somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"ফু" [গল্প]

২১ শে মার্চ, ২০১৭ রাত ১১:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

“ফু”
“ফু”
আরো কয়েকবার , কানের কাছে এসে ক্রমাগত ফু দিয়ে ঘুম ভাঙ্গানোর তরিকা মেয়েটা কোথা থেকে পেলো কে জানে ? প্রচন্ড বিরক্তির উদ্রেক হয় , তবে ঐ ফুতে কি যেন আছে । বিরক্তি নিয়ে ঘুম ভাঙ্গলেও চোখ খুলে ওর মুখে যেই হাসিটা লেগে থাকতে দেখি , সকাল সকাল ওষুধের মতো কাজ করে ।
ধীরে ধীরে বিছানায় উঠে বসি । এতক্ষণে “ফু” থেরাপির সমাপ্তি ঘটে । ও আমার আগেই প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে , এরপর টেবিলে খাবার দিয়ে আমাকে ঘুম থেকে তুলতে আসে । যেন আমাকে তৈরি হতে সাহায্য করতে পারে । আজকে যে অফিস থেকে ছুটি নিয়েছি ওকে বলা হয় নি , বলা উচিত ছিল কি না ঠিক বুঝতে পারছি না । ও ,গোছল সেরে অফিসে যাওয়ার জন্য নিজে তৈরি হয়ে নিচ্ছে । আমি যে বিছানা ছেড়ে তখনো উঠিনি ওর চোখে তা পড়ে নি । পড়লে হয়তো আবার “ফু” থেরাপি চলতো ।
খেয়াল না করায় বেশ হয়েছে । বিছানার পাশের জানালা দিয়ে বাইরে তাকালাম , রাস্তার ও পাশে খেলার মাঠ । মরা পাতার আস্তরণ পরে গেছে মাঠে । আচ্ছা , গাছগুলোর কষ্ট হয় না ? এতোদিনের সম্পর্ক যে পাতাগুলোর সাথে , ওরা সব ঝরে যায় । তিলে তিলে শুকিয়ে সকল সম্পর্ক ছেদ করে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে । পুরাতনকে ভুলে নতুনকে এতো সহজে বরণ করে নিতে পারে ?
মানুষেরা পারে না , রক্তের সম্পর্ক থাকে , মনের সম্পর্ক থাকে - মানুষের সাথে মানুষের । এতো সহজে কি ভুলা যায় ?
এইবার “ফু” এর বদলে সজোরে একখান তালি কানের কাছে এসে বাজালো সম্প্রীতি । উদ্ভট সব কাজ করে কি যে মজা পায় ।
ও , অফিসের জন্য পুরো তৈরি , তবে চশমা চোখে দিয়ে অফিসে যায় না । কাজের সময় শুধু চোখে চশমা দেয় । চশমা ছাড়া ওকে একেবারেই মানায় না , কেন মানায় না বা মানানোর কি-ই বা আছে জানি না । শুধু মেনে নিতে পারি না ।
“চশমা পড়ো । ” আচমকা বলে উঠলাম , তবে এই কথা যে বলবো ও বুঝতেই পারছিল । ভেংচি কেটে খাবার টেবিলে চলে গেলো । আজব মেয়ে একটা ,
জীবনে কি পূন্য করেছিলাম জানি না । কিংবা কি পুন্য করার সম্ভাবনা আছে যার জন্য এমন পুরষ্কার পেয়েছি ।
বিছানায় পুনরায় শুয়ে বলতে লাগলাম “আজ অফিস থেকে ছুটি নিয়েছি ।” আশা করেছিলাম ফিরতি কোন প্রশ্ন শুনবো , না শুনে মর্মাহত হতে হলো । সম্প্রীতির আচরণ অনুমান করা যায় না , নিজেকে তখন বেশ ছোট মনে হয় ।
“ভালো তো টানা কয়দিনই বা অফিস করা যায় ? বিশ্রাম নাও । আমারও একদিন ছুটি নিতে হবে । সারাদিন বাসায় ঘুমাবো ।” খাওয়া শেষে রুমে ঢুকলো এইকথা বলতে বলতে ।
ও অফিসের জন্য বেরিয়ে গেলো , আমি তখনো বিছানায় শুয়ে । আমি কতটা অপারগ , কতটা দূর্বল , হীন । ওকে অফিসে এগিয়ে দিয়ে আসতে পারতাম হয়তো , কিন্তু সেই সুযোগ নেই । উল্টো আমাকে অফিসে নামিয়ে দিয়ে আসে সম্ভব হলে ।
মনের সাথে শরীরের ছোট খাটো যুধ মন জয়ী হলো , শরীরটাকে বিছানা থেকে টেনে তুলে পাশে রাখা হুইল চেয়ারে নিয়ে ফেললো । চাকা ঘুরিয়ে বারান্দায় গেলো অদ্ভূত মেয়েটার প্রতিদিনের মতো একইভাবে অফিস যাওয়া দেখতে ।
ওর ঐ হাসির নিচে কি অনেক না পাওয়ার কথা জমে থাকে ? ওর ঐ ফুতে আমি যেই ভালোবাসার ছোয়া পাই , ও কি আদৌ তা বিলিয়ে দেয় নাকি সবই মেকি ? বেঁচে থাকার জন্য বেঁচে থাকা ? কাউকে অসুখী হওয়া থেকে বিরত রাখা ।
নিজেকে মোমবাতির মতো পুড়িয়ে একটি ঘর হয়তো শুধু কিছুক্ষণ আলোকিত করা যায় , কিন্তু সূর্যের মতো করে কি প্রতিদিন শত প্রানীর বেঁচের থাকার একমাত্র কারণ হওয়া সম্ভব ?
তোমাকে ছাড়া সম্ভব না সম্প্রীতি কিন্তু যদি জানতে পারি ঐ হাসির নিচে শুধুই বেদনা তবে ধরে রেখে লাভটাই বা কি ?
মাঠের গাছের আরেকটি পাতা রাস্তায় পড়লো , একটি কুকুর সেই পাতা মাড়িয়ে সামনে এগুতে থাকলো । গলির রাতের পাহাড়াদার , কালো কাকের মতো তার গায়ের রঙ ।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে মার্চ, ২০১৭ রাত ১১:৩৯
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আত্মহনন ও পক্ষপাতিত্ব

