somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মিথিলাকে নিয়ে......

২১ শে জানুয়ারি, ২০০৭ সকাল ১০:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি শম্পা (ছদ্মনাম) । মিথিলার কাজিন ।
আমার আসল নাম দিলাম না ।
কারণ আমি মাহমুদুল হাসান রুবেলের মত বোকা নই ।
মিথিলা সম্পর্কে কিছু বলার জন্য এই ব্লগটা আমি ওপেন করেছি ।
আমার বোনটাকে খুব অপমান করা হয়েছে এখানে ।
কী দোষ ছিল ওর ?
আমি এজন্যে প্রধানত দায়ী করি অথরিটি এবং রুবেলকে ।
তার আগে সবার কিছু প্রশ্নের উত্তর দেই যা রুবেল দিতে পারেনি ।
কারণ তা রুবেলের কল্পনার বাহিরে ছিল ।


মিথিলা রক্ষণাত্মক এবং ধার্মিক পরিবারের মেয়ে ছিল । দুই বোন এবং এক ভাই ওরা ।
ও মেজো । ভাই সবার বড় এবং বিবাহিত ।
"মিথিলা" ওর পারিবারিক নাম না । রুবেল ওকে আদর করে এই নাম দিয়েছিল ।
রুবেল ওকে "মিথ" এবং "মিথিলা" নামে ডাকতো ।
রুবেলকে ও খুব ভালবাসতো । কিন্তু রুবেল প্রথমে রাজী হয়নি ।
তবে পরে রুবেলের বন্ধু তাহজিনার কারণে মিথিলা এবং রুবেলের মাঝে বিশেষ সম্পর্ক গড়ে উঠে ।
মিথিলা ইন্টারনেট একদমই ব্যবহার করতো না ।
মাঝে মধ্যে শুধু ইমেইল চেক করতো ওর ভাইয়ের মেইলের জন্য ।
রুবেল ওকে এই সাইটের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় ।
মিথিলা রুবেলকে খুশি করার জন্য কিছু না কিছু লিখার চেষ্টা করতো ।
বাংলাদেশে থাকার সময় মিথিলা প্রায়ই আমার বাসায় চলে আসতো নেট ব্যবহারের জন্য ।
কারণ আমি বাংলা টাইপ জানতাম ।
ও হাতে লিখে নিয়ে আসতো ।
তারপর দুজনে মিলে সংশোধন করে লেখা দিতাম নেটে ।
এভাবে দুজনের খুব ভালই যাচ্ছিল ।


কিন্তু মিথিলার অসুখের কারণে ওর ভাইয়ের কাছে চলে যায় ।
তখন সব দায়িত্ব পড়ে আমার উপর ।
মিথিলা ফ্যাক্স করে ওর লেখা পাঠাতে থাকে আমার অফিসে নিয়মিতই ।
আর রুবেল কোন লেখা দিলে আমাকে ফোন দিয়ে ওকে পড়িয়ে শোনাতে হতো ।
তারপর বলতো কী মন্তব্য করতে হবে ।
তারপর মিথিলা হঠাৎ করে মারা যায় কিডনি ফেইলারের কারণে ।
জানুয়ারির 20 তারিখের পর ওর বাংলাদেশে আসার কথা ছিলো এক সপ্তাহের জন্য ।
কারণ তারপর ওর কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশন এর কথা ছিলো ফেব্রুয়ারীতে ।
সেসাথে ওর জরায়ুতে ক্যান্সারও ধরা পড়েছিল । তবে তা প্রাথমিক পর্যায়ে ছিলো ।
এ বিষয়গুলো রুবেল এবং মিথিলা আংশিকভাবে জানতো ।
নিউইয়র্কে মিথিলার শুধু পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছিল ।
আর এটাই বাচ্চা মেয়েটা মনে করতো ওর অপারেশন হয়েছে ।
আর রুবেলকে আশা দিতো তাড়াতাড়ি দেশে চলে আসবে ।
আর ফোন করে রুবেলকে যা বলতো রুবেল গাধার মত লেখা দিত এই সাইটে ।
এই কাজটা যে রুবেল কেন করতো তা আজও মেলাতে পারিনি ।
মনে হয় মিথিলাকে খুশি করার জন্য ।
নিউইয়র্ক চলে যাবার পর মিথিলার সব লেখাই আমি বাংলাদেশে বসে এই সাইটে পোস্ট করেছি ।
তবে তা অবশ্যই মিথিলার লেখা ।
এখনও আমার কাছে মিথিলার আরো বেশ কয়েকটা লেখা রয়ে গেছে ।
এগুলো আমি রুবেলকে ফিরিয়ে দিব খুব শীঘ্রই ।
সেসাথে মিথিলার আইডি এবং পাসওয়ার্ডও ফিরিয়ে দিব ওকে ।
মিথিলা আমার বোন হলেও আমার চেয়ে রুবেলের অধিকার বেশি মিথিলার প্রতি ।


