন্ত্রী, ১৯৬৯), ইসাবেলা পেরন
(আর্জেন্টিনা, রাষ্ট্রপতি, ১৯৭৪), মার্গারেট থ্যাচার
(যুক্তরাজ্য, প্রধানমন্ত্রী, ১৯৭৯), কোরাজান
অ্যাকিনো (রাষ্ট্রপতি, ফিলিপাইনস, ১৯৮৬), বেনজির ভুট্টো (পাকিস্তান, প্রধানমন্ত্রী, ১৯৮৮),
খালেদা জিয়া (বাংলাদেশ, প্রধানমন্ত্রী, ১৯৯১), শেখ
হাসিনা (বাংলাদেশ, প্রধানমন্ত্রী, ১৯৯৬)।
* প্রথমবার দায়িত্ব গ্রহণের সাল উল্লেখিত।


এতক্ষন যা বললাম তা নারী জাগরনের সাফল্যগাথা ইতিহাস আর এই উপমহাদেশেরই একটি দেশ বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট খুবই নাজুক । নারী জাগরনের সব সাফল্যকে ধুলিসাৎ করার জন্য একদল উগ্রপন্থি আজ উঠেপড়ে লেগেছে । সেই মৌলভিবাজারের লীলা নাগ, বেগম রোকেয়া, সুফিয়া কামাল রা আজ হয়তো বেচে নেই কিন্তু তাদের মত হাজারো রোকেয়া, হাজারো লীলা নাগ, হাজারো সুফিয়া কামাল এদেশের মাটিতে বেচে আছে । তাদের অধিকারকে তারা নিস্চই ভূলুন্ঠিত হতে দিবে না । নারী জাগরনের সাফল্য, নারী জাগরনের ইতিহাসকে তারা আকড়ে ধরে রাখবে ।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে আমি কয়েকটা জিনিস বুঝতে পারলাম।

প্রথমত,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×