somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাহাদাত উদরাজী
সাহাদাত উদরাজী'র আমন্ত্রণ! নানান বিষয়ে লিখি, নানান ব্লগে! নিজকে একজন প্রকৃত ব্লগার মনে করি! তবে রান্না ভালবাসি এবং প্রবাসে থাকার কারনে জীবনের অনেক বেশী অভিজ্ঞতা হয়েছে, যা প্রকাশ করেই ফেলি - 'গল্প ও রান্না' সাইটে! https://udrajirannaghor.wordpress.com/

সাদাত হোসাইনঃ একজন অপারগ লেখক

১৯ শে এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ২:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশের কথা সাহিত্যে অনেক বড় শূন্যস্থান এখনো, যদিও মাঝে মাঝে দুই একজন এই স্থানে উঁকি দিয়েছেন। বছর দুয়েক আগে লেখক সাদাত হোসাইনের দুইটা বই পড়ে আমার সামান্য মনে হয়েছিল, এই লেখক যদি চেষ্টা করে যান তবে একদিন অনেক ভাল স্থানে পৌঁছে যেতে পারবেন। এর পর এই দুই বছর আমি এই লেখককে অনলাইনে ও নানা মিডিয়া, চ্যানেলে, পত্রপত্রিকায় খেয়াল করে আসছিলাম, এখন আমার বিশ্লেষন এই লেখক আর কোনদিন মানুষের মন জয় করতেই পারবে না, যদিও এটা গত ফ্রেবুয়ারীর বইমেলাতেই ফয়সালা হয়ে গেছে, ঘটনা বা দূর্ঘটনা হয়ত আপনারা জানেন।



১। হুমায়ুন আহমেদকে ফলো করে লেখা গুলো খুব একটা উচ্চু মাত্রায় পাঠকের মনকে নাড়া দিতে পারে নাই, তার বর্ননা ও বোঝার গুনটা প্রথমে কিছু পাঠকে টানতে পারলেও পরে আর পারে নাই, কারন সে খুব খুব সাধারন মাত্রায় ছিলো, পাঠকের মন কাড়ার জন্য যে মাত্রার লেখা দরকার তা তার লেখার মধ্যে আর নেই। লেখা লেখিতে যে বিজ্ঞতার ছাপ থাকা দরকার সেটা অনুপস্থিত হয়ে পড়ছিলো।

২। লেখালেখির চেয়ে এই বয়সেই তার মিডিয়া ও পুরুস্কারের প্রতি তীব্র আকর্ষন প্রকাশ্যেই ফুটে উঠেছে, যা তার চেয়ে একটু বেশি বয়সী পাঠক বা বোদ্ধাদের নজরে এসেছে। প্রথম আলো গোষ্ঠী সহ সস্তা এটিএনকে সে সহজে আপন করে নিয়েছে। লেখার চেয়ে টাকা আপনা, আগেই বুঝে গেছে, ফলে যা হবার তা হয়েছে।

৩। তাকে নানান সময়ে ইঁচড়ে পাকা মনে হয়েছে, যে সময়ে আরো আরো লিখে লিখে মানুষের মনের কাছে চলে যেতে পারত, সেই সময়ে অনুষ্ঠান উপস্থাপনা ও সমসাময়িক বিষয়ে ভুল চিন্তা তাকে মানুষ বা পাঠক থেকে দূরে নিয়ে গেছে। লেখকেরা যে এই সমাজের মুল হিরো তা সে সময়ে বুঝতে পারে নাই বা এখনো পারছে বলে মনে হয় না। জনপ্রিয়তা বা পাঠকের পালস বোঝাও যে একটা ব্যাপার তা সে কখনো বুঝতে পারছে বলে মনে হয় নাই।

৪। তিনি নিজকে কবি বলে থাকেন, কবিতা লিখেছেন। কবিতার বই আছে বা উপন্যাসে তিনি মাঝে মাঝে কবিতা জুড়ে দেন। আমার কাছে তার লিখিত এই সব কবিতা নিন্মমানের মনে হয়েছে। কবিতার উপর সামান্য পড়াশুনা আছে বলে আমি মনে করি না। হ্যাঁ, স্বীকার করি, কবিতা মানে দূর্বোধ কিছু নয়, তবে এর মধ্যে নিশ্চিতে একটা ভাব থাকতে হবে, সেটা আমি উনার কবিতায় পাই নাই, লাইন বাই লাইন কিছু একটা লিখে ফেল্লেই যে কবিতা হয় না তা বুঝতে হলে তাকে অন্তত মারজ্জুকের কবিতা গুলো পড়তে হবে, পূর্বের কবিদের কথা না হয় থাক!

৫। সমাজ বা শ্রেনী নিয়ে কথা বলতে গেলে তার পিছনের ইতিহাস সঠিক জানা দরকার, জানা দরকার সমাজে এখনো তারা বা সেই শ্রেনী কি করে আছে বা কেমন ছিলো। হুঠাট করে কাউকে কিছু বলা উচিত নয়, তবে এই বলাটা সব সময়েই যদি সমাজের উচ্চু শ্রেনীর বা ক্ষমতাসীনদের দিকে যেত তবে জ্ঞানের পরিসীমা বোঝা যেত। সেটাতে তিনি মনে হয় ভয় পান, কারন তিনি সব সময়েই হয়ত তাদের পোষ্য হয়ে থাকতে চান, ফলে তাদের ভুল গুলো নিয়ে তিনি কখনোই সরব নন। এতে পাঠক তা মুল চরিত্র হয়ত বুঝে যাচ্ছে!

যাই হোক, অনেক বড় লেখা আপনারা পড়েন না, জানি। আমি একজন ব্লগার হিসাবে।/ পাঠক হিসাবে লিখে দিলাম। বাকী বিশ্লেষন আপনার কচি সুরুচি।! তবে ইমদাদুল হক মিলনের বিষয়ে আমি বহু পূর্বে আমার বিশ্লেষন দিয়েছিলাম যে, তিনি বিবাহের পর মুল নষ্টটা হয়েছেন, টাকার বা চাহিদার কাছে তিনি নিজকে হারিয়ে ফেলেছেন এবং সেটা আপনারা তার কর্মে দেখেছেন নিশ্চয়! এখন তিনি ধনী, বড় ধনী লোকের বেয়াই বটে, সাধারন মানুষের মনে কিন্তু তার আর স্থান নেই, অথচ কত সুযোগ ছিল, কত কি জীবনবোধ তিনি আমাদের উপহার দিতে পারতেন! একজন লেখক অমরত্ব চাইবেন না বর্তমান সময়ে শুধু টাকা রুজি করে বেঁচে থাকবেন, তা তার স্বাধীনতা, এই বিষয়ে আমার কিছু বলার নাই, তবে এক জন পাঠক হিসাবে আমি বলতেই পারি!

(সামুতে অদ্য ব্লগ হিসাবে প্রকাশিত, ছবি লেখকের টুইটার ও ফেবু ফিড থেকে)

সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ২:২৫
১২টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পর্শে_ _ _ _ _

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০

-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরীচকাি ও নক্ষত্র

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:১০


মেয়েটি অত্যন্ত শান্ত ভঙ্গিতে টিস্যু পেপার দিয়ে ঠোঁটের কোণ মুছে নিল। তারপর সরাসরি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে অবলীলায় বলল, "নীল, আমি প্রেগন্যান্ট!"
আমি তখন চায়ের কাপে সবেমাত্র একটা অসতর্ক চুমুক দিয়েছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×