জন্মহার (Birth Rate) কমে যাওয়ার পেছনে অনেক সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কারণ রয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশ, বিশেষ করে উন্নত দেশগুলো, এ সমস্যার মুখোমুখি।
প্রধান কারণগুলো হলো:
* শিক্ষার হার বৃদ্ধি
নারীদের শিক্ষার হার বাড়লে তারা সাধারণত দেরিতে বিয়ে করেন এবং কম সন্তান নিতে আগ্রহী হন। পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পায়।
* শহুরে জীবনযাত্রা
শহরে বসবাসের খরচ বেশি। ছোট বাসা, কর্মব্যস্ত জীবন এবং সন্তান লালন-পালনের উচ্চ ব্যয় মানুষকে কম সন্তান নিতে উৎসাহিত করে।
* নারীদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি
অনেক নারী ক্যারিয়ারকে অগ্রাধিকার দেন। সন্তান জন্ম ও প্রতিপালনের কারণে কর্মজীবনে প্রভাব পড়তে পারে বলে অনেকেই সন্তান সংখ্যা সীমিত রাখেন।
* বিয়ের বয়স বৃদ্ধি
আগের তুলনায় মানুষ দেরিতে বিয়ে করছে। ফলে সন্তান নেওয়ার সময়কালও কমে যাচ্ছে।
* সন্তান প্রতিপালনের ব্যয় বৃদ্ধি
শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য ও বাসস্থানের খরচ বেড়েছে। অনেক দম্পতি অর্থনৈতিক চাপের কারণে এক বা দুই সন্তানের বেশি নিতে চান না।
* জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির সহজলভ্যতা
আধুনিক পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি সহজে পাওয়া যায়। ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ কমে গেছে।
* জীবনধারা ও মূল্যবোধের পরিবর্তন
বর্তমানে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার এবং আর্থিক স্থিতিশীলতাকে অনেকেই বেশি গুরুত্ব দেন। বড় পরিবার গঠনের আগ্রহ তুলনামূলক কমেছে।
* অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা
বেকারত্ব, চাকরির অনিশ্চয়তা, বাড়ির দাম বৃদ্ধি ইত্যাদি কারণে অনেক পরিবার সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেয়।
* বন্ধ্যাত্ব ও স্বাস্থ্যগত সমস্যা বৃদ্ধি
দেরিতে সন্তান নেওয়া, মানসিক চাপ, পরিবেশগত দূষণ এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে জন্মহার কমতে পারে।
বাংলাদেশেও শিক্ষার প্রসার, শহুরে জীবনযাত্রা, নারীদের কর্মসংস্থান এবং পরিবার পরিকল্পনার সফলতার কারণে গত কয়েক দশকে জন্মহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে এটি জনসংখ্যা বৃদ্ধির চাপ কমালেও দীর্ঘমেয়াদে অতিরিক্ত কম জন্মহার হলে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার মতো নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।


অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