আর আমি দুঃখিত সাদিক মোহাম্মদ আলম, রাগ ইমন, মাশীদ, সারিয়া তাসনিম এর কাছে ।
কারণ আমি মিথিলার জানের ভালর জন্য মিথিলার অনুরোধে ওদের সাথে চ্যাট করেছিলাম মিথিলা হয়ে ।
মিথিলা প্রায়ই বলতো, "আপু, আমি মরে গেলে ওর কী হবে ? ওকে কে সান্ত্বনা দিবে ? ওকে কে বুঝাবে ? ওর পাগলামী কে ঠেকাবে ?"
ওর এসব কথা শুনলে চোখে মনের অজান্তে পানি চলে আসতো ।
আমি প্রায়ই ভাবতাম ওদের দুজনকে নিয়ে । দুজনই খুব আবেগপ্রবণ ।
মিথিলার কিছু হয়ে গেলে রুবেলের অঘটন ঘটা অসম্ভব ছিলো না ।
তাই আমি মাশীদ, রাগ ইমন এবং সারিয়া তাসনিম এর সাথে চ্যাট করা শুরু করি ।
তিনজনই অসাধারণ মানুষ ।
মিথিলাকে যখন আমি এই তিনজনের সব কথা খুলে বলি ও অনেক খুশি হয় ।
কারণ মিথিলার সবকিছু ছিল রুবেল কেন্দ্রিক । ওকে ছাড়া কিছুই ভাবতো না ।
আর এটা যে ভুল ছিল না মিথিলার । তা আজ প্রমাণিত ।
মিথিলাকে অপমান করার কারণে রুবেল ওর এতদিনের সব লেখা মুছে ফেলল ।
আর সেসাথে নিজেকে পুরোপুরি গুটিয়ে নিল ।
ওর মত সৎ একটা ছেলের পক্ষে তা কখনো মেনে নেয়া সম্ভব নয় ।
আমি রুবেলকে পুরোপুরি সমর্থন দেই এ ব্যাপারে । আর সেসাথে ওর কাছে ক্ষমাও চাই ।
জানি আমি ক্ষমার অযোগ্য পাপ করেছি ।
তবে এটা সত্য যা আমি করেছি সব ওদের দুজনের ভালর জন্য ।
আর অবশ্যই মিথিলার অনুরোধে ।
কারণ খুব দুঃখি একটা মেয়ে মিথিলা ।
জীবনে কিছু পেল না । মাত্র 18 বছর বয়সে হারিয়ে গেল ।
মরেও মেয়েটা শান্তি পেল না । ওকে নিয়ে অনেক নোংরামী করা হল ।
রুবেলকে মিথ্যাবাদী করা হলো । আরো অনেককে দোষ দেয়া হল ।
এ জন্য সব দোষ অথরিটির । এরা যে এতো দায়িত্বজ্ঞানহীন ।
কখনো ভাবিনি । কয়েকদিন মিথিলাকে নিয়ে আহা কী সমবেদনা !
আবার কয়েকদিন পর ঘোষণা মিথিলা ভার্চুয়াল !
তারপর কিছু বোকাদের বোকামী ।
আমি বেশ কয়েকদিন শুধু দেখেই গেছি । কিছু বলিনি ।
তবে খুব আহত হয়েছি । সবারই মা,বোন, ভাই আছে ।
আর সবাইকে মরতে হবে একদিন ।
কাকে কি বলবো ?


