somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সে দিনটার স্বপ্ন দেখি ভীষনরকম...

২৪ শে জানুয়ারি, ২০১৪ রাত ৮:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভালবেসে গেলাম শুধু, ভালবাসা পেলাম না
আশায় আশায় দিন যে গেল আশা পূরণ হলো না...

এই গানটি শুনলেই মনে হয়, গানের কথাগুলো আমার জন্যেই লেখা হয়েছে।

ছোটবেলা থেকেই একটু লাজুক স্বভাবের ছেলে আমি। তাই এলাকায় খুব বেশি বন্ধুবান্ধব নেই। স্কুলে ছেলে বন্ধুও ছিল হাতেগোনা। তবে ভাল ছাত্র হওয়ার সুবাদে ২-১ জন মেয়ে বন্ধু থাকলেও ওরা কথা না বললে সেভাবে কথা বলতাম না। প্রাইমারি স্কুল থেকে হাইস্কুলের গন্ডিপেরুলাম ২০০৫ সালে এসএসসি পাশ করার মধ্যে দিয়ে। এই ১২ ক্লাসে ২-১জন মেয়েকে যে ভালো লাগেনি তা নয়, তবে ভাল লাগাটা থেকেছে নিজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। মুখ ফুটে কখনোই বলার সৌভাগ্য হয়নি যে, আমি তোমাকে ভালবাসি। অথচ এই সময়টাতে আমার কত বন্ধুই না কতভাবে প্রেম করেছে। স্কুলের ক্লাসরুমে, কখনোবা কলপাড়ে আবার কখনোবা স্যারের বাসায় টিউশনি নিতে গিয়ে। একদিন সাহস করে আমিও আমার এক গনিত স্যারের বাসায় টিউশনি নেওয়ার সময় বেঞ্চের ওপর আমি যে মেয়েটিকে সেসময় ভালবাসতাম তার নামের পাশে প্লাস (+) দিয়ে আমার নাম লিখেছিলাম। ফলাফল: সেই মেয়েটির মামা আমাদের এক ক্লাস উপরে পড়ত লেখাটি দেখে ফেলে এবং আমাকে টার্গেটে রাখে। আমার মনে আছে, ভয়ে আমি আমার টিউশনের সময়টাই পরিবর্তন করে নিয়েছিলাম। এই ঘটনা আর বেশদূর এগুয়নি।
এরপর আমি বন্ধুবান্ধবদের প্রেম করা দেখেছি। আর মনে মনে ভেবেছি, আমারও একদিন হবে।

নাটোরের একটি স্বনামধন্য কলেজে উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হলাম। নতুন জায়গা, নতুন বন্ধুবান্ধব। সবাই ভালো স্টুডেন্ট। তবে আমাদের এই কলেজে প্রায় সমানসংখ্যক ছেলে-মেয়ে। আমার বানিজ্য বিভাগেও। বাট আপসোস, কলেজ জীবনের এই ২ বছরেও আমার কপালে কোনো মেয়ে জোটেনি।
কলেজ জীবনটায় আমার অনেক-বন্ধুই অনেক মেয়েকে পছন্দ করতো। কারো কারো সম্পর্কও হয়েছিল। কোনো একজন বড় ভাই আমাদের এক বান্ধবীকে ভালবাসত। তার সঙ্গে সম্পর্কও হয়েছিল। বাট বেশিদিন টেকেনি। ছেলেটা নাকি আমার সে বান্ধবীকে ধোকা দিয়েছে। এজন্যে আমার বান্ধবীকে অনেক কাদতে দেখেছি। আমার এক মুসলমান বন্ধু ওর চেয়ে এক ইয়ারের ছোট একটি হিন্দু মেয়েকে ভালবাসত। সে মেয়েটার জন্যে দেখেছি কত কিছু করেছে বাট সম্পর্ক হয়নি। এক বন্ধু আমার এক বান্ধবীকে ভালবাসলেও সম্পর্ক হয়নি। একজন এক ইয়ারের ছোট একটি মেয়েক ভালবাসত। বাট কখনো বলার মতো সাহস হয়নি। আর এক বন্ধূ তো লিজা নামের একটা মেয়েকে এখনো ভালবাসে। তবে এদেরও সম্পর্ক হয়নি। এই জীবনে আমি যাদের দিকে ভালবাসার দৃষ্টিতে তাকিয়েছি, সেই দেখি বুক। অবশ্য বুঝতাম আমার এক বান্ধবী আমাকে ভালবাসত। বাট কখনো বলেনি। এভাবেই ২০০৭-এ উচ্চমাধ্যমিক পাশ করলাম। আর অপেক্ষায় থাকলাম এবার নিশ্চয় হবেই।

অর্নাসে ভর্তির পর ভাল লাগল এক মেয়েকে। সে আমার চেয়ে ৩-৪ বছরের ছোট হবে। না বুঝেই বন্ধুদের সঙ্গে সে মেয়ের পেছনে সময় ব্যয় করতে লাগলাম। বলে নেওয়া ভালো উচ্চমাধ্যমিক পাশের পর এলাকায় আমার বেশকজন বন্ধু হয়েছিল। অল্প দিনেই ভুল ভাঙল। যখন জানলাম মেয়েটির সাথে অন্য একজন ছেলের সম্পর্ক আছে। এবং সম্পর্কটা অনেক গভীর। তবে এর চেয়েও বেশি কস্ট পেয়েছিলাম এই জন্যে যে, মেয়েটি তার বাবাকে দিয়ে আমার বাড়িতে আমার নামে নালিশ পাঠিয়েছিল। যাক এরপর আর কখনোই সে মেয়ের জন্যে মন খারাপ হয়নি। এরপরেই আমার জীবনে এলো সেই নারী!


