somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

‘আপনি যে শিক্ষিত নন, তা তো আপনার কথা-বার্তাতেই পরিস্কার’

১১ ই এপ্রিল, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


দুই টাকা চেয়েছিলেন। ভিক্ষা নয়, ভাড়া। তারজন্য এভাবে গালিগালাজ তাও আবার বাবা-মাকে তুলে!

মিরপুর থেকে ফার্মগেট- কারওয়ান বাজার পর্যন্ত সিটিং বাসের (বিহঙ্গ, ইউনাইটেড, বিকল্প, আয়াত, এনা) ভাড়া ১৫ টাকা। ২-৩ জন যাত্রী দাড়িয়ে ছিলো বলে আপনি তাকে ১০ টাকা ভাড়া দিলেন। অল্প বয়সী ছেলেটা (কন্ড্রাকটার) তো আপনাকে ভদ্র ভাষায় বললেন, আর ২ টাকা দ্যান। এতেই আপনি তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠলেন? বাবা-মা তুলে গালিগালাজ করা শুরু করলেন। আরও কত সব অসভ্য ভাষাও ব্যবহার করলেন।

আরে ভাই, ২ টাকা বেশি দিলে কি এমন ক্ষতি হয়। এখনকার দিনে একজন ফকিরকেও মানুষ ২ টাকার নিচে ভিক্ষা দেয় না। আপনি কি জানেন, অল্প বয়সী সেই ছেলেটা দিন-রাত কতটা পরিশ্রম করে, তার পারিশ্রমিক কত? আরে সে তো আর আপনার কাছে ভিক্ষা চায়নি। চেয়েছিল, ন্যায্য বাস ভাড়া। তার জন্য, এভাবে তাকে অপমান করতে হবে।

বুঝেছি, আপনি হয়তো ‘ভিভিআইপি’ কোনও চাকুরীজীবী অথবা ব্যবসায়ী। তো, পাবলিক বাসে কেন উঠেছেন? আপনার তো চলাফেরা করা উচিত নিজস্ব গাড়িতে। যদি গাড়ি কেনার সামর্থ্য-ই না থাকে তাহলে পাবলিক বাসে এত্তো বড়লোকি চাল দেখিয়ে কি প্রমান করতে চান?

না, আপনি হয়তো তার পেশাটাকে ছোট হিসেবে দেখছেন। আরে, ভাই আপনি কি জানেন, ইউরোপ কান্ট্রিতে বড়লোকের স্কুলপড়ুয়া ছেলেমেয়ারও পরীক্ষার পর হোটেল ছাড়াও বিভিন্ন জায়গাতে কাজ করে উপার্জন করেন। তাছাড়া আপনার বোধহয় জানা নেই, কোনও কাজ-ই ছোট নয়। সে তো আর অবৈধ কোনও কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে না। দিন-রাত কঠোর পরিশ্রম করে সে তার ও তার পরিবারের জন্য ডাল, ভাত, বাসস্থানের ব্যবস্থা করছে।

আর যায় হোক, আপনি যে শিক্ষিত নন, তা তো আপনার কথা-বার্তাতেই পরিস্কার। তবে আপনার জ্ঞাতার্থে এই তথ্যটা দিতে চাই, আমরাই কিন্তু জোর করে বাসে উঠি। অফিস শুরু কিংবা শেষের পর বাসে ওঠার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে থাকতে হয়। তখন সিটিংভাবে আসা বাস না নিলে আপনি গালি দেন আবার নিলে ভাড়া কম দেন, এখন বলুনতো তাহলে উনারাই বা কি করবেন?

মনে রাখবেন, আমরা সবাই মানুষ। আজ হয়তো তিনি বাসের কন্ড্রাকটার। একবার ভাবুন তো তার জায়গায় আপনিও থাকতে পারতেন! কোনও পেশাকেই ছোট হিসেবে না দেখে মানুষকে ভালবাসুন। মানুষের পেশাকে সম্মান করুন। অপমান করে কাউকে ছোট করা কিংবা কাঁদাতে পারার মধ্যে কোনও গৌরব নেই বরং কারো মুখে হাসি ফুঁটাতে পারার মধ্যেই রয়েছে স্বর্গের আনন্দ...।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই এপ্রিল, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:১৮


বাংলাদেশের সমাজে একটি নীরব বিপ্লব ঘটে গিয়েছে। দুই বছর আগে ব্লগে অ্যাকাউন্ট খোলার পর থেকে এই পরিবর্তন নিয়ে কম করে হলেও বিশটির বেশি পোস্ট লিখেছি। এই বিপ্লবের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকেলগুলো থমকে থাকে, আজও তোমার পাড়ায়

লিখেছেন চারাগাছ, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:০০






সেদিন বিকেলেও লোকটা জানালার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল।

পাড়ার মানুষজন তাকে চেনে। চেনার কথাও। গত বাইশ বছর ধরে প্রায় প্রতিদিন বিকেল পাঁচটার দিকে লোকটাকে এই গলিতে দেখা যায়। কখনো হেঁটে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:৫৬

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত



সময় চলেছে তার আপন খেয়ালে,
নদীর স্রোতেরা হারায় কালের বুকে;
আমি শুধু এক অনন্তকাল ধরে,
ডুবে আছি প্রিয়, তোমার চাওয়া পাওয়ার ওই সুখে।

বাহিরের সব নিয়ম চলুক তার মতো,
মহাবিশ্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলার পথে ক্ষণিক দেখা – (১১)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০২

পূর্বের পোস্টঃ ক্ষণিকের দেখা, মায়াময় এ ভুবনে -১০


অবশেষে আমার কিছু কথা শুনে ওরা হাসিতে ফেটে পড়লো। সবার মুখে ছিল উজ্জ্বল হাসি।

আজ দুপুরে একটি এলাকার মাসজিদ সংলগ্ন পুকুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০২

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০২



আমাদের চারপাশে অনেক কিছু আছে।
যা আমরা দেখতে পাই না। ব্যাকটেরিযয়া, ভাইরাস, ডার্ক ম্যাটার, অণু ও পরমাণুর কথা বলছি না। আমি বলছি, মৃত মানুষের কথা। প্রতিদিন বিশ্বে গড়ে দেড়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×