somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কিভাবে খেলবেন পোকার (Texas hold 'em Poker)

০৫ ই মার্চ, ২০১৪ রাত ৯:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেকেই পোকারের নাম শুনেছেন কিন্তু নিয়ম না জানার কারণে খেলা হয় নাই, তাদের জন্য এই নোট। পোকার অনেক রকম আছে, আমরা এখন যেটা শিখবো এটাকে বলে Texas hold 'em Poker.

ফেসবুকে এই শ্রেণীর পোকারের অনেকগুলো এপ্লিকেশন রয়েছে, তার ভেতরে সবচাইতে ভালো সম্ভবত Zynga'র তৈরিটি। এই এপসটি পাবেন নিচের লিঙ্কে-
https://apps.facebook.com/texas_holdem

১) এপ্লিকেশন এড করে ওপেন করুন-



২) এখানে দেয়া উপরের Play Now বা ডানদিকের লিডার বোর্ডের নিচে দেয়া Play Now এ ক্লিক করে মূল খেলার বোর্ডে যেতে হবে। অথবা আপনি চাইলে Table Stakes লিস্ট থেকেও আপনার পছন্দমত বোর্ডে যেতে পারবেন।
বোর্ডে ঢোকার পর আপনার গেমটি দেখতে অনেকটা এরকম দেখাবে-


উপরের ছবিতে দেখুন আপনাকে দু'টো কার্ড দেয়া হয়েছে এবং সবার হাত ঘুরে আপনাকে চাল দিতে বলা হয়েছে। এখানে আপনি CHECK দিতে পারেন বা BET বাটনটি ক্লিক করে বেট করতে পারেন। কখন চেক করবেন বা কখন বেট করবেন সে বিষয়ক টিপস পরে দেয়া হবে, আপাতত এই দু'টোর মূল কাজ সম্পর্কে বলি। ধরুন আপনি বেট করলেন, তার মানে আপনার পকেট থেকে চিপস চলে যাবে। আপনি যদি বোর্ড জিতেন তাহলে আপনার এবং সকলের করা বেট আপনার পকেটে চলে আসবে, কিন্তু হারলে আপনার বেট করা চিপসগুলো হারাবেন।
ওখানে আরেকটি বাটন আছে FOLD, যদি মনে হয় আপনি আর এই দান খেলবেন না তাহলে ফোল্ড ক্লিক করে হাত গুটিয়ে নিতে পারবেন।


এবার উপরের ছবিটি দেখুন, CHECK বাটনটি নাই। খেলার নিয়মগুলো সব যখন বুঝতে পারবেন তখন বুঝবেন কেন নাই, আপাতত ধরে নিন আপনাকে ওরা CHECK করতে দিবে না। তাহলে আপনার হাতে অপশন রইলো- ক) হয় ফোল্ড করবেন (হাত গুটিয়ে নেয়া) খ) বেট করা বা গ) রেইজ করা (মানে বাড়িয়ে বেট করা, আপনি ইচ্ছে মত বাড়িয়ে বেট করতে পারবেন)

৩) আপনি তো বুঝলেন কিভাবে খেলা চালিয়ে যেতে হয় বা ফোল্ড করতে হয়। এবার আমরা দেখবো কিভাবে আপনি নিশ্চিত হবেন যে বোর্ডটা আপনি জিততে যাচ্ছেন বা হারছেন। নিচের ছবিটি দেখুন-



