somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নারীর অন্তর্বাস প্রচলনের শুরুর ইতিহাস (শুধু মাত্র জিঘাংশু মনের জন্য)

০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১২:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিবর্তনের মানসিকতায় দেখা যায় পুরুষ ও নারী অপর লিঙ্গের শারীরিক গঠনের ওপর আগ্রহবোধ করে। নারীর শারীরিক গড়নের একটি আকর্ষণীয় অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয় তার স্তনযুগলকে। স্তন নারীত্ব এবং উর্বরতার প্রতীকও!
তবে ইতিহাসগত ভাবে স্তনের সৌন্দর্য উপলব্ধির ঘটনা খুব বেশি পুরোনো নয়। প্রাচীনকালে স্তনকে সৌন্দর্য ও যৌনতার বাহক হিসেবে মোটেও গণ্য করা হতো না। এমনকি তা আড়াল করার চেষ্টাও খুব একটা করা হতো না।
আদিম মানব-মানবী যখন রং দিয়ে শরীর রাঙাত তখনো বুকের চেয়ে মুখই প্রাধান্য পেত বেশি। যেকোনো প্রাচীন চিত্রে নারীর স্তন উন্মুক্তই দেখা যায়। এমনকি খ্রীষ্টিয় সময়ের প্রথম দিকে যেসব ছবি ও ভাস্কর্য তৈরি করা হয়েছিল, তাতেও নারীর বক্ষ প্রায় অনাবৃত। প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতায় অবশ্য নারীস্তনে প্রসাধনী ও গন্ধদ্রব্য ব্যবহারের চল ছিল এবং স্তন ঢাকা পরতো অলংকারে। ভারতীয় উপমহাদেশেও বক্ষ আবৃত করার জন্য কাপড়ের প্রচলন হয় অনেক পরে। লম্বা মালায় ঢেকে থাকত স্তনযুগল।
মোটকথা, প্রাচীন কোনো সামাজিক বা সাংস্কৃতিক তথ্য নেই যার উপর ভিত্তি করে আজকের নরনারীর মনে স্তনের যৌন ও সৌন্দর্যবোধ জেগে ওঠে। মূলত ভিক্টোরীয় যুগে যখন মেয়েদের সাংস্কৃতিক অবদমন শুরু হয়, তার আগে পর্যন্ত নারীস্তনকে ঘিরে সৌন্দর্যবোধ ও যৌনতার কোনো প্রত্যক্ষ যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মূলত তখন থেকেই স্তনকে সৌন্দর্য-অঙ্গ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রচেষ্টা শুরু হয় এবং এখান থেকেই বক্ষবন্ধনীর সূত্রপাত।
বক্ষবন্ধনী বা কাঁচুলি নারীদের এমন এক ধরনের অভ্যন্তরীণ পোশাক, যা স্তনকে আবৃত ও সঠিক স্থানে রাখতে সাহায্য করে। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী বক্ষবন্ধনী স্তনকে সুগঠিত ও সুডৌল করতে সাহায্য করে এবং স্তনযুগলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। যদিও এ ধারণা যথেষ্ট বিতর্কিত! আধুনিক গবেষণামতে, বক্ষবন্ধনী কোনো উপকারে আসে না, বরং তা ক্ষতির কারণ হতে পারে। বক্ষবন্ধনীর একটানা ব্যবহার স্তন টিউমার ও স্তন ক্যানসারের অন্যতম কারণ বলে বিশেষজ্ঞরা মতামত দেন।
উনিশ শতকের শেষের দিকে বক্ষবন্ধনী প্রচলিত হয়। এ সময় ইউরোপের মেয়েরা কর্সেট নামে এক ধরনের অন্তর্বাস পরতেন। এটা এত আঁটসাঁট ছিল যে তাঁরা বাঁকা পর্যন্ত হতে পারতেন না! এই সময়ে ‘কৃত্রিম স্তন’- এর প্রচলন হয়। লেদার, কুইল্টেড স্যাটিন, ইন্ডিয়া রাবার ইত্যাদির তৈরি এসব স্তনকে ইচ্ছেমতো ফোলানো যেত!
বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে কর্সেটের নিচে লেস যোগ করা হলো। কিন্তু জনমত যেতে লাগল এর বিরুদ্ধে। নর্তকী ইসাডোরা ডানকান এবং লোই ফুলার কোমর পর্যন্ত কর্সেটকে করে ফেলেন বুকের নিচ পর্যন্ত এবং এতে ব্যবহার করেন প্রাচীন গ্রিকদের মতো আকারহীন ঝোলা কাপড়।
এরপর বিখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার মাদলিন ভিয়োনেঁ কর্সেট কেটেছেঁটে পরিধানকারীকে নড়াচড়া করার স্বাধীনতা দিলেন।
