কিছু ব্যাপার আছে যা আপনাকে বয়স বাড়ার সাথে সাথে বুঝিয়ে দিবে, যদি আপনি মননশীল মানুষ হয়ে থাকেন, তবে বিষয় গুলো আপনার কাছে ধীরে ধীরে ধরা দিবে, অভিজ্ঞতায় আপনি আপনার পূর্বের ধারনায় স্থির থাকতে পারবেন না! মানুষের জীবনে তেমনি একটা ব্যাপার হচ্ছে 'সন্তান'! সন্তান বড় হয়ে দুনিয়ার কাছে অনেক বড় কিছু হলেও ভেতরের খবরটা হয়ত আপনিই জানবেন যে, সে সুসন্তান নয়!
কোলে পিঠে মানুষ করা সন্তান যখন বড় হতে থাকবে তখন আপনি অবাক হয়ে হয়ত লক্ষ করবেন যে সে মানব জীবনের মুল ভাল গুনাবলী গুলো নিচ্ছে না (কেহ কেহ যে নেয় না তা নয়, আমি তাদের কথা বলছি না)! আপনি যতই তাকে ভালবেসে তার পথ সুন্দর করার এবং তার পিছনে শ্রম দেবেন বা তাকে বলে কয়ে সঠিক রাস্তায় রাখার চেষ্টা করবেন, দেখবেন সে তার পথেই চলে যাচ্ছে! এটাই হয়ত বিধাতার খেলা!
বিস্তারিত আপনি নিজেই একটু চিন্তা করলে বুঝতে পারবেন, যে ছেলে বা মেয়েকে (১৪ বছরের আগে পর্যন্ত হয়ত একটা কন্ট্রোলে থাকে, এর পরের বয়সের কথা বলছি) আপনি ভাল চারিত্রিক গুনাবলী বা নিজের অভিজ্ঞতা থেকে কি কি করা যেতে পারে বা তার সামনের দুনিয়ায় সে বেঁচে থাকতে হলে কি কি করলে সে ভাল থাকবে ইত্যাদি প্রায় বুঝান, সে হয়ত এই সবকে ফালতু প্যাচাল মনে করবে। তার উন্নত জীবনের আশায় আপনি তার পিছনে যে টাকা শ্রম দেন, সে হয়ত এটাকে পাওনা বা অহেতুক মনে করে! বা এই নিয়ে তার কোন চিন্তা বা বিকার নেই!
আপনি হয়ত অবাক হয়ে সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকবেন এক সময়ে, এই আমার সেই সন্তান, যার মধ্যে তো দেখি সামান্য দয়ামায়াও নেই বা নেই সামান্য বিবেকবোধ! অথচ ১৪/১৫ বছর পর্যন্ত আপনি নিজেই তাকে মুখে তুলে খাইয়ে দিয়েছেন, নিজের খাবারের সময়টাও মনে রাখেন নাই অথবা সময়ে আপনি আপনার খাবার টুকূও গ্রহন করেন নাই! আপনার পড়ন্ত সময়ে তার ব্যবহারের কারনে আপনি হয়ত আরো পড়ে যাচ্ছেন বা চলেও যাবেন!
সন্তানকে বিবেকবান (যে কোন বিষয়ে) করে তোলা আমি মনে করি না যে, মাতা পিতার একক কোন দান! তবে এই বয়সে এসে বা আমি আমার অভিজ্ঞতায় এটা বলতে চাই, সুসন্তান বিধাতার দান, তিনি যাকে ইচ্ছা তাকেই সুসন্তান (ভাল জ্ঞান) দিয়ে থাকেন! আপনি আমি চাইলেও হয় না বা পাওয়া যাবে না! তবে সন্তানের মুল মৌলিক চরিত্র গঠনে মায়ের ভূমিকার একটা আলাদা দম আছে, মা যদি সু (নীতি, জ্ঞানী, বিবেচক) হয়ে থাকেন, সন্তান কিছুটা হলেও বাধ্য হবে হয়ত বা হয়! পিতার কোন কথাই সন্তান সামান্যও কানে নেয় বলে মনে হয় না!
আপনারা যারা এখন পিতা মাতা হিসাবে ৪০-৫০ এই এইজ গ্রুপে আছেন, আপনাদের সন্তান ১৪/১৫ বছরে নীচে, আপনাদের বলবো, সন্তানের জন্য করুন তবে নিজকে হারিয়ে ফেলে নয়, নিজের সেভিংস, নিজের বুদ্ধিমাত্রা কাজে লাগান, নতুবা এক সময়ে কান্না ছাড়া আর কিছু থাকবে না। সন্তানের বয়স ১৪/১৫ হয়ে গেলেই আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন, সে কোন চরিত্রের হয়ে পড়ছে! সে আপনার ভাল দিক গুলোর উপদেশ কিভাবে নিচ্ছ, সেটার প্রতিউত্তর দেখেই বুঝতে পারবেন, সে কোন পথে! যদি দেখেন, এর কিছুই সে নিচ্ছে না, তবে তাকে তার পথেই চলে যেতে দিন (প্রেম, ড্রাগ, পড়াশুনাতে অমনোযোগী ইত্যাদিতে কি করবেন জানি না, কারন এই বিষয় নিয়ে আমি এখনো চিন্তা করি নাই), আপনি আপনাকে দাঁড় করান, ওর পিছনে সময়, টাকা দিয়ে আপনি নিজকে একদম নিঃস্ব করে ফেলবেন না!
হ্যাঁ, সন্তান একদিন হয়ত অনেক বড় হবে! প্রধানমন্ত্রী (তওবা, এই সুযোগ হয়ত আমজনতার আর চিন্তার বিষয় না), স্বাস্থ্যমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রী, এম্পি, এসপি, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ইত্যাদি ইত্যাদি হতে পারে, তবে সে হয়ত আপনার কাছে, আপনার বিবেচনায় কখনো সুসন্তান নয় বা হবে না! এই যে আমাদের বাস্তবতা কিংবা বিধাতার খেলা!
সময় থাকতে সতর্ক হউন। পরিশেষ এই বলে দুঃখ করি, নিজকে নিয়ে চিন্তা করলেও মনে হয়, আমি নিজেও কি সুসন্তান, যে 'মা' নিজে না খেয়ে আমাকে খাইয়েছেন, যে 'বাবা' নিজে না পরে আমাকে পরিয়েছেন, তাদের জন্য আমরা কি করছি বা কি করা উচিত ছিলো, তাদের প্রতি এখন কতটা মানবিক, শুধু সামনে দেখছি, পিছনের কোন ঘটনাই যেন ঘটে নাই! তারা কি আমাকে 'ভাল' বলছে বা 'সুসন্তান' মনে করছে!
সবাইকে শুভেচ্ছা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