উপরের এই ছবিতে পোকারের সবচাইতে শক্তিশালী হাত থেকে শুরু করে সবচাইকে দুর্বল কার্ডের বিন্যাস দেখানো হয়েছে।
ক) সবচাইতে শক্তিশালি কার্ড হচ্ছে একই গোত্রের ১০ থেকে শুরু করে টেক্কা পর্যন্ত সবগুলো কার্ড যাকে বলা হয় Royal Flush। মানে আপনার হাতের দুটো এবং বোর্ডের কার্ডগুলো মিলিয়ে যদি এধরনের একটি কার্ড সেট তৈরি হয় তাহলে ১০০% নিশ্চিত থাকতে পারেন যে এই বোর্ড আপনি পাচ্ছেন (কারণ পুরো বোর্ডের আর কারে কাছে এই বিন্যাসের কার্ড থাকার কোন উপায় নাই)।
খ) Royal Flush এর পরে সবচাইতে শক্তিশালী হ্যান্ড হচ্ছে Straight Flush. মানে আপনার হাত ও বোর্ডের কার্ডগুলো মিলিয়ে ৫ থেকে ৯ পর্যন্ত সবগুলো কার্ড যদি আপনার মিলে যায়। যদিও এটা দ্বিতীয় শক্তিশালী হাত তবুও আপনি শতভাগ নিশ্চিত হতে পারবেন না যে বোর্ড আপনিই পাচ্ছেন, বিশেষ করে যদি আপনার হাতে ৫ ও ৬ থাকে এবং বোর্ডে বাকীগুলো থাকে (তাহলে অন্য কারো কাছে ৯ এর পরের কার্ডগুলো থাকতে পারে)। তবুও এটা অনেক শক্তিশালী হাত, মোটামুটি ৯৮ ভাগ নিশ্চিত হয়ে নিন যে বোর্ড আপনি পাচ্ছেন।
গ) Four Of A Kind হচ্ছে তৃতীয় শক্তিশালী হাত। আপনার হাত + বোর্ড মিলে যদি যেকোন কার্ডের একই সংখ্যা চারটি যদি মিলে যায় তাহলে সেটাকে ফোর অব এ কাইন্ড বলা হয়। মোটামুটি ৮০ ভাগ নিশ্চিত থাকতে পারেন যে বোর্ড আপনি পাচ্ছেন।
ঘ) Full House চতুর্থ সর্বোচ্চ বিন্যাস। আপনার হাত + বোর্ড মিলিয়ে যদি একই সংখ্যা তিনটি ও অন্য আরেকটি সংখ্যা দু'টো মিলে ফুল হাউজ হয়। পোকারের প্রায়ই ফুল হাউজ হতে দেখা যায়, সুতরাং আপনার ফুল হাউজ মিলে গেলেই ধরে নিবেন না যে আপনি বোর্ড পেয়ে গিয়েছেন, দেখা গেল আরেকজন আরো হাই কার্ডে ফুল হাউজ মিলিয়ে বসে আছে। তবুও এটা সবচাইতে কমন ও শক্তিশালী হ্যান্ড, তাই নিশ্চিন্তে বেট করতে পারেন। জেতার সম্ভবনা- ৭০ ভাগ।
ঙ) যেকোন একটি রঙ্গের পাঁচটি কার্ড (যেকোন সংখ্যার) হলেই ফ্ল্যাশ। এটাও অনেক কমন, প্রায়ই আপনি লোকজনকে এই বিন্যাস দিয়ে বোর্ড জিততে দেখে থাকবেন। আপনার হাতে এই বিন্যাস আসলে ধরে নিন বোর্ড পাওয়ার সম্ভবনা ৬০ ভাগ।
চ) Straight হচ্ছে ষষ্ঠ শক্তিশালী বিন্যাস। যেকোন কার্ডের যেকোন সংখ্যা থেকে যেকোন সংখ্যা পর্যন্ত টানা পাঁচটি কার্ড মিলে গেলেই Straight হয়। ৫০% নিশ্চিত হতে পারেন যে বোর্ড আপনি পাবেন, কিন্তু বেশির ভাগ সময় এটা দিয়েই লোকজন বোর্ড নিয়ে নেয়। তবে সবচাইতে দুঃখজনক হচ্ছে আপনি হয়তো মেলালেন 8 9 10 J Q কিন্তু আরেকজন 9 10 J Q K মিলিয়ে বসে আছে, বোর্ড তখন তার (তবে এটা নির্ভর করে বোর্ডে কি ধরনের কার্ড আছে তার উপরে। এই বিষয়ে পরে আরো বিস্তারিত বলার ইচ্ছে রইলো)।
ছ) Three Of A Kind ফোর অফ এ কাইন্ডের মতই, শুধু যেকোন কার্ডের তিনটি মেলাতে হয়।
জ) Two Pair হচ্ছে আপনার হাত ও বোর্ড মিলেয়ে যেকোন কার্ডের দুই জোড়া মেলানো। ধরুন আপনার হাতে আছে ৮ ও ৯, বোর্ডেও আছে ৮ ও ৯, মানে আপনি দুই জোড়া মেলালেন। বা আপনার হাতে আছে ১০ ও ১০, বোর্ডে আছে ৮ ও ৮, মানে দুই জোড়া মিললো। জেতার সম্ভবনা ৪০ ভাগেরও কম হলেও অনেক বোর্ডই আপনি এই কার্ড দিয়ে হাতিয়ে নিতে পারবেন।
ঝ) One Pair হচ্ছে যেকোন একটি কার্ডের জোড়া মেলানো। খুবই দুর্বল কার্ড হলেও এটা দিয়েই অনেক সময় বোর্ড জেতা যায়, তবে খুব সতর্ক হয়ে খেলতে হয়।
ঞ) High Card: ধরুন সবার হাত ও বোর্ড মিলিয়ে উপরের কোন বিন্যাসই তৈরি হলো না, সেক্ষেত্রে সবচাইতে বড় কার্ডটা যার হাতে আছে তিনি বোর্ড জিতবেন। যেমন আপনার হাতে হয়তো টেক্কার A আছে, কারো কোন বিন্যাস মিললো না... বোর্ড আপনি পাবেন (কারণ জানেনই তো, টেক্কার A হচ্ছে কার্ডের ভেতরে সবচাইতে শক্তিশালী কার্ড)।

