বাংলাদেশ নৌবাহিনী সাবমেরিন ক্রয় করতে চায়। নিতান্তই মহৎ , কিন্তু বালক সুলভ উদ্দেশ্য। আমাদের সমদ্্র সীমায় থাই এবং ভারতীয় জলদস্যুদের মৎস্য লুণ্ঠন রহিত করনের জন্য এই সাবমেরিন কিনতে চায়। নতুন সাবমেরিন পয়সায় কুলোবে না তাই পুরোনো বাতিল হলেও চলবে, নৌবাহিনী ঠিকঠাক করে ব্যবহার করবে।
ভাই ও বোনেরা এরকম একটা নাদান ইচ্ছা শুনলে কি ভালই না লাগে। মাছ রক্ষায় সাবমেরিন। কি মহাপরিকল্পনা। প্রত্যেক র্নিবাচনের আগে আমাদের নেতারা এরকম অনেক নাদান ইচ্ছার জন্ম দেন আমাদের বাহিনীগুলোর হাঁটুতে। মাইন্ড খাবেন না, বাহিনীর বুদ্ধি হাঁটুতে রাখার যৌক্তিক কারণ আছে। আরেক দিন বলবো।
এর আগের র্নিবাচনে শখ হয়েছিল মিগ বিমান ক্রয়ের। অনেক জটিল কারণ ছিলো কেনার। দেশের আকাশ অরক্ষিত, যে কোন সময় বিদেশী শত্রুর আক্রমণে ছিন্নভিন্ন হবে দেশ মাতৃকা। মিগ কিনে সরাকরী দলের ফায়দা হলো 800 কোটি টাকারও বেশী। সেই টাকায় হলো ইলেকশন। এটা এখন নিয়ম হয়ে গেছে। এবার সাবমেরিন এর নামে বিপুল টাকা মারা হবে, সেই টাকায় হবে র্নিবাচন।
=======================================
একটা বাস্তব অভিজ্ঞতা বলি। সুন্দরবনে কাঠ চোর পাহারা দেওয়ার জন্য উন্নত মানের ডাবল ইনজিন স্পিড বোট ছোট সাইজের দুটো এবং বড় একটি। আরো কিছু বোট আছে , কিন্তু সেগুলো দিয়ে চোর ধরার চাইতে সিনেমার শু্যটিং করা ভাল, ও মাঝিরে ............ ।
বাংলাদেশের আয়তনের শতকরা চার ভাগ হচ্ছে সুন্দরবন। সম্পদের অভাব নেই কাঠ, মধু, মাছ প্রধান। খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিল থেকে কাঠ বাবদ পাওনা চার কোটি (তিন বছর আগের কথা), ঢাকা ম্যাচ থেকে ও বড় অংকের টাকা পাওনা।
যার সূত্রে এসব জেনেছি তিনি নিজে সেবছর চার কোটি টাকার চোরাই কাঠ উদ্ধার করেছেন।
কিন্তু দুঃখজনক হচ্ছে কোন উৎসাহ ব্যনজক পুরষ্কার উনাকে দেওয়া হয়নি।
উনার খুব আক্ষেপ কিছু হাই স্পিড বোট কেনা হলে সুন্দরবনের রাজস্ব আরো বাড়বে।
বোট কেনা হলে আবার যারা চুরি করে তাদের মুসিবৎ , তাই আর বোট কেনা হয়না। আর উনি জান দিয়ে কাজ করে শুধু হয়রান হন। আর আমরা গালি দিই সরকারী র্কমচারী মানে অসৎ।
=======================================
বঙ্গোপসাগেরর মাছ দিয়েই আমাদের মাছ রপ্তানী আয় অন্তত বিশ গুণ করা যায়। বিশেষ ভাবে অজ্ঞরা বার বার বলে যাচ্ছেন। সে সুবাদে বছর কয়েক আগে কেনা হল সোনার টেকনোলজী সম্বলিত টাগবোট কোরিয়া থেকে। পানিতে নামানোর মাত্রই সোনার টেকনোলজি, সোনাদিয়ার
পথ ধরলো। আবার রিপেয়ার আবার ব্যবসা।
=======================================
কথা হচ্ছে আমাদের সমুদ্্রসীমা সুরক্ষিত করা দরকার সেজন্য কি চাই ? চাই আন্তরিকতা, একটি পরিসংখ্যান ভিত্তিক মডেলিং কোন সময় মাছ ধারার সিজন, কোন সময় বিদেশী দস্যুরা চুরি করতে আসে, কোন জায়গাগুলো মাছ ধরার চিহ্নিত ক্ষেত্র। ব্যস এবার সময়মতো শক্তিশালী টাগবোট নিয়ে সময়মতো হানা দাও , মাছ চুরি কমে যাবে আশি শতাংশ। একটা নুলো ভাংগা সাবমেরিনের দামে সম্ভবত নতুন খুব ভালো টাগবোট 20 টা কেনা যায়।
