somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শিবিরের মানবতা-1

০৮ ই নভেম্বর, ২০০৬ সকাল ৭:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

2004সালের শেষের দিকের ঘটনা। আমি তখন গণযোগাযোগ বিভাগের সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি। ফাস্ট হয়ারে থাকতেই আমরা ক্লাশমেটরা মিলে একটা দ্্বিমাসিক পত্রিকা বের করেছিলাম।পত্রিকাটা বেশভালোই চলছিল। 5ম সংখ্যা বের করার পর সিদ্ধান্ত নিলাম এই সংখ্যঅ বিক্রির টাকা দিয়ে এবার শীতার্থদের জন্য কিছু করবো।
ভাবনা মত কাজ শুরু করলাম।সিদ্ধান্ত নিলাম গরম কাপড় চোপড় বিতরণ করার। কাজ শুরু হলো ক্যাম্পাসে। পরে হলের প্রত্যেক রুমে রুমে গিয়ে কালেকশন করা শুরু করলাম। প্রথম দিন ভালোই হলো কালেকশন। তবে মাঝরাতে পত্রিকার সম্পাদক আমার বন্ধু ফোন করলো শিবির এসে ওকে এই কাজ বন্ধ করার জন্য থ্রেট করে গেছে। তারপরও কাজ চালাতে লাগলাম। ঢুকলাম হবিবুর রহমান হলে ও জিয়া হলে। আমি ছিলাম জিয়া হলের কালেকশনে। 5 মিনিট পরেই দেখছি হবিবুর থেকে পুরো টিমই মুখ কালো করে বেরিয়ে আসছে। জিজ্ঞাসা করতেই জানলাম, এটা যেগেতু গণযোগাযোগ বিভাগের সংগঠন, সুতরাং এটা বামদের সংগঠন। তাই বামদের হলে ঢুকতে দেয়া হবে না। একথা বলে শিবিরের এক নেতা পুরো টিমকেই হল থেকে বের করে দিয়েছে। জিয়া হলের কালেকশন শেষ করেই সেদিন বিদায় নিলাম।
পর দিন গেলাম সোহরাওয়াদর্ী ও জোহা হলে।আমি জোহা হলে গিয়ে কাজ শুরু করলাম। 2/3টা রুমে কালেকশন করার পরেই বাধা এলো। এক শিবির নেতা জানালো তারা যেহেতু কালেকশন করবে তাই আমাদের কাজ বন্ধ করতে হবে। জোহা হল থেকে বের হয়ে আসলাম। পরে শুনি সোহরাওয়াদর্ী হলেও একই অবস্থা।
পরে এই বিষয়টা নিয়ে কথা বললাম শিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার তৎকালীন সভাপতি রেজাউল করিমের সাথে। উনি বললেন, আপনারা ছোট সংগঠন তাই এ কাজ ভালোভাবে করতে পারবেন না। আমরা করব।' তাই কাজ বন্ধ করতেই হলো।
শেষমেশ সিদ্ধান্ত নিলাম সবার পকেটের টাকা দিয়েই শীতবস্ত্র বিতরণ করবো।শেষপর্যন্ত খাওয়ার টাকা, মেসভাড়ার টাকা দিয়ে শীতবস্ত্রকিনে আনলাম। অনেকে গোপনে ব্যাগে করে কাপড় চোপড় এনে দিয়ে গেল এখবর শোনার পর। পরে লালমনিরাহাটে গিয়ে 2টা গ্রামের প্রায় দেড় হাজার মানুষের কাছে শীতবস্ত্র বিতরণ করলাম।
একটা গরম সোয়েটার পাবার পর মানুষের মুখের হাসিতেই প্রাণ ভরে গেছে। আর শিবির সে বছর রাজশাহী শহরের 5 শ' লোককেও শীতবস্ত্র দেয় নি। যা দিয়েছিল আমাদের আগেই দিয়েছিল। পরে আর দেয় নি।
এই হলো শিবিরের মানবতার একটা অংশ।বাকি অংশ পরবতর্ীতে আপনাদের জানাবো।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৪:০১
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ খোকার অভিমান

লিখেছেন ইসিয়াক, ২০ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৬:৪৬


খোকা খাবে মুড়ি মুড়কি, মা দিলো খই
এই নিয়ে অশান্তি, ব্যাপক হই চই।

বাবা যাচ্ছে হাটে, খোকা পিছু ছোটে
বকা খেয়ে ঘরে ফিরে কাঁদছে মাথা খুঁটে। 

কত কাজই... ...বাকিটুকু পড়ুন

অপারেশন ইকারুস: বালির নীল গোলকধাঁধা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:১২



কুয়ালালামপুর অপারেশনের ঠিক সাতদিন পর। ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের ‘নগুরা রাই’ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যখন একটি প্রাইভেট চার্টার্ড বিমান ল্যান্ড করল, তখন বালির আকাশ জুড়ে গোধূলির রক্তিম আলো।

বিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

যদি কামের কাম না হয়, সংখ্যা দেখলে বিগাড় ওঠে

লিখেছেন অপলক , ২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:২২



বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল বর্তমানে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট। এতেই রুগিরা সেবা পায়না, অপরিচ্ছন্ন, লোকবল নেই, যন্ত্রাংশ নষ্ট, ওষূধ নেই, ১৫০০ শষ্যাবিশিষ্ট করে লাভ কি? সেবা নিশ্চিত হবে না...

এখন ডাক্তাররা... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুমি কার জন্য বাঁচো? কীভাবে এ-আই দিয়ে কভার সং তৈরি করি?

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৩৩

প্রথমত, এ-আই দিয়ে গান তৈরি করা অনেক সহজ। আপনি নিজে কোনো লিরিক না লিখে, কোনো সুর তৈরি না করেও এ-আই-তে প্রম্পট দিয়েই গান তৈরি করে ফেলতে পারেন। তবে সেটা আপনার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পলাশবাড়ীর মূর্তি বিতর্ক, ধর্মীয় স্থাপনার আড়ালে কি অন্য কোনো নীলনকশা?

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:১৪

সাম্প্রতিক ভূরাজনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার সমীকরণে হাইব্রিড ওয়ারফেয়ারবা অপ্রতিসম যুদ্ধকৌশল এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যার প্রধান লক্ষ্যবস্তু রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সামাজিক ফাটল ও অননুমোদিত কাঠামোর মাধ্যমে মানুষের মনস্তত্ত্ব নিয়ন্ত্রণ করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×