somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মধ্যরাত

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ২:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাসায় একা থাকলে যা হয়!!কল্পনা শক্তি ডালপালা মেলে......ভার্সিটি বন্ধ থাকায় সাথের সবাই যার যার ঠিকানায় চলে গেছে....এক সপ্তাহ যাবত একা আছি।তেমন কিছুই করার না থাকায় মুভি দেখে আর রান্নার এক্সপেরিমেন্ট করে....দিন কাটাচ্ছি আমাদের এই বাসায় একটা রুম আছে যেটাতে কেউই থাকতে চায় না,সবসময়ই খালি পড়ে থাকে.....না থাকার কারন হল ভয় পাওয়া।এই ভিতুদের মাঝে আমার অবস্থান অবশ্যই উপরের দিকে,মাসাল্লা কল্পনা শক্তিও বিশাল,তাই দৈত্য দনব দেখতেও আমার সমস্যা হয় না প্রতিদিন রাতেই মনে হয় বাথরুম এ কে যেন হাটাহাটি করতেছে,মাঝে মাঝে গলা খাকরি দেওয়া,নাকি সুরে কান্নার শব্দও শুনতে পাই।ঘটনার শুরু আসলে এখান থেকেই.....আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর রাত........ঘটনার আগের দিন রাতে খুব ভাল ঘুম হয়নি,তাই সারাদিনই কেমন ঘুম ঘুম ভাব ছিল সন্ধ্যার দিকে একটু একটু ঝিমুনি চলে আসে....আমিও তাড়াতাড়ি খেয়ে শুয়ে পড়ি.....আনুমানিক ৭ টার দিকে আমি ঘুমুতে যাই।কি কারনে জানিনা,হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে যায়......ঘুম ভাঙ্গার পর প্রথমেই অনুভব করি আমার শরীরের সবগুলা লোম দাড়িয়ে আছে......শরীরের ভিতর কেমন শির শির করা অনুভুতি,সেটা একবার স্রোতের মত পায়ের পাতা থেকে মাথা পর্যন্ত আসছে,আবার নিচে নামছে!!মনে হল ঘরে আমি একা নই,আরও কেউ আছে,অশরীরী কিছু.....আদি-অন্তহীন কিছু।

শীতের দেশে থাকি....তাপমাত্রা সবসময়ই -১০/-১৫ এর নিচে থাকে...এই প্রচন্ড শীতেও আমি ঘাম দিয়ে গোসল করে ফেল্লাম।ব্যাপারটা বোধয় জর ছাড়ার মতই,ঘাম এর সাথে সাথে যেমন জর চলে যায় আামারও ভয় চলে গেল......ঘড়ি ধরে দেখি মাত্র ৯ টা বাজে...২ ঘন্টার মত ঘুমিয়েছি।অথচ ঘুম থেকে উঠার পর মনে হইছিল মধ্যরাত বুঝি পার হয়ে গেছে।

শুয়া থেকে উঠে ফ্রেশ হলাম......চা করলাম,নিচের দোকান থেকেও ঘুরে আসলাম....ঘুম এর দেখা যে আর পাব না সেটা ভালই বুঝতে পারছিলাম।ল্যাপটপে মুভি নিয়ে বসলাম...ভি ফর ভ্যনডাট্টা।

ঘড়ির কাটা মধ্যরাত হওয়ার খবর জানান দিচ্ছে,এর মাঝেই ঘা ছমছমে ভাবটা আবার ফিরে আসে.....ঠিক ঘা ছমছমে বল্লেও ভুল বলা হবে,কেমন অশরীরী,অপার্থিব অনুভুতি,যেই অনুভুতির জন্ম পৃথিবীতে না অন্য কোথাও....এমন কোথাও যা শুধু অনুভব করা যায়,বলা বা লিখা যায় না।

আমার রুমটা ছিল বিশেষ রুমটার পাশেরটাই।আমার বিছানা পত্র নিয়ে আমি ড্রয়িং রুম এ চলে আসি।অবশ্যই বাথরুম এবং টয়লেটের লাইট জ্বালিয়ে রেখে।নিজেকে সাহস দিচ্ছি এসব কিছুইনা,মানুষ চাদে চলে যাচ্ছে আর আমি এখনো কুসংস্কার নিয়ে পড়ে আছি, ইত্যাদি ইত্যাদি।