স্টেশনে বসে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্চিলাম। এমন সময় আমাদের এলাকারই একটি মেয়েকে দেখলাম। আগে সেভাবে কখনো খেয়াল করা হয়নি। বাট এবার আমার ওকে কেন জানি অনেক ভাল লাগল। ব্যস অনেক কষ্টে এক বন্ধুর কাছ থেকে নাম্বার সংগ্রহ, অত:পর রাতে দিলাম ফোন। অতি অল্প সময়ের মধ্যেই মেয়েটির সঙ্গে আমার অনেক ভাল বন্ধুত্ব হয়ে গেল।

ওর সঙ্গে আমার বন্ধুত্বটা ২০০৮-এর দিক থেকে শুরু। ও শুরুর দিকে আমাকে অনেক ফোন করতো। আমিও। তার কারণও ছিল একটা। ও যাকে ভালবাসত, সে ছেলেটা নাকি ওকে ফোন করতে মানা করেছে। ও এইজন্য আর সেই ছেলেটাকে ফােন দেয়না। আমিও একটা মেয়ের কাছ থেকে সদ্যই হিট খায়ছি ছো এইজন্যেই আমাদের বন্ধুত্বটা বেশি গাড় হয়েছিল দ্রুত। আমরা প্রায় রাতেই কথা বলতাম।

আমার তো ওকে আগের থেকেই ভাললেগেছিল। তাই আকারে ইঙ্গিতে ওকে অনেকবারই বলেছি। ও মাঝেমধ্যে আমার ভালবাসা ফিল করতো বাট রাজি হতো না। এভাবেই ২০১১ এর দিকে আমারই দেওয়া এক বন্ধুর নাম্বারে কথা বলতে গিয়ে ওর সঙ্গে আমার সম্পর্কটা নষ্ট হয়ে যায়। সে সময় আমে ওকে সরাসরি আমার ভালবাসার কথা জানিয়েছিলাম।

২০১৪ সাল। ওর সঙ্গে মাঝেমধ্যে কথা হয়। বন্ধুদেের কাছ থেকে শুনেছি তার নাকি আমার সেই বিশ্বাসঘাতক বন্ধুর সঙ্গে সম্পর্ক হয়েছে। কিন্তু আমি এখনও তেমনই আছি। ইচ্ছে হলেও অনেক কস্টে নিজেকে সংযত রাখি। ওকে ছাড়াই আমার বাচতে হবে। আর ভাবি ওর বিয়ে হয়ে গেছে। সো অন্যের বউকে ভালবাসা অন্যায়, মহাপাপ...

বিভিন্ন অকেশান যেমন পহেলা ব‌ৈশাখ, ভালবাসা দিবস, থার্টি ফাস্ট কিংবা রাস্তায় চলাফেরার সময় একজন মেয়ে আর একজন ছেলেকে একসঙ্গে দেখি বুকের মধ্যে কেমন জানি করে। আমার রুমমেটরা কিংবা কলিগ কেউ যখন রাত ১২টার পর তার গার্লফ্রেন্ড-এর সঙ্গে কথা বলে আমারও ইচ্ছে করে, খারাপ লাগে। অনেক কষ্টে নিজেকে সংযত রাখার চেস্টা করি। আর মনে মনে ভাবি, একদিন সত্যিই আমার জীবনেও ভালবাসা আসবে। আমার সেই ভালবাসা আমাকে অনেক ভালবাসবে। আমাকে বুঝবে। একদিন অবশ্যই আসবে...। সবার যদি হয়, একদিন আমারও হবে। আমাকে কেউ একজন অনেক ভালবাসবেই। এই অপেক্ষায়...
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জানুয়ারি, ২০১৪ রাত ৮:৫৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:১৮


বাংলাদেশের সমাজে একটি নীরব বিপ্লব ঘটে গিয়েছে। দুই বছর আগে ব্লগে অ্যাকাউন্ট খোলার পর থেকে এই পরিবর্তন নিয়ে কম করে হলেও বিশটির বেশি পোস্ট লিখেছি। এই বিপ্লবের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকেলগুলো থমকে থাকে, আজও তোমার পাড়ায়

লিখেছেন চারাগাছ, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:০০






সেদিন বিকেলেও লোকটা জানালার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল।

পাড়ার মানুষজন তাকে চেনে। চেনার কথাও। গত বাইশ বছর ধরে প্রায় প্রতিদিন বিকেল পাঁচটার দিকে লোকটাকে এই গলিতে দেখা যায়। কখনো হেঁটে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:৫৬

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত



সময় চলেছে তার আপন খেয়ালে,
নদীর স্রোতেরা হারায় কালের বুকে;
আমি শুধু এক অনন্তকাল ধরে,
ডুবে আছি প্রিয়, তোমার চাওয়া পাওয়ার ওই সুখে।

বাহিরের সব নিয়ম চলুক তার মতো,
মহাবিশ্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলার পথে ক্ষণিক দেখা – (১১)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০২

পূর্বের পোস্টঃ ক্ষণিকের দেখা, মায়াময় এ ভুবনে -১০


অবশেষে আমার কিছু কথা শুনে ওরা হাসিতে ফেটে পড়লো। সবার মুখে ছিল উজ্জ্বল হাসি।

আজ দুপুরে একটি এলাকার মাসজিদ সংলগ্ন পুকুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০২

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০২



আমাদের চারপাশে অনেক কিছু আছে।
যা আমরা দেখতে পাই না। ব্যাকটেরিযয়া, ভাইরাস, ডার্ক ম্যাটার, অণু ও পরমাণুর কথা বলছি না। আমি বলছি, মৃত মানুষের কথা। প্রতিদিন বিশ্বে গড়ে দেড়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×