অকাল বিধবা ফিরোজা বেগম। জন্ম কুমিল্লা জেলার দূর্গাপুর গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে। বার বছর বয়সে তার বাল্যবিয়ে হয়। নতুন বউ হয়ে আসে অন্য আরেকটি দরিদ্র সংসারে। এ যেন গরমপানির ডেস্কি থেকে লাফিয়ে পড়লো গরমতেলের ডেস্কিতে। ভাল মন্দ বুঝে উঠার আগেই শুরু হয় সংসারের ঘানি টানা। কোল জুড়ে আসে দু’টি ছেলে সন্তান। সন্তান জন্ম নেয়ার কিছুদিন পর হঠাৎ ফিরোজার স্বামী মারা যায়। স্বামী ছিল দরিদ্র কৃষিক। সম্বল বলতে ছিল দুই শতক ভিটেবাড়ী। সংসারের আয় রোজগারের একমাত্র পথ স্বামীর অকাল মৃত্যুতে পুরো পরিবার পড়ে যায় সীমাহীন অনিশ্চয়তায়। আয় রোজগারে কোনধরণের অভিজ্ঞতা ছাড়া সাধারন গৃহবধু ফিরোজা বেগম ছোট দুই ছেলে নিয়ে পড়ে যান কঠিন সংকটে। তবুও তিনি স্বামীর অবর্তমানে ভেঙ্গে না পড়ে পরিবারের হাল ধরার উপায় খুঁজেন। কারো দয়ার মুখাপেক্ষী হতে চায়নি। প্রতিবেশীদের সহায়তায় তিনি ঘাসফুল এর সঞ্চয় ও ঋণ কার্যক্রমের সদস্যপদ গ্রহণ করে। সদস্য হওয়ার পর ফিরোজা বেগম স্বল্পসুদে ঋণ গ্রহণ করে হাতপাখা তৈরী করে বাজারে বিক্রি শুরু করেন। শুরু হয় তার অন্য এক সংগ্রামী জীবন। তার হাতে তৈরী হাতপাখা দেখতে সুন্দর ও সূলভ হওয়ায় স্থানীয় বাজারগুলোতে বেচাবিক্রি বাড়তে থাকে। ঘরে বসে ফিরোজা বেগম বর্তমানে প্রতিমাসে আয় করে বিশ হাজার টাকা। তার এই আয় দিয়ে চলে সংসার, বাচ্চাদের পড়ালেখা। বলা যায় ফিরোজা বেগম হস্তশিল্পে কাজ করে বর্তমানে স্বাবলম্বী ও আত্মবিশ্বাসী এক নারীর নাম। ফিরোজা বেগম বলেন, তার কঠিন বিপদে ঘাসফুল পাশে দাঁড়িয়েছে। ঘাসফুলের সহযোগিতায় তার পরিবারে করে স্বচ্ছলতা এসেছে। এতিম ছেলেদের মুখে হাসি ফুটেছে।
-----সৈয়দ মামুনূর রশীদ



সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে মার্চ, ২০১৭ দুপুর ১:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