এবার চলুন দেখি বোর্ডে কিভাবে কার্ড আসে-


এই ছবিতে দেখুন- 6 ও K হাতে নিয়ে ১.২৯ মিলিয়ন চিপস সহ বোর্ড জিতে নিলাম। বলুন তো কোন বিন্যাসে বোর্ড জিতলাম?

আগের ছবিতে দেখিয়েছিলাম আমার হাতে 6 ও K আছে, আমাকে চাল দিতে বলা হলো, সেখানে ৪০ হাজার চিপস ছাড়তে হবে কমপক্ষে। হারলে ঐ ৪০ হাজারই লস, কিন্তু রিস্ক নিলাম, কারণ K একটা মোটামুটি শক্তিশালী কার্ড, জোড়া বা অন্য কিছু মিলেও যেতে পারে। হাত ঘুরে আসতে আসতে বোর্ডে ৩টি কার্ড খুললো, যেখানে দেখতে পেলাম বোর্ডে আরেকটি K আছে, মানে আমার K এর জোড়া মিললো। তখন আমাকে ১ লক্ষ বিশ হাজার চিপসের রিস্ক নিতে হলো (কে জানে, অন্য কারো হাতে হয়তো আরো ভালো কার্ড আছে ভাবতে ভাবতে)। তারপর খুলো আরেকটি K, মানে থ্রি অব এ কাইন্ড... যদিও সপ্তম শক্তিশালী হ্যান্ড কিন্তু জেতার সুযোগ অনেক বেশি। সত্যি বলতে কি, নিতান্তই খারাপ ভাগ্য না হলে থ্রি অব এ কাইন্ডে রিস্ক নিয়ে আপনি ঠকবেন না। তবে যদি প্রতিটা খেলোয়ারের খেলার স্টাইল লক্ষ্য করতে পারেন তবে ভাগ্যের উপরে খুব বেশি নির্ভর করতে হবে না, এমনি বুঝে যাবেন বোর্ড জিততে যাচ্ছেন কিনা, তবে বোর্ডে কোন ট্রিকি খেলোয়ার থাকলে ভিন্ন বিষয়, বা আপনি নিজেউ ট্রিকি হতে পারেন, এর আগে Poker Trick শিরোনামে এ বিষয়ে লিখেছিলাম।

