গতকাল ফরাসী সংসদ একটা আইন জারি পাস করেছে, যে আইনে বলা হয়েছে 1915 সালে তর্াকিশদের হাতে অর্ামেনিয়ানরা গণহত্যার স্বীকার হয়েছে এটা অস্বীকার করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
আমি বিপুলায়তন সম্ভাবনার দুয়ারে আলোর ঝিলিক দেখছি। আমার ভাষ্যে এটা এই বছর কিংবা গত কয়েকদশকের আইনপ্রণয়নের ইতিহাসে একটা যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
এই গণহত্যা নিয়ে আমাদের ব্লগার উৎস সবচেয়ে ভাল বলতে পারবেন। লেখার স্র্বাথে আমি একটা ব্রিফ দিচ্ছি। আর্মেনিয়ানরা মূলত এপোলস্টিক ফেইথ সাথে কিছু ক্যাথলিক এবং প্রোটেস্ট্যান্ট। অটিম্যান সাম্রাজ্যে বছরের পর বছর বেশ দাপটে বাস করেছে অর্ামেনিয়ানরা। ব্যাবসা, শিক্ষা, বুদ্ধিবৃত্তিক পেশা সবক্ষেত্রে ভালো অবস্থানে ছিল এরা সবসময় সংখ্যালঘু হওয়া সত্ত্বেও।
1894 এ অর্ামেনিয়ার বিতলিসে স্বাধীনতার আন্দোলন শুরু হয়। সেটা ছিল সুলতান হামিদ এর সময়। 1894-97 সময়ে 80,000 থেকে 3,00,000 অর্ামেনিয়ান হত্যার মধ্য দিয়ে সেই আগুন চাপা দেওয়া হয়।
1914 সালে অটোম্যানরা হামলা চালায় রাশানদের বিরুদ্ধে বাকু দখলের জন্য [বাকু, আজারবাইজানের রাজধানী। তেলের উপর ভাসমান নগরী বাকু। পেট্রোলিয়াম হিস্ট্রিতে পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপর্ূণ শহর বাকু। এই যুদ্ধ , যুদ্ধপর্ূব বাকুর দর্ূদান্ত
র্বণন া পাবেন কুরবান সাঈদের ''আলী ও নিনো '' বইটাতে। অসাধারণ প্রেমের উপন্যাস ও একসাথে বইটি। কুরবান সাঈদ নামটা ছদ্ম, কেউ জানেনা লেখকের আসল নাম কি ]। বাকু দখল করা হয়নি, হয়েছে শোচনীয় পরাজয়। এর ফলাফল হিসেবে দোষ গেল অর্ামেনিয়ানদের ঘাড়ে। এদের সাহায্যের কারণেই রাশানরা জিতেছে। 1877-78 এ রাশানরা একবার অর্ামেনিয়া দখল করেছিল এবং র্বালিন চুক্তির পর ছেড়ে দেয়। কারণ অর্ামেনিয়ানরা ক্রিশ্চান ]।
1915 তে বাকুতে পরাজয়ের আগে থেকেই অর্ামেনিয়াদের উপর যে প্রতিহিংসা শুরু হয়েছিল সেটা পর্ূণতা পায় বাকু যুদ্ধের পর। বলা হয় 1.5 মিলিয়ন অর্ামেনিয়ান হত্যা করা হয়েছে এই সময়। বিংশ শতকের প্রথম গণহত্যা ছিল এটি। খুবই করুণ ইতিহাস । ছবি এবং র্বণনা অনলাইনে ক্লিক করলেই পাওয়া যাবে।
কুরবান সাঈদের বইয়েও দেখা যাবে অর্ামেনিয়ানদের কিভাবে তখন ট্রিট করা হতো।
==========================================================================
এই লেখার উদ্দেশ্য কিন্তু গণহত্যার বিবরণ দেওয়া না। সর্ূযের মত জ্বলজ্বলে-গনগনে গণহত্যা অস্বীকার করাটাও একটা অপরাধ, এবং সেটা শাস্তিযোগ্য হতে পারে সেটা ফ্রেঞ্চরা বিল পাস করে সেটা ঘোষণা করল।
1971 এর 25 শে মর্াচ-16ই ডিসেম্বরে সংঘটিত গণহত্যার আজো বিচার হয়নি। আজো নতুন বুননে নতুন ইতিহাসের চাদর বোনা হচ্ছে। গণহত্যা কে গন্ডগোলের সময় বলা হচ্ছে। বুদ্ধিবৃত্তিক অসততার জোয়ার চাংগা হচ্ছে। র্ধমীয় মূল্যবোধের মায়াজাল আর উন্নয়নের প্রতিবন্ধকতার ধূয়া তুলে গণহত্যা অস্বীকার করবার চেষ্টা চলছে। এই আইন আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয় 100 বছর পরেও গণহত্যার পাপ মুছা যায় না।
1971 এ সংঘটিত গণহত্যার বিচার হবে, চলমান ইতিহাস সে কথাই বলে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



