
অর্থঋণ মামলায় যদি আপনার বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে রায় হয় সেক্ষেত্রে জেলে যাওয়া কি অবধারিত? কারণ আমরা জানি অর্থঋণ আদালত আইন,২০০৩ এর ৩৪(১) ধারায় ডিক্রীদার পক্ষের লিখিত দরখাস্তের প্রেক্ষিতে দায়িককে দেওয়ানী কারাগারে আটক রাখার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে আদালতকে।
তাহলে জেলে না গিয়ে জামিন পাওয়ার ক্ষেত্রে করণীয় কি? সেক্ষেত্রে আমাদেরকে লক্ষ্য করতে হবে অর্থঋণ আদালত আইনের ৪৩(৬) ধারায়। সেখানে বলা হয়েছে,
পাওনার ২৫% আদালতে জমা দেওয়ার মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করলে সরাসরি কোর্ট থেকে জামিন পাওয়া সম্ভব। আইনের ভাষায়,
ডিক্রীদারের অবশিষ্ট পাওনা ৯০ দিনের মধ্যে পরিশোধ করার শর্তে দায়িক জামিন পেতে পারেন। এর জন্য তাকে ডিক্রীদারের (বাদীর) অবশিষ্ট পাওনার ২৫% অর্থ প্রথমেই নগদ পরিশোধ করতে হবে এবং অবশিষ্ট অর্থ পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে পরিশোধ করে অঙ্গীকারে বন্ড দাখিল করতে হবে। তাহলে সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত সময়ের জন্য পরিক জামিনে মুক্তি পাবেন।
জামিনে দায়িককে ৯০ দিনের বেশি সময় দেবার কোন সুযোগ নাই। এই ১০ দিন এই উপধারায় সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত। ৯০ দিনের সময় পরবর্তীতে আর বাড়াবার কোন সুযোগ নাই। কারণ, এই ৯০ দিনের ব্যর্থতার ফলাফল ৩৪ (৭) ধারার নির্ধারিত রয়েছে।
আর জামিনের এই সময়ের মধ্যে ডিক্রীদারের সমুদয় পাওনা পরিশোধ করে দিলে দায়িক একেবারেই পরিপূর্ণ মুক্তি পাবেন।
২৫% টাকা জমা দেওয়ার মাধ্যমে জামিন নেওয়ার পর অবশিষ্ট টাকা ৯০ দিনের মধ্যে পরিশোধ না করলে পরিণতিঃ
ধারা ৩৪(৭) মতে জামিনের ঐ ৯০ দিনের মধ্যে ডিক্রীর পাওনা পুরোপুরি পরিশোধ না করলে ঐ দায়িককে আবার গ্রেপ্তার করা যাবে এবং পাওনা পরিশোধ সাপেক্ষে আবার সর্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্ত দেওয়ানী কারাগারে আটক রাখা যাবে। এক্ষেত্রে তার আগের কয়েকের মোটেও বাদ যাবে না। ৬ মাস মেয়াদ গণনা শুরু হবে নতুনভাবে। তবে, ৩৪(৬), ধারানুযায়ী দায়িক অবশিষ্ট পাওনার ২৫% অর্থ নগদ জমা দিয়ে নতুনভাবে আবার জামিনের সুযোগ চাইতে পারেন।
- - মোহাম্মদ তরিক উল্যাহ
অ্যাডভোকেট
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট
০১৭৩৩৫৯৪২৭০ ( কল করার পূর্বে হোয়াটস্অ্যাপে ম্যাসেজ দিন)
লেখক- আইন বিষয়ক উপন্যাস 'নিরু" এবং 'অসমাপ্ত জবানবন্দী', মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস 'মায়ের মুখে মুক্তিযুদ্ধ' এবং 'একাত্তরের অবুঝ বালক' ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
