বাংলাদেশের কথা সাহিত্যে অনেক বড় শূন্যস্থান এখনো, যদিও মাঝে মাঝে দুই একজন এই স্থানে উঁকি দিয়েছেন। বছর দুয়েক আগে লেখক সাদাত হোসাইনের দুইটা বই পড়ে আমার সামান্য মনে হয়েছিল, এই লেখক যদি চেষ্টা করে যান তবে একদিন অনেক ভাল স্থানে পৌঁছে যেতে পারবেন। এর পর এই দুই বছর আমি এই লেখককে অনলাইনে ও নানা মিডিয়া, চ্যানেলে, পত্রপত্রিকায় খেয়াল করে আসছিলাম, এখন আমার বিশ্লেষন এই লেখক আর কোনদিন মানুষের মন জয় করতেই পারবে না, যদিও এটা গত ফ্রেবুয়ারীর বইমেলাতেই ফয়সালা হয়ে গেছে, ঘটনা বা দূর্ঘটনা হয়ত আপনারা জানেন।

১। হুমায়ুন আহমেদকে ফলো করে লেখা গুলো খুব একটা উচ্চু মাত্রায় পাঠকের মনকে নাড়া দিতে পারে নাই, তার বর্ননা ও বোঝার গুনটা প্রথমে কিছু পাঠকে টানতে পারলেও পরে আর পারে নাই, কারন সে খুব খুব সাধারন মাত্রায় ছিলো, পাঠকের মন কাড়ার জন্য যে মাত্রার লেখা দরকার তা তার লেখার মধ্যে আর নেই। লেখা লেখিতে যে বিজ্ঞতার ছাপ থাকা দরকার সেটা অনুপস্থিত হয়ে পড়ছিলো।
২। লেখালেখির চেয়ে এই বয়সেই তার মিডিয়া ও পুরুস্কারের প্রতি তীব্র আকর্ষন প্রকাশ্যেই ফুটে উঠেছে, যা তার চেয়ে একটু বেশি বয়সী পাঠক বা বোদ্ধাদের নজরে এসেছে। প্রথম আলো গোষ্ঠী সহ সস্তা এটিএনকে সে সহজে আপন করে নিয়েছে। লেখার চেয়ে টাকা আপনা, আগেই বুঝে গেছে, ফলে যা হবার তা হয়েছে।
৩। তাকে নানান সময়ে ইঁচড়ে পাকা মনে হয়েছে, যে সময়ে আরো আরো লিখে লিখে মানুষের মনের কাছে চলে যেতে পারত, সেই সময়ে অনুষ্ঠান উপস্থাপনা ও সমসাময়িক বিষয়ে ভুল চিন্তা তাকে মানুষ বা পাঠক থেকে দূরে নিয়ে গেছে। লেখকেরা যে এই সমাজের মুল হিরো তা সে সময়ে বুঝতে পারে নাই বা এখনো পারছে বলে মনে হয় না। জনপ্রিয়তা বা পাঠকের পালস বোঝাও যে একটা ব্যাপার তা সে কখনো বুঝতে পারছে বলে মনে হয় নাই।
৪। তিনি নিজকে কবি বলে থাকেন, কবিতা লিখেছেন। কবিতার বই আছে বা উপন্যাসে তিনি মাঝে মাঝে কবিতা জুড়ে দেন। আমার কাছে তার লিখিত এই সব কবিতা নিন্মমানের মনে হয়েছে। কবিতার উপর সামান্য পড়াশুনা আছে বলে আমি মনে করি না। হ্যাঁ, স্বীকার করি, কবিতা মানে দূর্বোধ কিছু নয়, তবে এর মধ্যে নিশ্চিতে একটা ভাব থাকতে হবে, সেটা আমি উনার কবিতায় পাই নাই, লাইন বাই লাইন কিছু একটা লিখে ফেল্লেই যে কবিতা হয় না তা বুঝতে হলে তাকে অন্তত মারজ্জুকের কবিতা গুলো পড়তে হবে, পূর্বের কবিদের কথা না হয় থাক!
৫। সমাজ বা শ্রেনী নিয়ে কথা বলতে গেলে তার পিছনের ইতিহাস সঠিক জানা দরকার, জানা দরকার সমাজে এখনো তারা বা সেই শ্রেনী কি করে আছে বা কেমন ছিলো। হুঠাট করে কাউকে কিছু বলা উচিত নয়, তবে এই বলাটা সব সময়েই যদি সমাজের উচ্চু শ্রেনীর বা ক্ষমতাসীনদের দিকে যেত তবে জ্ঞানের পরিসীমা বোঝা যেত। সেটাতে তিনি মনে হয় ভয় পান, কারন তিনি সব সময়েই হয়ত তাদের পোষ্য হয়ে থাকতে চান, ফলে তাদের ভুল গুলো নিয়ে তিনি কখনোই সরব নন। এতে পাঠক তা মুল চরিত্র হয়ত বুঝে যাচ্ছে!
যাই হোক, অনেক বড় লেখা আপনারা পড়েন না, জানি। আমি একজন ব্লগার হিসাবে।/ পাঠক হিসাবে লিখে দিলাম। বাকী বিশ্লেষন আপনার কচি সুরুচি।! তবে ইমদাদুল হক মিলনের বিষয়ে আমি বহু পূর্বে আমার বিশ্লেষন দিয়েছিলাম যে, তিনি বিবাহের পর মুল নষ্টটা হয়েছেন, টাকার বা চাহিদার কাছে তিনি নিজকে হারিয়ে ফেলেছেন এবং সেটা আপনারা তার কর্মে দেখেছেন নিশ্চয়! এখন তিনি ধনী, বড় ধনী লোকের বেয়াই বটে, সাধারন মানুষের মনে কিন্তু তার আর স্থান নেই, অথচ কত সুযোগ ছিল, কত কি জীবনবোধ তিনি আমাদের উপহার দিতে পারতেন! একজন লেখক অমরত্ব চাইবেন না বর্তমান সময়ে শুধু টাকা রুজি করে বেঁচে থাকবেন, তা তার স্বাধীনতা, এই বিষয়ে আমার কিছু বলার নাই, তবে এক জন পাঠক হিসাবে আমি বলতেই পারি!
(সামুতে অদ্য ব্লগ হিসাবে প্রকাশিত, ছবি লেখকের টুইটার ও ফেবু ফিড থেকে)


অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