১৯১৩ সালে মারি ফেলপস জেকব নামের এক আমেরিকান যুবতী নতুন এক ধরনের বক্ষবন্ধনীর উদ্ভাবন করলেন। এটি নরম, ছোট এবং এমনভাবে বানানো যা দুই স্তনকে আলাদাভাবে এবং স্বাভাবিক ভঙ্গিতে ঢাকল। মারি পরে তাঁর পেটেন্ট ওয়ার্নার কোম্পানিকে বিক্রি করে দেন।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর কর্সেটের প্রচলন একেবারেই বন্ধ হয়ে গেল। মেয়েরা স্তন ছোট রাখে এমন বক্ষবন্ধনী ও ঢিলেঢালা সেমিজের দিকে ঝুঁকে পড়ল। মূলত এসময়েই ‘ফ্ল্যাট চেস্ট’-এর যুগ শুরু হয়।
তিরিশের দশকে ডানলপ কোম্পানি ল্যাটেক্স রাবার আর অ্যামোনিয়া মিশিয়ে ল্যাসটেক্স নামের নরম ইলাস্টিক সুতার তৈরি করে। এই সুতা দিয়ে তৈরি করা হতো এক ধরনের অন্তর্বাস, যা মোজার পরে নেয়া যেত। পরে এর ভেতরে প্যাড ও তারের ব্যবহার শুরু হলো।
পঞ্চাশের দশকে এমনভাবে বক্ষবন্ধনী তৈরি করা শুরু হলো, যাতে স্তনকে বর্ধিত দেখায় এবং নারীত্ব বৃদ্ধি করে। এসময় জেন রাসেলের জন্য বিশেষ বক্ষবন্ধনী ‘এয়ারোডাইনামিক ব্রা’ তৈরি করা হয়, যেটা বিখ্যাত সিনেমা ‘The Outlaw’তে দেখানো হয়েছিল।
ষাটের দশকে বক্ষবন্ধনীর বিরুদ্ধে প্রকাশিত হলো আক্রোশ! ফেমিনিস্ট আন্দোলনে পোড়ানো শুরু হলো বক্ষবন্ধনী। কিন্তু পরিস্থিতি পাল্টাতে বেশি সময় লাগল না। স্তনযুগলকে সামলানোর জন্য আবার ফিরে এলো বক্ষবন্ধনী। এবার শুরু হলো আকার-আকৃতি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং প্যাড ও তারের ব্যবহার।
বক্ষবন্ধনী নারীদের অত্যন্ত গোপনীয় একটি পোশাক হলেও এটা নিয়ে গবেষণার অন্ত নেই! এমনকি এতে যুক্ত করা হচ্ছে প্রযুক্তিও! জাপানী অন্তর্বাস নির্মাতা কোম্পানি ট্রায়াম্প ২০০৫ সালে বাজারে এমন এক ধরনের বক্ষবন্ধনী ছেড়েছিল, যেটা মাইক্রোওয়েভ ব্যবহার করে গরম করে ঘর উষ্ণ রাখার কাজে ব্যবহার করা যেত। এটি শীতের দিনে ঘর গরম করার বাড়তি খরচ কমানোর উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল।
২০০৬ সালে এই ট্রায়াম্প কোম্পানিই বাজারে এনেছিল ব্যাগযুক্ত বক্ষবন্ধনী। এর কাপের ভেতর ভাঁজ করে লুকিয়ে রাখা হতো ব্যাগ, যা শপিং ব্যাগ হিসেবে ব্যবহার করা যেত। কোম্পানির দাবি ছিল যে, এমন অন্তর্বাস পলিথিন ব্যাগ ক্রয়ে নারীদের নিরুত্‍সাহিত করবে। একই কোম্পানি বছর দুয়েক আগে তৈরি করেছিল ‘ম্যারেজ হান্টিং ব্রা’! বিয়ের পোশাকের মতো দেখতে এ বক্ষবন্ধনীতে একটি লেড ডিসপ্লে ছিল, যেখানে ব্যবহারকারী কতদিন ধরে স্বামী খুঁজছেন তা দেখা যাবে।
গত বছর অতিরিক্ত গরম থেকে নারীদের রেহাই দেবার জন্য ট্রায়াম্প তৈরি করেছিল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বক্ষবন্ধনী। এতে ছিল রেফ্রিজারেটর জেল প্যাড, যা বিশেষ প্রক্রিয়ায় শরীরের তাপমাত্রা কমিয়ে দিত।
সম্প্রতি ধর্ষণ ঠেকাতে নারীদের জন্য একটি বিশেষ ধরনের বক্ষবন্ধনী তৈরি করেছেন ভারতের তিন শিক্ষার্থী। এই অন্তর্বাস পরিহিত কেউ আক্রান্ত হলে সাথে সাথে বার্তা চলে যাবে পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের কাছে। এছাড়া এতে রয়েছে একটি শক প্রযুক্তি যা হামলাকারীকে ৩৮০০ কিলোভোল্টের শক দিতে পারবে। তাও এক বা দুবার নয়, ৮২ বার! এই অন্তর্বাসের ভেতরে থাকবে বিশেষ পলিমার যাতে পরিহিত ব্যক্তিকে শক না লাগে।
সুপ্রাচীনকালে স্তনযুগলকে আবদ্ধ করে রাখার জন্য ব্যবহার করা হতো কাপড়ের টুকরো। বর্তমানে এ কাজটি করে দেয় বক্ষবন্ধনী। তাই পোশাকী সৌজন্যতা বা নারীসুলভ ব্যক্তিত্ব প্রকাশে বক্ষবন্ধনীর আবেদন অপরিসীম। চিকিত্‍সাবিজ্ঞানের যুক্তিতর্ক যা-ই বলুক না কেন, মেয়েরা খুব সহজে বক্ষবন্ধনীর ব্যবহার বন্ধ করবে বলে মনে হয় না।
(সংগৃহীত)
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যে বিলের কোনো রসিদ নেই

