somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রিয়া সাহা, এনআরসি, দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্ক ও অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক

২১ শে জুলাই, ২০১৯ রাত ১১:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভারতে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপির 'জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট' বা -এনডিএ বিশাল জয় পাওয়ার বাংলাদেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্ক ও অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে কিছু জটিল অংক সামনে আসার কথা আমি মাস দুয়েক আগেই এক কলামে উল্লেখ করেছিলাম। বাংলাদেশের জন্য এটি (এনডিএ জোট পুনরায় সরকার গঠন) রীতিমতো অজানা আতঙ্ক বহন করে উল্লেখ করে বলেছিলাম, এর মূল কারণটা হলো এনডিএ'র প্রাক-নির্বাচনী ঘোষণা ও প্রচারাভিযানের অন্যতম উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল বাংলাদেশের কথিত অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করতে আসামের মতো পশ্চিমবঙ্গ ও অন্যান্য প্রদেশে এনআরসি করা হবে। আর অনাগরিক চিহ্নিতদের দেশছাড়া করা হবে। একই সাথে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে আগত অমুসলিম বা হিন্দুদের নাগরিকত্ব দেয়ার জন্য পুনরায় আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হবে। অর্থাৎ বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে ভারতে গমন করা হিন্দুদেরও নতুন হিসেবের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আসামের ন্যায় জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) প্রক্রিয়া নিয়ে ভারতে যেমন রাজনৈতিক উন্মাদনা সৃষ্টি হয়েছে তেমনি বাংলাদেশের জন্যও ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক কূটনীতির(Bilateral Diplomacy)ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উদ্ভব হতে যাচ্ছে। কারণ উভয় দেশের পক্ষ থেকে কূটনীতির সম্পর্কের জায়গায় পারস্পরিকতার নীতি(Reciprocity)কেই সর্বদা স্বীকার করা হয়।
বিজেপির প্রভাবশালী সাধারণ সম্পাদক রাম মাধবের মতে, তাদের পরিকল্পনা হলো তিনটে ‘ডি’- ডিটেক্ট, ডিলিট ও ডিপোর্ট। প্রথম ধাপে অবৈধ বিদেশি কারা, তাদের শনাক্ত করা হবে (ডিটেক্ট) । এরপর ভোটার তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়া ও বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে (ডিলিট)। আর তারপর তাদের বাংলাদেশে ডিপোর্ট করা হবে। এবং আসামের পর এবার সারা ভারতেই এনআরসি প্রক্রিয়া চালু করা হবে।
পশ্চিমবঙ্গে এই ইস্যুতে বিজেপি সবচেয়ে বেশি প্রচারণা চালিয়েছে এবং তারা সফলতাও পেয়েছে। সেখানকার এক নির্বাচনী সভায় অমিত শাহ বলেছিলেন, ‘আমরা যদি ক্ষমতায় ফিরে আসি, তাহলে আমরা পশ্চিমবঙ্গে ও ভারতের বাকি সবখানে এনআরসি তৈরি করব। বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করে তাদের বহিষ্কার করার ব্যাপারে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ তিনি অবৈধ অভিবাসীদের ‘উইপোকা’ হিসেবেও সম্বোধন করেন।

এখন তারা ক্ষমতায় এসেছে। আর নব-গঠিত সরকারের প্রতিশ্রুতি মোতাবেক এনআরসি প্রক্রিয়া নিয়ে পুরো ভারতে শুরু হয়ে গেলে তা বাংলাদেশের জন্য শুধু বিব্রতকর নয় বরং বিপদজনক কিছু হয়ে যাবে। এমনিতে, বিনিয়োগ ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারের বিদেশ নীতি চীন মুখী হয়ে পড়ছে মর্মে ভারতীয়দের অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ ও নিরঙ্কুশ প্রভাব মোদি সরকারের শেষ বছরের অন্যতম মাথা ব্যাথার কারণ ছিল। সে জায়গায় বিজেপির পুনরায় সরকার গঠন এবং এনআরসি প্রক্রিয়া নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে টানাপোড়নের কারণ হতে পারে।

