somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জেলে না গিয়েও অর্থঋণ মামলায় জামিন নেওয়ার পদ্ধতি

২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ রাত ১১:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


অর্থঋণ মামলায় যদি আপনার বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে রায় হয় সেক্ষেত্রে জেলে যাওয়া কি অবধারিত? কারণ আমরা জানি অর্থঋণ আদালত আইন,২০০৩ এর ৩৪(১) ধারায় ডিক্রীদার পক্ষের লিখিত দরখাস্তের প্রেক্ষিতে দায়িককে দেওয়ানী কারাগারে আটক রাখার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে আদালতকে।

তাহলে জেলে না গিয়ে জামিন পাওয়ার ক্ষেত্রে করণীয় কি? সেক্ষেত্রে আমাদেরকে লক্ষ্য করতে হবে অর্থঋণ আদালত আইনের ৪৩(৬) ধারায়। সেখানে বলা হয়েছে,
পাওনার ২৫% আদালতে জমা দেওয়ার মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করলে সরাসরি কোর্ট থেকে জামিন পাওয়া সম্ভব। আইনের ভাষায়,
ডিক্রীদারের অবশিষ্ট পাওনা ৯০ দিনের মধ্যে পরিশোধ করার শর্তে দায়িক জামিন পেতে পারেন। এর জন্য তাকে ডিক্রীদারের (বাদীর) অবশিষ্ট পাওনার ২৫% অর্থ প্রথমেই নগদ পরিশোধ করতে হবে এবং অবশিষ্ট অর্থ পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে পরিশোধ করে অঙ্গীকারে বন্ড দাখিল করতে হবে। তাহলে সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত সময়ের জন্য পরিক জামিনে মুক্তি পাবেন।

জামিনে দায়িককে ৯০ দিনের বেশি সময় দেবার কোন সুযোগ নাই। এই ১০ দিন এই উপধারায় সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত। ৯০ দিনের সময় পরবর্তীতে আর বাড়াবার কোন সুযোগ নাই। কারণ, এই ৯০ দিনের ব্যর্থতার ফলাফল ৩৪ (৭) ধারার নির্ধারিত রয়েছে।

আর জামিনের এই সময়ের মধ্যে ডিক্রীদারের সমুদয় পাওনা পরিশোধ করে দিলে দায়িক একেবারেই পরিপূর্ণ মুক্তি পাবেন।

২৫% টাকা জমা দেওয়ার মাধ্যমে জামিন নেওয়ার পর অবশিষ্ট টাকা ৯০ দিনের মধ্যে পরিশোধ না করলে পরিণতিঃ

ধারা ৩৪(৭) মতে জামিনের ঐ ৯০ দিনের মধ্যে ডিক্রীর পাওনা পুরোপুরি পরিশোধ না করলে ঐ দায়িককে আবার গ্রেপ্তার করা যাবে এবং পাওনা পরিশোধ সাপেক্ষে আবার সর্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্ত দেওয়ানী কারাগারে আটক রাখা যাবে। এক্ষেত্রে তার আগের কয়েকের মোটেও বাদ যাবে না। ৬ মাস মেয়াদ গণনা শুরু হবে নতুনভাবে। তবে, ৩৪(৬), ধারানুযায়ী দায়িক অবশিষ্ট পাওনার ২৫% অর্থ নগদ জমা দিয়ে নতুনভাবে আবার জামিনের সুযোগ চাইতে পারেন।

- - মোহাম্মদ তরিক উল্যাহ
অ্যাডভোকেট
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট
০১৭৩৩৫৯৪২৭০ ( কল করার পূর্বে হোয়াটস্অ্যাপে ম্যাসেজ দিন)

লেখক- আইন বিষয়ক উপন্যাস 'নিরু" এবং 'অসমাপ্ত জবানবন্দী', মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস 'মায়ের মুখে মুক্তিযুদ্ধ' এবং 'একাত্তরের অবুঝ বালক' ।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে আগস্ট, ২০২৫ বিকাল ৩:৪৬
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একে একে নিভিছে দেউটি.......

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:০০

একে একে নিভিছে দেউটি.......

আমার পিতৃ-মাতৃকূল এর প্রথম-দ্বিতীয় প্রজন্মের অর্থাৎ, দাদা-দাদী, মা-বাবা, চাচা-চাচী, ফুফা ফুফু এবং নানা-নানি, মামা-মামী, খালা-খালু কেউ বেঁচে নেই। মায়ের একজন চাচাতো ভাই খলিলুর রহমান(চান্দু) স্বাধীনতা যুদ্ধের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুরের বাঁধনে গড়া মানুষের মন

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:২৮

সঙ্গীতের কোন ধারাতেই আমার কোন প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ নেই। অনেক ছোটবেলায় আম্মা আমাদেরকে কিছু কিছু কবিতা সুর করে মুখস্থ শোনাতেন। আমরা সেগুলো শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে যেতাম। এখনও সেসব সুর করে গাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

আইন প্রয়োগ নাকি অপব্যবহার? রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধকরণ ঘিরে বিতর্ক

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪২

আইন প্রয়োগ নাকি অপব্যবহার? রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধকরণ ঘিরে বিতর্ক

ইমেজ আপলোড ব্লক করে রেখেছে বিধায় এই ব্যবস্থায়

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও একটি জটিল প্রশ্ন সামনে এসেছ- আইন কি তার স্বাভাবিক গতিতে চলছে, নাকি... ...বাকিটুকু পড়ুন

যুদ্ধের মাঝেই আম্মানে তিন রাত দুই দিন

লিখেছেন ঢাকার লোক, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:২২

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে এয়ারলাইন্স তাদের সময়সূচি পরিবর্তন করায় আমাদের জর্ডানের আম্মানে অনেকটা বিনা পরিকল্পনায় তিন রাত অবস্থান করতে হয়। আমরা যখন কুইন আলিয়া বিমানবন্দরে পৌঁছাই, তখন প্রায় মধ্যরাত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

নারীর ক্ষমতায়নের নামে বাঙালিকে স্রেফ টুপি পরানো হয়েছে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:৪৩


বাংলাদেশে চেয়ার একটি আধ্যাত্মিক বস্তু। শুধু বসার জন্য নয়, এটি পরিচয়ের প্রমাণ, অস্তিত্বের স্বীকৃতি, এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে জীবনের চূড়ান্ত অর্জন। গাড়ি থাকুক না থাকুক, বেতন আসুক না আসুক,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×