প্রথমে বন্দনা করি চামখোয়াড়ের।
চামখোয়াড়নামার এক হইতে পাঁচ পর্ব যে কাঠাল পাতায় লিখিয়াছিলাম তাহা দমকা বাতাস কোথায় উড়াইয়া লইয়া গেল খুঁজিয়া পাইতেছি না, নাকি ক্ষিধার জ্বালায় কোন অবলা ভক্ষন করিল তাহাও বুঝিয়া উঠিতে পারিতেছি না। নিরুপায় হইয়া অদ্য ছয় পর্ব মনিটরপাতায় লিখিতে বসিলাম।
লুকে বলিবে কি আমি নিজেই অবগত, আমি শিশুলুক নির্যাতক। হাস্যরসে মগ্ন হইয়া শিশুলুকের গলা টিপিয়া ধরি। ইহারা যখন ছটফট করিতে থাকে দেখিয়া আনন্দে চক্ষুতে কলকল করিয়া জল আসিয়া পড়ে।
চামখোয়াড়নামা লিখিতে বসিয়া বিস্তর বিপদগ্রস্ত হইয়াছি। আমি চামমখোয়াড়ে আসিয়াছি জুম্মা জুম্মা সাত দিন হইবে এখন পর্যন্ত অলিগলি ভাল করিয়া চিনিয়া উঠিতে পারি নাই। কোন গলি দিয়া কোন অলি হাটিয়া গেল তাহা বলা কি শিশুর হাতে মোয়া? না মজুরের কাধের খোয়া?
তাহার উপর নানাহ যন্ত্রণা। এইখানে কেহ মানিলুকের মান রাখিতে জানে না। আমি যে পরথম আলুতে মাঝেমাঝে আলুপোড়া খাইতে যাই, মতিভ্রম ভাইয়ার সহিত কপির অবশিষ্টাংশ সাবাড় করি এই চামুন্ডাদিগকে কে বোঝাইবে? কে কে কে, কে বুঝাইবে?
"হায়, ইহাদের শরীরে একচিলতে চাম,
দেখো, চামখোয়াড়ে লিখাইয়াছে নাম।"
তাহার উপর চামখোয়াড়ের সমস্ত লুক কেহ গর্তে বসিয়া ঝিমাইতেছে, কেহবা কিঞ্চিৎ তন্দ্রাগ্রস্ত। ইহাদের বাহির করিবার উপায় ভাবিয়া ভাবিয়া হাল ছাড়িয়া দিবার আগমুহূর্তে পিষ্টক ন্যায় একখানা বুদ্ধির উদ্রেক হইল। আচ্ছা করিয়া ধোঁয়া দিতে হইবে, আর দেখিতে হইবে না, পিলপিল করিয়া লুকগুলি বাহির হইবে। লুকগুলিকে নিয়া অনুমাননির্ভর লিখা লিখিয়া দিব।
শুরু করিব এইভাবে, শোনা গেল, কান চিল নিয়া গেছে,,,মানে কানে চিল প্রবেশ করিয়াছে। ইহার পর যাহা হইবার তাহাই হইবে। অদৃশ্যলুক, ধাড়িলুক, কাচ্চালুক, বাচ্চালুক একেক করিয়া আসিয়া আমার ভুল শোধরাইয়া দিবে। আমি এককালদর্শীর ভান করিয়া বলিব হুম জানিতুম বটি, যাচ্ছলে, তোমরা সবাই ঘটি।
যাহারা মানিলুকের মান রাখিতে জানে না তাহাদিগকে এই সুযোগে শোয়াইয়া ফেলা যায় কি না তাহাও ভাবিয়াছি। উক্ত কার্য কঠিন হইলেও বিলক্ষন অসম্ভব নহে। আলগোছে খোঁচা দিলেই হইবে, কোন বাঘ্রশাবক ছাগশিশুর ছাল গায়ে দিয়া ভোজ খাইতে গিয়াছিল তাহার বিশদ বর্ণনা দিব। বালকগণ মাথা গরম করিয়া প্রলাপ বকিবে এবং চামখোয়াড় হইতে বহিষ্কৃত হইবে। হি: হি:, তাহা বড়ই পরমানন্দের বিষয় হইবে।
থ্রি নট রাইফেল এবং ইয়াতিমের যুদ্ধের সরস বর্ণনা দিতে দিতে মহাভারতের যুদ্ধের গল্প শুরু করিব, প্রচীন কালে হস্তিনাপুর নামক একখানা নগর ছিল। হস্তিনাপুর রাজ্যের রাজা বিচিত্র বীর্যের দুই ছেলে, ধৃতরাষ্ট্র ও পান্ডু। ইত্যাদি,,,ইত্যাদি।
অত:পর গোল গোল তাল দিয়া তালগোল পাকাইব। তালগোলের তাল আলাদা করিতে গিয়া হরি বোল বলিয়া হট্টগোল বাধাইব। ইহার পর যাহা হইবার তাহাই হইবে আমি অনড় খাটিয়ায় শুইয়া থাকিব, অন্যরা হরি বোল, হরি বোল রবে রব উঠাইয়া ছামখোয়াড় তোলপাড় করিবে।
[ইহা একটি কল্পকাহিনী, কেহ কাহারও সহিত কোন প্রকার মিল খুজিয়া পাইলে তাহা হইবে সেভেননিউওয়ান্ডার্স-এর একটি]
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


