১.
যখন ছোটো ছিলাম,তখন ডিসেম্বর অথবা মাচ মাস আসলে কেমন যেন অদ্ভুত লাগত।টিভি তে কারটুন না হয়ে কি সব গোলাগুলি আর প্যাচাল দেখাত।একটু বুঝতে শিখার পর আব্বুর মুখ থেকে শুনে শুনে বুঝেছি আসলে কি ছিল সেইসব গোলাগুলি।রাতে খাওয়ার টেবিলে এ বসলেই আব্বা তখন যুদ্ধের গল্প শুনাতেন।কখনো আম্মাও বলত।তখন সেটাই এক রুপকথা ছিল আমার জন্য।এই রুপকথা শুনেই বেড়ে ওঠা.........
২.
আজ সারাদিন বাইরেই সিলাম।বেশ মুগ্ধ হয়েই দেখলাম ছোট ছোট বাচচারা হাতে পতাকা নিয়ে ঘুরে বেরাচ্ছে,কেউ বাবার কোলে অথবা কেউ বাসার সবাইকে নিয়ে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান দেখতে যাচ্ছে।এটাই ভাবলাম যে ওরাও এই রুপকথা গুলো হয়ত গতকালকে খাওয়ার সময় শুনেছে,হইত কেউ শুনেছে তাদের দাদা-দাদির কাছে ঘুমাতে যাওয়ার সময়।রুপকথার শক্তি এখনো আছে আগের মতই.........
৩.
মাঝে মাঝে ভাবি আমাদের প্রজন্মটা কত ভাগ্যবান যে আমরা সরাসরি মুক্তিযোদ্ধাদের সংস্পশ পেয়েছি,তাদের কাছ থেকে শুনতে পেরেছি আগুন ঝরা সেই দিনেরত কথা। কিন্তু আমি যখন আমার সন্তানদের কে সেই গল্প শুনাব আমি কি সেই আবেগ দিতে পারব??আমি কি পারব হাজারো ইতিহাসের মধ্য থেকে ওকে সতিকারের একটি ইতিহাস শুনাতে??
এর পরের প্রজন্মের কাছে এই রুপকথার আবেগ আসলে কতটুকু থাকবে?
সরাসরি যুদ্ধে যারা ছিলেন,তাদের প্রজন্ম তা আস্তে আস্তে চলে যাচ্ছে।অথচ আমরা এখনো ইতিহাস নিয়ে তরক করি,এখনো আমরা যুদ্ধাপরাধের বিচার ত দুরের কথা, এর প্রক্রিয়া তেই হাত দিতে পারলাম না—এই লজ্জা আমরা রাখি কোথায়??
পরের প্রজন্ম্রের কাছে আসলে আমরা গ রব করার মতকোন উদাহরণ টা রেখে যাচ্ছি?????
.........ভাল কোন লেখক আমি নই।তার উপর বাংলায় খুবি দুরবল......তবুও নিজের আবেগ এর কিছুটা কে প্রকাশ করার সাহস করেই ফেললাম।সবাই মাফ করবেন এবং দোয়া রাখবেন।
সবাইকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


