somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইয়াজুজ মাজুজের দেয়ালটি কোথায় অবস্থিত?

০৬ ই আগস্ট, ২০১৭ সকাল ১০:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ইয়াজুজ মাজুজকে যে দেয়াল দিয়ে আটকে দেয়া হয়েছিল সেই দেয়ালের অবস্থান কোরআন শরীফে বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। সূরা কাহফের ৮৩ থেকে ৯৯ নং আয়াতে যুল কারনাইন ও ইয়াজুজ মাজুজের রহস্যময় ঘটনাটির উল্লেখ রয়েছে। যুল কারনাইন ছিলেন একজন পরাক্রমশালী খোদাভীরু বাদশাহ যিনি আল্লাহর কাছ থেকে বিশেষ ক্ষমতা লাভ করেছিলেন। একই সাথে তিনি ছিলেন একজন অভিযাত্রী যিনি পৃথিবীর দুই প্রান্তে অভিযান চালান। যুল কারনাইন প্রথমে গেলেন পশ্চিমে এবং এমন একটি জলাশয়ের সামনে এসে পৌঁছালেন যার পানি ছিল কৃষ্ণ বর্ণের। তিনি যে সাম্রাজ্যের বাদশাহ ছিলেন তার পশ্চিমে দুইটি বৃহৎ জলাশয় ছিল – একটি ভূমধ্যসাগর ও অন্যটি কৃষ্ণ সাগর। আমাদের মুফাসসিররা বহু আগেই নির্ণয় করেছেন যে এই কালো বর্ণের জলাশয়টি হচ্ছে কৃষ্ণ সাগর বা Black Sea.


অতঃপর তিনি পূর্বে অভিযান চালান, কিন্তু এক পর্যায়ে আর বেশিদূর যেতে পারলেন না। এর কারণ হল ব্ল্যাক সি এর পূর্বে তিনি অন্য একটি বিশাল জলাশয়ের মুখোমুখি হন। এর নাম হল কাস্পিয়ান সাগর (Caspian Sea)। তিনি তৃতীয় একটি ডাইরেকশনে যাত্রা করেন এবং ইয়াজুজ মাজুজ নামের উশৃঙ্খল জাতির সম্মুখীন হন। হাদিস থেকে আমরা জানি যে ইয়াজুজ মাজুজ টাইবেরিয়াস হ্রদের পানি নিঃশেষ করে জেরুসালেমে পৌঁছাবে। কেউ যদি টাইবেরিয়াস হ্রদ পার হয়ে জেরুসালেমে পৌঁছাতে চায় তবে তাকে উত্তর থেকে আসতে হবে। অর্থাৎ, তিনি যে তৃতীয় ডাইরেকশনে যাত্রা করেন সেটা ছিল উত্তর দিক। উত্তরে যাত্রা করার পর যেখানে তিনি ইয়াজুজ মাজুজকে পান, সেটি ছিল দুইটি পর্বত প্রাচীরের মধ্যবর্তী স্থান। যায়গাটা এমন ছিল যে পর্বতশ্রেণীর মধ্যবর্তী গিরিখাতটি দিয়েই শুধুমাত্র বহির্বিশ্বের সংস্পর্শে আসা সম্ভব।


এই সমস্ত ভূপ্রাকৃতিক স্থান ও তাদের ভৌগলিক অবস্থানগুলোকে একত্রিত করলে খুব সহজেই ইয়াজুজ মাজুজের অবস্থানকে চিহ্নিত করা যায়। কৃষ্ণ সাগর ও কাস্পিয়ান সাগরের মধ্যবর্তী পর্বত প্রাচীর দুটি যে পর্বতমালায় অবস্থিত তা হল সুবিখ্যাত ককেশাস পর্বতমালা। পর্বত প্রাচীর দুটির মাঝে অবস্থিত একমাত্র বহির্পথটি ডারিয়াল গোর্জ (Darial Gorge) যেখানে যুল কারনাইন দেয়ালটি তৈরি করে দিয়েছিলেন। যায়গাটার অবস্থান হল রাশিয়ার সীমান্ত সংলগ্ন দেশ জর্জিয়াতে। কোরআন আরও বলছে ঐ পর্বতশ্রেণীতে বসবাসরত সম্প্রদায় তার কথা একেবারেই বুঝতে পারছিল না। ব্যাপারটা জর্জিয়ান ভাষার সাথে পুরোপুরি খাপ খায়। ঐ অঞ্চলের যতগুলো ভাষা আছে যেমন – আরবি, ফার্সি ইত্যাদি সবগুলোই কোন না কোনভাবে পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। আজও পর্যন্ত এটা সুস্পষ্টভাবে লক্ষণীয় যে জর্জিয়ান ল্যাঙ্গুয়েজ ঐ এলাকার সমস্ত রিজিওনাল ল্যাঙ্গুয়েজ ফ্যামিলিগুলো থেকে একদম আলাদা।



