ইলিশের সোয়াদের কথা ভাবলেই আমাদের যাদের নোলা ভরে যায় জলে, তাদের জন্যই এই লেখাটি লেখা হলো। বাদবাকিদের এ লেখা না পড়লেও চলবে।
'ইল' মানে জলে নামা বা জলের ভিতরে আর 'ঈশ' মানে শাসক বা রাজা।মানে 'ইল' আর 'ঈশ' মিলে যে ইলীশ ( এটাই এখনকার ইলিশের তখনকার সঠিক বানান), সে হয় জলের রাজা। ইলিশের আর এক মানে হল তেলান বা চকচকে। অবশ্য আমরা যারা ইলিশের একনিষ্ঠ ভক্ত, তাদের কাছে ইলিশের একটাই মানে - জিভের অরগ্যাজম।
ইলিশের সঙ্গে আমার পরিচয়, অন্যান্য বাঙালি ছেলেমেয়েদের মতোই, বহুদিনের। আমার বাবা ছিলেন বাঙাল আর মা ছিলেন ঘটি। তার মানে বাঙালের 'বা' আর ঘটির 'ঘ' জুড়ে আমি হলাম গিয়ে 'বাঘ'। মানে শক্তিধর কোনো জীব নয়, এক প্রায়-বিলুপ্ত প্রাণী। এহেন সংকরবাঘ আমি, আমার হাইব্রিড পরিসরটিতে কোনোদিন ঘটি-বাঙাল লড়াইকে প্রশ্রয় দিয়ে পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে উঠিনি। তাই ইলিশ আর চিংড়ি দুই মাছেরই নিরন্তর প্রবাহ ছিল আমার শৈশবে। তবে ইলিশটাই আসতো বেশি কারণ ইলিশ ছাড়া যে দুনিয়ায় আর কোনো মাছ পাওয়া যায় আমার মা সে কথা বিশ্বাস করতেন না। মা এমনিতে পাকা রাধুঁনি ছিলেন না কিন্তু ইলিশ রান্নার সময় তাঁর হাত যেত খুলে। ইলিশ মাছ রান্না করা নাকি খুব সহজ। দাদু বলতেন, ইলিশ মাছ নাকি বগলের ভাপেই সেদ্ধ হয়ে যায়। আর কতোরকম করেই যে সে ইলিশ আমাদের বাড়িতে রান্না করা হতো।
(ক্রমশ)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