যাহোক, শুরু করে দিন- হারতে হারতে জিততে জিততে বুঝে যাবেন সবকিছু। পোকারের চিপস এন্ড ট্রিক নিয়ে আরেকদিন লেখার ইচ্ছে রইলো। কোন প্রশ্ন থাকলে করতে পারেন।

ভাল থাকুন সবাই।

বিঃদ্র: পুনশ্চঃ বেশি খেলবেন না, এটা খুব বেশি মজার তাই নেশা হয়ে গেলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারন করে। আমি যখন বুঝি এডিক্টেড হয়ে যাচ্ছি তখন ইচ্ছে করে সব চিপস হেরে হাত খালি করে ফেলি... শেষবার পাঁচ মিনিটে ১০ মিলিয়ন চিপস ইচ্ছে করে হেরে এর থেকে বেঁচেছিলাম। এবার খেলছি অল্প অল্প করে, প্রতিবার ঢুকলে খুব বেশি হলে ১০-১৫ মিনিট... তাও প্রতিদিন না।
যদি কারো নিজের উপরে নিয়ন্ত্রন ভালো না থাকে তার এই গেম না খেলাই ভালো। নিয়ন্ত্রন হারিয়ে অনেক অনেক সময় নষ্ট করার পথ দেখানোর জন্য আমাকে দোষ দিতে পারবেন না পরে। :|
১২টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রম্যরচনা : ইয়ে

লিখেছেন গেছো দাদা, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১:১৪

এক প্রৌঢ় ভদ্রলোক সহজাত হাসি দিয়ে বললেন - আজ্ঞে আমার ইয়েতে একটু সমস্যা আছে!!
বাঙ্গালী এখনো এঁটো আর যৌনতা নিয়ে পুরোপুরি সাবলীল হয় নি। তবু বিশদে জানতে জিজ্ঞেস করলাম -... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জাপান ভ্রমণের শতবর্ষ পর নীলসাধু জাপান পৌঁছলেন

লিখেছেন নীলসাধু, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ১১:৪২











কিছুক্ষণ আগে আমার প্রকাশিতব্য বই নিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছি। এই বইমেলায় আমি ব্লগে কম আসছি। তাই ভাবলাম স্ট্যাটাস নিয়েই সহ ব্লগারদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমলা শ্রেণীকে গাড়ি, বাড়ি, মোটা বেতনের সুযোগ সুবিধা দিয়ে জনগণকে আরো কঠিন অবস্থার মধ্যে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে

লিখেছেন সাখাওয়াত হোসেন বাবন, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ দুপুর ১:১৯

সঞ্চয় পত্রের সুদের হার কমানোর অর্থ হচ্ছে, মানুষকে সঞ্চয়ে নিরুৎসাহিত করে সঞ্চয়পত্র কেনা টাকাগুলোকে বাজারে নিয়ে আসা । ইতিমধ্যে নানা অকার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে সাধারণ মানুষকে সঞ্চয়পত্র কেনা থেকে নিরুৎসাহিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

জ্বীনের ক্ষমতা- ২

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৩:৩৬



খিলগাঁও, বাগিচা এলাকায় আমরা আড্ডা দিতাম।
বাগিচা মসজিদের ঠিক উলটো পাশেই চুন্নুর চায়ের দোকান। এই চায়ের দোকানে একসময় রোজ আড্ডা দিতাম, আমরা চার পাচজন বন্ধু মিলে। বিকাল থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেগম জিয়াকে ছেড়ে দেয়ার কথা উঠলে, মনটা খারাপ হয়ে যায়

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:১৮



বেগম জিয়ার বয়স বেশী হয়েছে, এই বয়সে আত্মীয়স্বজন থেকে দুরে, জেলে বাস করা সহজ নয়, এটা বুঝতে কারো কষ্ট হওয়ার কথা নয়; এবং সেটার সমাধানও আছে; উনাকে উনার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×