আমরা হোটেল রেস্টুরেন্ট খাবার খেয়ে ভ্যাট দিয়ে থাকি, প্রায় যে কোন কেনাকাটায় ভ্যাট দিয়ে থাকি, প্রতিটা ফোন কলে ভ্যাট দিয়ে থাকি! ধনী গরীর ব্যাপার না, বর্তমান বাংলাদেশে বেঁচে থাকতে হলে আমাদের দিয়ে যেতেই হচ্ছে! আমরা যারা ট্যাক্স দিয়ে থাকি, তারাও এই ভ্যাট প্রতিদিন কোন না কোনভাবে দিয়ে যাচ্ছিই!
কিন্তু এই ভ্যাট কি সরকারের কোষাগারে ঠিক মত যায় কি না সেটা আমি আজও নিশ্চিত হতে পারলাম না! হোটেল রেস্টুরেন্ট কেনা কাটায় এযাবৎ যত ভ্যাট দিলাম আমার মনে হয় সেটা দোকানীরাই নিয়ে নিচ্ছে এবং আমি দেখি একটা দোকান খুলে পরবর্তী বছর এরা আরো একটা দোকান অন্য এলাকায় খুলে ফেলছে! কত টাকা লাভ করলে এমন হতে পারে, ভেবে দেখার বিষয়! লাভ শতভাগ আবার ভ্যাটের টাকা, আহা, কি লাভে লাভ!
আমার কিছু দোকানী বন্ধু আছে, যাদের আমি এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে চুপ হয়ে পড়ে, কথা বলে না! পাঁচ ওয়াক্ত নামাজী বন্ধুও এই বিষয়ে কিছু বলে না কারনে সে টাকাটা নিজের পকেটে নিয়ে নিচ্ছে আর মাসের শেষে মোটামুটি সামান্য কিছু টাকা ভ্যাট হিসাবে জমা করছে, অবশ্য খানিক টাকা ঘুষ হিসাবেও কর্মকর্তার পকেটে যাচ্ছে! এই ঢাকা শহরে বড় বড় মার্কেট, দোকান সবার মোটামুটি একই অবস্থা! সে টাকা সরকারের সরাসরি পাবার কথা, সেটা অন্যেরা নিয়ে যাচ্ছে!
বলার কিছু দেখি না, কথা বললেই দোষ ধরার লোক বেড়ে যাবে! সরকারের ভ্যাট নেবার রীতিটা আরো ডিজিটাল করে ফেলা দরকার, কিন্তু সেটা কখন হবে, কিভাবে হবে সেটাও বুঝতে পারছি না! ডিজিটাল সিস্টেমে আবার মোবাইল কোম্পানী গুলো নিয়েও সরকারকে দিচ্ছে না, কোটি কোটি তারাও মেরে দিচ্ছে বা দেবার পায়তারা করছে!
যাই হোক সাধারণ হোটেল, রেস্টুরেন্ট বা দোকানে একটা আলাদা বাক্স (যার চাবি সরকারের কাছেই থাকবে) করে দেয়া যেতে পারে, ভ্যাট আমরা সেখানে ফেলে আসবো! সরকার প্রতি সপ্তাহে সেটা খুলে নিয়ে যাবে! তবুও মনে কিছু সান্তনা পাব যে, আমার টাকা সরকারের কাছেই যাচ্ছে বা যাবে! এটা অনেকটা নানাবিধ দরবেশ পীর মাজারের মত হলেও মন্দ কি! (দোহাই হাসবেন না!)

(ছবি নেট থেকে)
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে আগস্ট, ২০১৮ দুপুর ২:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