শুধু রুবেলকে বলি, তুমি মিথিলাকে কোন দোষ দিও না । ও শুধু তোমার ভাল চেয়েছে । আর তোমার ভালর জন্য ও সবকিছু করতে রাজী ছিল । আমি শুধু ওকে সাহায্য করেছি । আমাকে যা বলার বলিও । গালি দিতে চাইলেও গালি দিও । আমি কিছু বলবো না । আমি অনুভব করছি তোমার কষ্টটা । মিথিলার আত্মার শান্তির জন্য তুমি কোন পাগলামি করো না । আর বড় বোন হিসেবে অনুরোধ করবো, আর কখনো নিজের আসল নাম দিয়ে ব্লগ লিখ না । কারণ তুমি সৎ হলেও, সবাইতো তোমার মত না । যারা তোমাকে, মিথিলাকে অপমান করেছে । নিশ্চয়ই একদিন তাদেরকেও অপমানিত হতে হবে । তুমি প্লিজ ভাই চুপ থাকো এবং পড়ালেখায় মন দাও । তোমার সামনে সুন্দর একটা ভবিষ্যত আছে । নষ্ট করে দিও না পাগলামি করে । তোমার যেসব কাজে মিথিলা আনন্দ পেত তা করে যাও তাহলে মিথিলার আত্মা শান্তি পাবে । মিথিলার আরো অনেক অজানা তথ্য তোমাকে দিব । কে কী বললো, এটা ভাবার দরকার নেই । আমরা জানি তুমি কেমন ?



আর অথরিটির কাছে কিছুই চাওয়ার নেই আমার । কিছু চাই না । আমি আমার বোনের আত্মার শান্তির জন্য যখনই এই সাইটে অনলাইন হবো তখনই আমার এই লেখাটা পোস্ট করবো । আমি এই সাইটের কাউকে বিশ্বাস করি না এবং কখনো কারো সাথে কথাও বলতে আমি ইচ্ছুক না । একদিন হয়তো বা আমাকেও মিথিলার মত অপমানিত হতে হবে ।


আমার এই লেখাটা কারো কাছে আত্মপক্ষ সমর্থন না । আমি শুধু বিবেকের তাড়নায় লিখলাম । রুবেলের আমি যে ক্ষতি করেছি তা যদি এ লেখায় কিছুটা উদ্ধার হয় তবে নিজেকে সার্থক মনে করবো । আর অথরিটিকে বলবো, আপনারা দয়া করে আরো একটু সচেতন হোন । কারো জীবনকে এলোমেলো করার অধিকার আপনাদের নেই । নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পর যা করার করবেন । আপনারা বুঝবেন না আমার কিংবা রুবেলের কষ্ট । কারণ এমন পরিস্থিতিতে আপনারা পড়েননি । পড়লে এরকম ব্যবহার করতেন না ।

কারো যদি কিছু জানতে ইচ্ছে হয় তাহলে আমাকে ইমেইল করবেন । আমি এখানে কোন মন্তব্য করবো না । কারণ আমি এটা ওপেন করেছি শুধু রুবেল ও মিথিলার জন্য । এই পোস্ট ছাড়া আর কোন পোস্ট দিব না বলে আমি ঠিক করেছি । আল্লাহ মিথিলাকে বেহেশত নসিব করুক এবং রুবেলকে শক্তি দিক যেন সবকিছু মোকাবেলা করতে পারে ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৬৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×