somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

র্র্আজাইরা-৮

২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ রাত ১১:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


কানের উপর দিয়া গুল্লি যাইতেছে বেলায় বেলায়। সকালে রং চা গলায় ঢালতে পারলে মনে হয় পরম পাওয়া। সকালে না খাইলে আগে আমার বারটা বাজতো এখন রং চা, একটা সিগারেট অভ্যস্ত হয়া গেছি। অবশ্য ল্যাবে এক ধরণের সিরিয়াল বারের(মুড়ির চাক্কির মতন) পাহাড় রাখছি। একটা কইরা বার বিস্কিটের মতন মাঝে মাঝে দাঁতের মাঝে ফালাইয়া দিই। আমার ইন্ডিয়ান মেট অমিতেষ'রে এইটার নেশা ধরায়া দিছি , সো একজনের শেষ হইলে আরেকজনের সাপ্লাই আছে। কটর মটর কইরা খাও।

আইজকা ব্রাঞ্চ(ব্রেক ফাস্ট+ লাঞ্চ) করলাম বিকাল চারটায়। এর আগে সারা সকাল ফোনে, খ্যাঁচ ম্যাঁচ করলাম। আমারে যে পরিমাণ ফোনাইতে হয়, এখন ফোন দেখলে মুখ দিয়া অশ্রাব্য গালি গালাজ আসে। যাদের ধারণা রিসার্চ মানে সারাদিন গালে হাত দিয়া ইলেক্ট্রন-প্রোটন ভাবা, তাদের লাইগা কইতাছি। বে-কার্বন রে কোটেশন দেওয়ার লাইগা গুঁতাওরে, বেস্ট কোটেশনের লাইগা কয়েকটা কোম্পানীরে কল করতে হয়। ই-মেইল পদ্ধতিটা এখন এত বেশী এক্সেসিবল হইয়া গেছে , কোম্পানীগুলির কাস্টমার সার্ভিস ই-মেইলের আন্সার দে তিন দিন বাদে। সুতরাং ফোন কলই ভরসা। জিনিসটার দাম ২৫০০ ডলারের বেশী হইয়া গেলে, পারচেজ অর্ডার বানাও, হেন কর তেন কর। এই আমেরিকায় যে পরিমাণ পেপার ডকুমেন্ট প্রসেস করা হয়, আমাগো সচিবালয়ে এত হয় না। শুধু একটাই সুবিধা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মত, ক্ষনে ক্ষনে বাপের নাম লিখতে হয় না, আর প্রভোস্টের সাইন নিতে হয় না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু পরীক্ষার রেজিষ্ট্রেশন করবার লাইগা ৫ জায়গায় (অন্তত) ঘুরতে হইতো। আমরা পোলাপাইন মিইলা এইটারে মিশন হিসেবে নিইয়া কাম করতাম।

