somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী;প্রতিবন্ধিতা কি আমার অপরাধনাকি অভিশাপ?

১৭ ই জানুয়ারি, ২০১৪ দুপুর ১:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী,
সম্পূর্ণ
যোগ্যতা থাকা সত্বেও নারায়ণগঞ্জ তানজিম
হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ
আমাকে ভর্তি করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
অযোগ্যতার কারণ, আমি একজন শারীরিক
প্রতিবন্ধী! এক বুক হতাশা কিন্তু তার চেয়ে অধিক আশা নিয়ে আপনাকে লিখছি আমার
ব্যর্থ স্বপ্নের ইতিকথা জানাতে।
একটি শিশুর জন্ম যেমন তার পরিবারে খুশির
বন্যা বইয়ে দেয় তেমনি পৃথিবীতে আমার
আগমনে মা-বাবার মনে আনন্দের
বন্যা বয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তাদের সেই আনন্দ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। দূরারোগ্য ও মারাত্মক
“মাস্কুলার ডিস্ট্রোফি”তে আক্রান্ত হবার
পরে তারা বুঝতে পারেন, যে সন্তানের নাম
তারা আদর করে রেখেছেন সুমাইয়া, সমাজ
তাকে বিদ্রুপ করছে “প্রতিবন্ধী” বলে।
এই রোগটি ধীরে ধীরে মানুষের মাংসপেশীকে দূর্বল করে চলাচলে অক্ষম
বানিয়ে দেয়। বর্তমানে আমার জীবন হুইলচেয়ারের
চাকায় নির্ভরশীল। ছোটবেলায় আমার
চিকিৎসা করাতে করাতে যখন মা-বাবা উভয়েই
আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশ তখন ঢাকা শিশু
হাসপাতালে আমার মানসিক যোগ্যতা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে ওছ টেস্ট নেয়া হল। যেখানে অ-
প্রতিবন্ধী মানুষের ওছ ১১০-১২০ হয়,
সেখানে আমার ওছ পয়েন্ট আসে ১৩৪। ডাক্তার
আমার মেধা ও বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগানোর জন্য
বাবা মাকে উৎসাহ দিলেন। লেখাপড়া করে মানুষের
মত মানুষ হবার উপদেশ দিলেন। আমাকে নিয়ে মা- বাবার মনে যে হতাশা ছিল তা নিমিষেই দূর
হয়ে গেল। সেদিন ছিল আমার জীবনের
সবচেয়ে খুশির দিন। আমি অনুভব করলাম
একমাত্র শিক্ষাই পারে আমাকে মুক্তি দিতে;
পরনির্ভরশীলতা, বিদ্রুপাচ্ছন্ন অন্ধকার
জগতের অপমান থেকে। সেদিন থেকে শুরু হল আমার যুদ্ধ, নিজের
শারীরিক সীমাবদ্ধতার সাথে, নিজের জীবনের
সাথে, ভাগ্যের সাথে আর সমাজে প্রচলিত
কুসংস্কারের সাথে। বাবার ইচ্ছা ছিল আমি যেন বড়
হয়ে ডাক্তার হই। তাই যাতায়াতসহ আরো নানাবিধ
প্রতিকূলতা সত্তেও ডাক্তার হবার স্বপ্ন নিয়ে লেখাপড়া চালিয়ে গেছি।
এক্ষেত্রে আমাকে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করে
ছোট খালামণি। এমনকি দিনের পর দিন
তিনি আমাকে কোলে করে স্কুল ভবনের দোতলায়
উঠিয়েছেন ক্লাস করার জন্য।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে তেমন কোনো সহযোগিতা পাইনি। স্কুল কর্তৃপক্ষ
শুধুমাত্র একজন শিক্ষার্থীর জন্য ক্লাস নিচ
তলায় সরাতেও রাজি হয়নি। ২০১১ সালে বিজ্ঞান
বিভাগ থেকে এস.এস.সি পাসের পর আমার শরীর
আরো বেশি ভেঙ্গে পড়তে শুরু করে। শারীরিক
দুর্বলতা এবং নিয়মিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত সুবিধার
অভাবে বাধ্য হয়ে ডাক্তার হবার স্বপ্ন
জলাঞ্জলি দিয়ে নারায়ণগঞ্জ কলেজে ব্যবসায়
শিক্ষা বিভাগে ভর্তি হই এবং এই বছর
এইচ.এস.সি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.২০
পেয়ে উত্তীর্ণ হই। কিন্তু এই বিভাগের বিষয়গুলো পড়ে আমার মন কখনোই আনন্দ
পায়নি। তাই দুধের স্বাদ ঘোলে মিটানোর
উদ্দেশ্যে ঠিক
করি হোমিওপ্যাথি নিয়ে পড়াশুনা করবো।
আমাদের এলাকায় “তানজিম হোমিওপ্যাথিক
মেডিকেল কলেজ” নামে মাত্র একটিই হোমিওপ্যথি কলেজ আছে। ভর্তির
উদ্দেশ্যে বাবা সহ সেখানে গিয়ে প্রচণ্ড অপমান
এবং হতাশা নিয়েই বাড়ি ফিরে আসতে হয়েছে।
ভালো ফলাফল এবং হোমিওপ্যাথি পড়ার স¤পূর্ণ
যোগ্যতা থাকা সত্বেও শারীরিক প্রতিবন্ধিতার
অজুহাতে ভর্তি করালেন না। আমি নাকি ঠিক মত পড়তে পারবো না। তারা শুধু আমার অক্ষমতাই
দেখেছেন। আমার মেধার কি কোনো মূল্য নেই?
প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি বাধ্যতামূলক করার
ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণারও
কি কোন মূল্য নেই তবে? স্বাবলম্বী হবার জন্য
হোমিওপ্যাথি পড়াটা আমার জন্যে খুব প্রয়োজন
ছিল। এটা আমার স্বপ্নও ছিলো। জানিনা এই
প্রতিযোগিতার যুগে আমি কতদূর
টিকে থাকতে পারবো! কতদূর
পড়াশুনা চালিয়ে যেতে পারবো! হয়তো বা কর্মজীবনেও আমাকে এমন তিক্ত
অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হবে,
অথবা আমি আদৌ চাকরির সে পরিবেশ
পাবো কিনা জানি না! আমারই চোখের
সামনে ছোট বোনটি শিক্ষা অর্জন করছে,
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করছে, অথচ আমি অনিশ্চয়তায় ভুগছি। আমাদের
দেশে প্রতিবন্ধী অধিকার আইন আছে, সবার
জন্য শিক্ষার কথা বলা হয়েছে কিন্তু এর কার্যকর
প্রয়োগ সচরাচর চোখে পড়ে না। আপনার নিকট
আমার বিনীত অনুরোধ, আমার মত আর
কোনো প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী যেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবহেলার শিকার না হয়
সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করার করুন।
কেননা একমাত্র শিক্ষাই পারে আমাদের “সমাজের
বোঝা” নামক অপবাদ থেকে মুক্তি দিতে।
বিনীত-
সুমাইয়া বিন্তে শফি, নারায়ণগঞ্জ।

---------------------
চিঠিটি ফেসবুকে আমার এই হতভাগা বন্ধুটি পোস্ট করেছেন । একরাশ কষ্ট আর ক্ষোভ নিয়ে তানজিম হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের কৃপক্ষের পিরতি ধিক্কার জানাচ্ছি ।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে আমি কয়েকটা জিনিস বুঝতে পারলাম।

প্রথমত,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×