=======================================
আমাদের নিরাপত্তার জন্য আমাদের সশস্ত্র বাহিনী, বিমান বাহিনী, নৌ বাহিনী কে ঢেলে সাজানো দরকার।
বিনা যুদ্ধে নাহি দেব সূচাগ্র মেদিনী।
যুদ্ধটা কার সাথে , আমাদের সবচেয়ে কাছের দেশের যে বাহিনী তাদের সমকক্ষ হতে হলে প্রতিরক্ষা বাজেট করতে হবে এখনকার অন্তত 25 গুণ , এবং সেটা আগামী 20 বছর ধরে। সেটা কি আদৌ সম্ভব। পাকিস্তান ঐ চেষ্টা করেছে, দেশের মানুষ মূরুক্ষু রেখে বোমা বানিয়েছে। সাবাশ জিন্দাবাদ।
আটটা মিগ এর সাথে সতেরশো ফাইটার জেটের কম্পারিজনে নাই গেলাম।
তবে তাই বলে যুদ্ধ থেমে নেই। শুরু হয়ে গেছে। পিঁয়াজ , আদা, রসুন , চিনি , শাড়ী , সিনেমা, মডেল, চ্যানেল সব ক্ষেত্রে আমাদের দেশ এখন দখল হয়ে গেছে। এই সহজ বিষয়টা আমাদের সেনা পতিরা বোঝেন না , কারণ উনাদের বুদ্ধি হাঁটুতে থাকে।
======================================
এই যে দখলদারিত্ব এটা থেকে মুক্তির জন্য নিজেদের সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার প্রথম যোগত্যা। নিজেদের সম্পদের বলতে সেটা সুন্দরবনের গোলপাতা থেকে ক্লাস ওয়ানের বাচ্চা সবাইকেই কাভার করে।
মিগ কেনার টাকা হয়, স্কুলের শিক্ষকদের বেতন দেওয়ার সময় সরকারের টাকার সংকট হয়। ঢাকার সৌন্র্দয র্বধনের জন্য 450 কোটি টাকা ব্যয় করা যায়, উত্তরঞ্চালে মংগা নিয়ন্ত্রনের জন্য 400 কোটি টাকার শিল্পায়ন করা যায় না। ঢাকা শহরে কোটি টাকা ব্যয়ে স্টিলের ইলিশ মাছ বানানো যায়, টানবাজারের পুর্নবাসন করা যায় না।
=======================================
সেনাবাহিনীর কাজ কি?
যুদ্ধ করা। যুদ্ধের সময় এর উদ্ভব। যুদ্ধ শেষ হলে এই যে সেনা এরা কি করবে ? নতুন কোন কাজেও সেনারা যেতে চায়না। সেনাদের প্রয়োজন জিইয়ে রাখার জন্যই যুদ্ধের রাজনীতির জন্ম। আমেরিকা যার একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
=====================================
এবার একটি কল্প কাহিনী চিন্তা করি।
সাগরের তলদেশে পেরিস্কোপ এর ভিউ পের্াট এ চোখ রাখা অবস্থায় নিঃশব্দে হেসে উঠে মো. আলী আলু ।
পাইছি বেগম পাইছি সাগরের সবচেয়ে বড় পোয়াতি মাছ টার দেখা পাইছি। মাছ টা ঠিক আলুর মতোই বছর বছর নতুন ব্যবসা বিইয়ে যাচ্ছে। এত ব্যবসা এত কাল কেমনে পেটে রেখেছিল , বোঝা যায় না। মাছ টাকে দেখে আলু সাহেবের পেটে নতুন একটা ব্যবসা মোচড় দিলো।
কি যন্ত্রণা প্রমোদ বিহারের সময়ও , উফ। ঐ সারেং নৌকা উপরে তোল আমার ডাক পড়ছে বড় কামের । এই সব কাম তিনি যত্র তত্র করেন না, এজন্য মিন্টু রোডে সরকারী বাসভবন বরাদ্দ আছে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