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৮


রবীন্দ্রনাথ কি বাংলাদেশের নাগরিক ??!! শুধুমাত্র জাতীয় সংগীতের রচয়িতা এবং বাংলাদেশে কিছু সুশীলদের (ভালো নাপিত) তাকে নিয়ে নানা রকমের কলহ-বিবাদ-বিভক্তি তৈরী ব্যতিত; বাংলাদেশে তার আর অবদান কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারা ভারতের এই সফট টুলস রবীন্দ্রনাথকে রক্ষা করবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩


কয়েকদিন আগে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জাতীর পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা হলো, সেখানে তো গ্রেপ্তার দেখলাম না! সেখানে কি পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবণতির শঙ্কা ছিলো না? পাকিস্তানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি হল অথর্ব আর ইডিয়েটদের দল। বর্তমানে এদের দেশ পরিচালানার করার কোন যোগ্যতা ই নেই।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:২৩

রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালি দেয়াটা নিন্দনীয় কিন্ত তার বিচার হবে কিসে? রাষ্ট্রদ্রোহিতা মামলায়?? রিমান্ডে নিয়ে?

চৈতালি চক্রবর্তী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, সে আইন বুঝে। প্রায় প্রতিদিন জুলাই, আবু সাইদ, বাংলাদেশ সব কিছু সম্পর্কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এআই মন্তব্যের পর ব্লগারগণের পোষ্ঠ ভালো বুঝে আসে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২০



চাঁদগাজী/সোনাগাজী বলতেন অনেক ব্লগার গরুর রচনা এবং অনেক ব্লগার গার্বেজ লেখেন। তাঁর এমন মন্তব্যের কারণে তাঁর বিরোধী ব্লগার সংখ্যা বেড়ে যায়। ফলে তিনি বার বার ব্যানের শিকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ, রাজনীতিতে আতঙ্ক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫০


দেশে এখন যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা মধ্য ডানপন্থী রাজনৈতিক দলের মানুষজন । সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে আছেন প্রবীণ নেতা নিতাই চন্দ্র রায়। এই অবস্থায় শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে দেয়ালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×