ইতিহাসেও উল্লেখ রয়েছে যে পারস্যের রাজা বাদশাহরা ঐ অঞ্চলটিতে ৫০ মাইল লম্বা, ২৯ ফিট উঁচু ও ১০ ফিট চওড়া একটি দেয়াল তুলে দিয়েছিলেন, উত্তরের বর্বর অসভ্য জাতিকে দক্ষিণে আক্রমণ চালানো থেকে প্রতিহত করার জন্য যারা ছিল ককেশাস পর্বতমালার অধিবাসী। ধারণা করা হয় এটা ছিল “দ্য গ্রেট ওয়াল অব জোর্জান” অথবা “দ্য কাস্পিয়ান গেটস”। অনেকে আবার বলেন “দ্য গেটস অফ অ্যালেক্সান্ডার”ই হল সেই দেয়াল। নাম যাই হোক না কেন, ঐতিহাসিকভাবেও প্রমাণিত যে এখানে একটা বিরাট দেয়াল তৈরি করা হয়েছিল, যেটা কোন নদীর বাঁধ ছিল না, বরং এটি ছিল একটি প্রতিরক্ষা দেয়াল। এখানে খুব ভাসা ভাসা লেভেলে বিষয়টা ব্যাখ্যা করা হয়েছে, পুরো বিষয়টা ভালভাবে বুঝার জন্য সূরা কাহফের এই ১৬টি আয়াত আরবি সহ একদম খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ুন। জায়গাটাকে ভৌগলিকভাবে চিহ্নিত করার জন্য গুগল আর্থের সাহায্য নিতে পারেন।


উল্লেখ্য যে, ডারিয়াল গোর্জে এখন কোন দেয়ালের অস্তিত্ব নেই। সেখানে এখন একটা রাশিয়ান মিলিটারি হাইওয়ে অবস্থিত। রাসূলুল্লাহ (সঃ) এর জীবদ্দশায়ই ইয়াজুজ মাজুজ মুক্তি পেয়ে যায়। যায়নাব বিনতে জাহাশ (রাঃ) থেকে বর্ণিত,
''একবার নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় তাঁর নিকট আসলেন এবং বলতে লাগলেন, লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ। আরবের লোকেদের জন্য সেই অনিষ্টের কারণে ধ্বংস অনিবার্য যা নিকটবর্তী হয়েছে। আজ ইয়াজুজ ও মাজুজের প্রাচীর এ পরিমাণ খুলে গেছে। এ কথা বলার সময় তিনি তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলির আগ্রভাগকে তার সঙ্গের শাহাদাত আঙ্গুলির অগ্রভাগের সঙ্গে মিলিয়ে গোলাকার করে ছিদ্রের পরিমাণ দেখান। যায়নাব বিনতে জাহাশ (রাঃ) বলেন, তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে পুণ্যবান লোকজন থাকা সত্ত্বেও কি আমরা ধ্বংস হয়ে যাব? তিনি বলেন, হ্যাঁ যখন পাপকাজ অতি মাত্রায় বেড়ে যাবে।''
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই অক্টোবর, ২০১৭ দুপুর ২:০৯
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সৌদি আরব যেভাবে বিশ্বের ধনী দেশগুলোর সাথে পাল্লা দিয়ে একটি অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হলো

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ সকাল ৭:২২



সৌদি আরবের অর্থনৈতিক রূপান্তর আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বিস্ময়কর এবং দ্রুততম ঘটনা। বিশ শতকের প্রথমার্ধেও যে দেশটি ছিল মূলত যাযাবর বেদুইন, পশুপালন এবং সীমিত হজের আয়ের ওপর নির্ভরশীল একটি চরম... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘ছুটি’র স্মৃতি

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০

(প্রায় দু’মাস আগে লেখা। তখন গ্রীষ্মকাল হলেও ঢাকায় কয়েকদিন পরপর বৃষ্টি হতো। এখনকার মত “ঘাম ঝরে দরদর” ধরণের গরম ছিল না। রাতগুলো তুলনামূলকভাবে বেশ ঠাণ্ডা থাকতো।)

আজ খুব ভোরে (শেষরাতে)... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে কারণে এবারের বিশ্বকাপও আর্জেন্টিনার ঘরেই উঠবে B-)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৪



কারণ আর্জেন্টিনা দুর্দান্ত, মেসি-মার্তিনেজরা অপ্রতিরোধ্য। আর্জেন্টিনা এখন পর্যন্ত এই বিশ্বকাপের সবগুলো ম্যাচেই একছত্র আধিপত্য দেখিয়ে জয়লাভ করে প্রবল বেগে ফাইনালের দিকে ধ্বাবিত হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে গতবারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

হোমিওপ্যাথি হচ্ছে একটি ধাপ্পাবাজ কিবিরাজি চিকিৎসা পদ্ধতি এর বৈজ্ঞানীক কোন ভিত্তি নেই

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:০৪



হোমিওপ্যাথি যে একটি ভাঁতাবাজি চিকিৎসা পদ্ধতি তা আমি আগেও জানতাম কিন্তু আমি কখনো এর বিরুদ্ধে কথা বলিনি বা কোথাও কিছু লিখিনি- তবে আজ কি মনে করে চ্যাটজিপিটির কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লবের শরিকরা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৪১

যারা বিপ্লব আনে, তারা বিপ্লব টেকায় না। যারা বিপ্লব টেকায়, তারা শরিকদের টেকায় না। ১৯৭৯ সালে ইরানে খোমিনি ক্ষমতায় এসেছিল বামদের কাঁধে চড়ে। কমিউনিস্ট, সেকুলার, নারীবাদী—সবাই শাহের বিরুদ্ধে এক কাতারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×