মোদি’র বিজেপি ভারতে হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদকে উসকে দিয়ে ক্ষমতার মসনদ ধরে রাখার প্রয়াস হিসাবে এটি একটি কৌশল হিসাবে নিয়েছেন ধরে নিলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিষয়টিতে নিরব থাকার মধ্য দিয়ে কোন সুখবর বয়ে আনবে না। কারণ, এই ইস্যুর কারণে ভারতের পার্লামেন্ট নির্বাচনের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বাংলাদেশ।

এরই মধ্যে গত ১৬ জুলাই ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার ২৭ ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহা বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান নিখোঁজ রয়েছেন (Disappearance) মর্মে যে তথ্য দিয়েছেন তার সাথে ভারতের জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) কার্যক্রমেরও সম্পর্ক থাকতে পারে। কারণ এই তথ্য একদিকে যেমন বাংলাদেশ থেকে ভারতে গমন করা হিন্দুদের হিসেব তুলে ধরার চেষ্টা চালানো হয়েছে অন্যদিকে এনআরসি কার্যক্রমের আওতায় যদি বাংলাদেশ থেকে গমন করা হিন্দুদের ক্ষেত্রেও মুসলিমদের ন্যায় একই সিদ্ধান্ত হয় তাহলে তাদের ফিরে আসার ক্ষেত্রে নতুন করে যাতে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে না হয় তারও পূর্বভাস দেওয়া হলো!
তবে হিসেবে যাই হোক , অসাম্প্রায়িকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত উপস্থাপনকারী বাংলাদেশের ভাবমূর্তি যাতে ক্ষুণ্ণ না হয় এবং সম্প্রীতি বিনষ্টের ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সচেষ্ট থাকতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জুলাই, ২০১৯ রাত ১১:১৬
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অবশেষে ব্রাজিলের বিদায় ঘন্টা বাজিলো :D

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ০৬ ই জুলাই, ২০২৬ ভোর ৪:৩৮





অবশেষে ব্রাজিলের বিদায় ঘন্টা বাজিলো এবং নেইমার হলুদ কার্ড খাইলো। :D
ব্রাজিলের এই পরাজয়ের পিছনে অবশ্য আমার কোন দোষ নেই, আমি শুধু বৈজ্ঞানিকভাবে গবেষণা করে বলেছিলাম ব্রাজিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

শত্রুর শত্রু

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৬ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:১৪

উগ্রবাদী আর উদারবাদী, দুটি ইসলামই একই রাজনীতি করে। তাবলীগ জামাতের লোকটি মাঠে এসে বলে মেয়েদের ফুটবল হারাম। তারপর বিশ্বকাপে সৌদি আরবকে সমর্থন করে রাস্তায় নামে। এই দুটি আচরণ পরস্পরবিরোধী নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিচ্ছু চাইনি আমি আজীবন, ভালোবাসা ছাড়া

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৬ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:০২



আমি ভাই টাকা চাই।
টাকা হলে সম্মান আর ভালোবাসা অটোমেটিক চলে আসবে। হ্যা এটাই বাস্তবতা। বর্তমান যুগটা অন্য রকম। যার টাকা নাই, তার কোনো মূল্য নাই। সম্মান নাই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

রুবা

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৬ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২৩



বিয়ের মঞ্চে বসে আছি। মঞ্চ বলতে চকির মতো একটা খাট, তার সম্ভাবত এক পা ছোট বা নাই, কারন সামান্য নাড়াচাড়ায় খাটা টালমাটাল হয়ে একদিকে কাত হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাফিয়া ট্রাম্পের নজর এবার ফুটবল বিশ্বকাপে....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৪৫


একটা ফোন কল কতটা শক্তিশালী হতে পারে, সেটা এবার হাড়ে হাড়ে টের পেল গোটা ফুটবল দুনিয়া। বসনিয়ার বিপক্ষে লাল কার্ড দেখে মার্কিন ফুটবলার বালোগুনের নিষিদ্ধ থাকার কথা ছিল বেলজিয়াম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×