লাইট জ্বালিয়ে ঘুমুতে পারিনা বলে লাইট নিভিয়েই শুতে হল......রাত যত ঘভীর হচ্ছে আমার ভয়টাও চক্রবৃদ্ধি হাড়ে বাড়তেছে......ভাবলাম ঘুমুতে চেষ্টা করি,ঘুমের মাঝে নিশ্চয়ই আর ভয় পাব না!!!
এই ঘুমানোর চেষ্টা করাটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভূল ছিল।

রাত তখন ১ টা পার হচ্ছে।আমার তখনো পুরোপুরি ঘুম আসে নি,তন্দ্রা মত আসছিল,হঠাৎ করেই বুমমমম...বিকট শব্দে আমার দ্বিতীয় বারের মত ঘুম ভাগ্ঙল।রুমের ভিতর হুটিপুটি আর সেই সাথে পচা মাংসের গন্ধ আমার নাকে আসে.....চোখ মেলে তাকিয়ে দেখি কিছু একটা আমার ঠিক উপরে ঝুকে আমাকে দেখতেছে...সেকি তীব্র তার চাহনি...নাকহীন,মুখহীন,তার সারা শরীরে রক্ত,যেন সে রক্তের কোন পুকুর থেকে এইমাত্র গোসল করে আসছে,আমার শরীরে ফোটায় ফোটায় সে রক্ত পরতেছে,হঠাৎ ই বুঝতে পারলাম এসব আমার নিজেরই রক্ত।আর আমি তার সেই চোখের দিকে তাকিয়ে কোথায় যেন হারিয়ে যেতে থাকলাম....কেমন একটা জানালা দরজাহীন ভয় এর গহ্বর।যেখানে শুধুই প্রবেশ করা যায় বের হওয়া যায় না।

ঘটনার ৪/৫ পর হসপিটাল এ আমার চেতনা ফিরে.....পরে জানতে পারলাম আমাদের ফ্ল্যাট এর শিরির গোরায় সকাল বেলা প্রতিবেশীরা আমাকে দেখতে পেয়ে এম্বুলেন্স খবর দিয়ে হাসপাতালে পৌছে দেন।
ঐ বাসায় আমার আর যাওয়া হয়নি,এই ঘটনার পরই আমার বাসা পরিবর্তন করে ফেলি।বাসাটা পরিবর্তন করতে পারলেও সেই আদি অন্তহীন ভয় আমাকে আজও তাড়া কেরে ফেরে।

পুন্চশ:শেষ পর্যন্ত লিখেই ফেল্লাম,গল্প আসতে চায় না কলম দিয়ে এইটা চলে আসছে,সম্মানিত পাঠকদের মতামত কামনা করছি।

সর্বশেষ এডিট : ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ২:৩২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:১৮


বাংলাদেশের সমাজে একটি নীরব বিপ্লব ঘটে গিয়েছে। দুই বছর আগে ব্লগে অ্যাকাউন্ট খোলার পর থেকে এই পরিবর্তন নিয়ে কম করে হলেও বিশটির বেশি পোস্ট লিখেছি। এই বিপ্লবের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকেলগুলো থমকে থাকে, আজও তোমার পাড়ায়

লিখেছেন চারাগাছ, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:০০






সেদিন বিকেলেও লোকটা জানালার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল।

পাড়ার মানুষজন তাকে চেনে। চেনার কথাও। গত বাইশ বছর ধরে প্রায় প্রতিদিন বিকেল পাঁচটার দিকে লোকটাকে এই গলিতে দেখা যায়। কখনো হেঁটে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:৫৬

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত



সময় চলেছে তার আপন খেয়ালে,
নদীর স্রোতেরা হারায় কালের বুকে;
আমি শুধু এক অনন্তকাল ধরে,
ডুবে আছি প্রিয়, তোমার চাওয়া পাওয়ার ওই সুখে।

বাহিরের সব নিয়ম চলুক তার মতো,
মহাবিশ্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলার পথে ক্ষণিক দেখা – (১১)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০২

পূর্বের পোস্টঃ ক্ষণিকের দেখা, মায়াময় এ ভুবনে -১০


অবশেষে আমার কিছু কথা শুনে ওরা হাসিতে ফেটে পড়লো। সবার মুখে ছিল উজ্জ্বল হাসি।

আজ দুপুরে একটি এলাকার মাসজিদ সংলগ্ন পুকুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০২

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০২



আমাদের চারপাশে অনেক কিছু আছে।
যা আমরা দেখতে পাই না। ব্যাকটেরিযয়া, ভাইরাস, ডার্ক ম্যাটার, অণু ও পরমাণুর কথা বলছি না। আমি বলছি, মৃত মানুষের কথা। প্রতিদিন বিশ্বে গড়ে দেড়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×