লিখেছেন রাজসোহান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৪



ঢাকার পাইপলাইন গ্রাহকদের একটা বড় অংশ এই জুলাইয়ে জানিয়েছেন, দিনে এক থেকে দুই ঘণ্টার বেশি গ্যাস তাঁরা পান না। সেই এক-দুই ঘণ্টাও আসে গভীর রাতে কিংবা ভোরের আগে। ফলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৩২


বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ: মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর রেমিট্যান্স কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন ও টেকসই উন্নয়নের বিকল্প কৌশল
একটি অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ফিজিবিলিটি স্টাডি।

একটি ধারাবাহিক গবেষনামুলক পোস্ট : পর্ব- ১

ভুমিকা
১.১ গবেষণার পটভূমি
একবিংশ শতাব্দীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছাত্রদলকে সামলাতে না পারলে ক্যাম্পাসগুলো সহিংসতায় পূর্ণ হবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮


রাতে রংপুর, সকালে জগন্নাথ। আজকে জগন্নাথে ছাত্রদলের হামলার শিকার একযোগে সব বিরোধী দল। এসব কি ছাত্রদলের কাজ? নাকি ছাত্রদলের ভেতর ছাত্রলীগ প্রবেশ করেছে? জকসু জিএসের জীবন আশংকাজনক। দেশে যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার প্রিয় ২৬টি পোস্ট; যেগুলো আপনারও ভালো লাগতে পারে

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:১৭

গ্যাস নিয়ে গ্যাসলাইটিং: কোনটা আসল সংকট, কোনটা কৃত্রিম?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:২১


বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা কী, এই প্রশ্ন করলে সবাই একবাক্যে বলবেন গ্যাস সংকটের কথা। বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে, ফলে লোডশেডিং বেড়েছে বহুগুণ। কলকারখানা হোক বা বাসাবাড়ি, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×