এখন সকালে আইসা প্রথম দেখ কোন মেইল আসছে কিনা? তারপর লিস্টি ধইরা ফোনাও, ওরে তুই মাল কবে দিবি? , মেসেজ রাখো ভাইটি আমার রিসার্চ মাঠে মারা গেল তোর পাম্পের অভাবে, এই হইল দশা। এইখানে রিসার্চ মানে ওভারঅল একটা ইন্ডাস্ট্রিয়াল এক্সপেরিয়েন্স। ম্যানেজারিয়াল জব থেইকা, ফান্ডের কত টাকা গেল প্রতিমাসে সেটার বিল করার মত একাউন্টেন্সি জব পর্যন্ত করতে হয়। আর নিজের ল্যাব, অফিস স্পেস সাফ-সুতরা রাখবার কথা না হয় নাই কইলাম। এর পর ফাও হিসেবে থাকতে পারে পোলাপাইনরে সার্কিট বুঝানো, পরীক্ষার প্রশ্ন করা, কোর্স ম্যাটেরিয়াল পাকাইতে
বসরে লাকড়ি সাপ্লাই দেওয়া এবং সবশেষে নিজের কোর্সের ক্লাস, পরীক্ষা এবং প্রেজেন্টেশান। এর নাম হইল গবেষণা। সব কিছু মিলিয়ে একেবারে, যাকে বলে টইটম্বুর
অবস্থা। একটা সামলাই, তো আরেকটা উপচায়। প্রতিদিনের লিস্ট করি হলুদ আঠা দেওয়া কাগজে, প্রতিদিন চক্রবৃদ্ধি হারে লিস্ট লম্বা হয়। কাম আর শেষ হয় না। প্রতি হপ্তায় মনে হয় সামনের উইকএন্ডে পইড়া ফাটায়া ফেলামু, এই হপ্তার সব এক্সপেরিমেন্ট সামারাইজ করুম। রবিবার দিন সন্ধ্যায় নিজেরে আবিষ্কার করি সাউথ অস্ট্রেলিয়ান ওশানে, আর আমার সমস্ত পরিকল্পনা মুলিটের ঝাঁকের মত রুপালী প্রলেপ বুলাইয়া দিয়া চইলা যাইতাছে নেক্সট উইকএন্ডে।

আইজ আবার একই কারবার ঘটবে, আমি ঘুমামু; আর সময় টুক কইরা এক লাফ দিয়া হাপিস হইবো। আমারে খালি ফরেস্ট এর মত চেইজ'ই করতে হইবো নিজের ভবিতব্য।

And this is not chasing a lady, take my WORD.
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জলে স্থলে শূন্যে আমি যত দূরে চাই

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৫৩



আমি ভেবেছিলাম, তুমি আমাকে ভুলেই গেছো!
লম্বা সময় ধরে কোনো যোগাযোগ নেই। আমিও নানান ব্যস্ততায় যোগাযোগ করতে পারিনি। তুমিও যোগাযোগ করনি! অবশ্য তুমি যোগাযোগ অব্যহত না রাখাতে আমি বেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অদৃশ্য ছায়া: সমুদ্রের সাক্ষী

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬



ঢাকার বনানীর সেই ক্যাফেতে বৃষ্টির শব্দ এখন আরও তীব্র। আরিয়ান তার কফির মগে আঙুল বোলাচ্ছিল, তার চোখ দুটো ক্লান্ত কিন্তু তীক্ষ্ণ। সাঈদের দিকে তাকিয়ে সে নিচু গলায় বলতে শুরু করল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

'মানবাধিকার' (অণু গল্প)

লিখেছেন আবু সিদ, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪

'মানবাধিকার' একটা এনজিও। তারা বিদেশী সহায়তা নিয়ে মানুষ, বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ সুরক্ষায় কাজ করে। আজ তারা একটা বড় সমাবেশ করছে প্রেসক্লাবে। সমাবেশে সাংবাদিকসহ নানান পেশার মানুষ অংশ নিয়েছে। টিভি সাংবাদিকেরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নদী তীরের ইমাম থেকে গ্লোবাল ফ্রিল্যান্সার: একটি অনুপ্রেরণার গল্প

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:০৬




নদী তীরের ইমাম থেকে গ্লোবাল ফ্রিল্যান্সার: একটি অনুপ্রেরণার গল্প

একটি বিশাল নদীর কোলঘেঁষে গড়ে ওঠা শান্ত এক জনপদ, আর ঠিক নদীর ঘাট ঘেঁষেই ছিল একটি সুন্দর মসজিদ। সেই মসজিদের ইমাম সাহেব... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুধু দ্বিতীয় রিফাইনারি (ERL-2) টা করে দেখান , সবার মুখ বন্ধ হয়ে যাবে !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:৫০


গতকাল নাটকীয়তায় ভরা একটা দিন আমরা পার করলাম । রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্বোধনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেন ঝড় বয়ে গেল। পুরো সোশ্যাল মিডিয়া যেন দুই ভাগে ভাগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×