somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন হার না মানা মানুষের কথা-৪

২৮ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১ - ৩
Click This Link



হাফটাইমে নীলদের দলের সবাইকে একটু বিমর্ষ দেখাচ্ছিল। একটু ঠান্ডা খেয়ে রাশেদ, নীল আর সবুজ মাঝে বসে বাকিদেরকে গোল করে নিয়ে বসলো মাঠের এক পাশে। পা ছড়িয়ে বিশ্রাম করতে করতে সবুজ বললো- আর কোন গোল করতে দিমুনা মাইরি। ওর কন্ঠে অস্বাভাবিক দৃঢ়তা ছিল। রাশেদ সম্মতিসূচক মাথা নেড়ে বললো- নীল। একটা সুযোগ-একটা সুযোগ পাওয়া গেলে ঐটাকেই কাজে লাগাতে হবে রে। ৯০ মিনিটের খেলায় এইরকম একটা দুইটা সুযোগেই নির্ভর করে পুরা খেলার ভাগ্য। নীল উত্তরে একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে চোখ বুজে ফেললো। ওর হৃদয়ের পুরো একাগ্রতাটুকু জড় করে একান্ত মনে প্রার্থনা করলো কিছুক্ষন।

ঐ দিকে ফেভারিট দলের সবার মাঝে প্রশান্তির বিশ্রাম। শুধুমাত্র ওদের ক্যাপ্টেন কে একটু চিন্তিত দেখাচ্ছিল। সে বললো- আমরা ওদেরকে অনেক দূর্বল ভেবেছিলাম ! ওর ভাইস বললো- আরে দূর ! যা হয়ে গেছে তা চলে গেছে। এই হাফে শালা বাবুদের সাইজ করে ফেলবো। অন্যরাও সায় জানিয়ে পরিবেশটা হাল্কা করে তুললো।

সময় হলে বাঁশী বাজলো। প্রথম কিছুক্ষন নীলে'রা পুরা ডিফেন্সিভ খেললো। বলও গড়ালো ওদের হাফে বেশীক্ষন। নিজেদের হাফ সামলাতেই ব্যস্ত দেখে ঐ পাড়ার দলের প্লেয়াররা বুঝে নিল যে নীলে'রা এখন আক্রমনে যেতে ভয় পাচ্ছে। তাই ওদের ক্যাপ্টেন একটু আশ্বস্ত হলো। সে আর তার ভাইস মিলে ওয়াল পাসিং করে একের পর এক আক্রমন চালিয়ে গেল। সবুজের প্রাচীর ভেদ করা অতটা সহজ ছিল না। বারবার বাঁধা পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছিল ওদের। ততক্ষনে বেশ কিছুটা সময় পেরিয়ে গেছে। বারংবার
আক্রমন নস্যাৎ হয়ে যাওয়ায় ক্যাপ্টেনদের দলের সবার মাথায় রক্ত চেপে গেল। ওরা তখন অল আউট অফেনসিভ এ চলে গেল।

আর এই সুযোগের অপেক্ষায় ছিল রাশেদ আর নীল। অপর দলের একটি সাঁড়াশি আক্রমন প্রতিহত করেই বিদ্যুৎ বেগে সবুজ বলটা ঠেলে দিল রাশেদ কে। আর রাশেদ নিমিষেই তার এ যাবৎ কালের শেখা সকল কৌশল কাজে লাগিয়ে এঁকে বেঁকে নামে মাত্র ডিফেন্সকে পাশ কাটিয়ে উঠে গেল উপরে। ততক্ষনে ক্যাপ্টেন ভুল বুঝতে পেরে প্রানপণে ফিরে এসে ঘর সামলানোর চেষ্ঠা করতে চাইলো। কিন্তু ততক্ষনে দেরী হয়ে গিয়েছিল অনেক। নিঁখুত মাপা একটি পুশ করে বল গড়িয়ে দিল রাশেদ। নীলও তৈরী ছিল। সজোরে দৌড়ে গেল ও......। আহ ! আরেকটু খানি। না ঠিক পায়ে আসলো না। সাথে সাথেই নীল স্লাইড করে ওর ডান পা দিয়ে শেষ মূহূর্তে ছোট্ট একটা টোকা দিয়ে দিল বলে। আলগোছে বল জড়িয়ে গেল বিপক্ষের জালে। মাঠের এতক্ষনকার স্তিমিত দর্শকেরা লাফিয়ে উঠলো। গো...ল...গো...ল !

নীলের দলের সবাই ছুটে এলো। বল্টুটাও ঐ পোস্ট থেকে বেরিয়ে এসে গেল এই হাফে। চিৎকার করতে করতে সবাই নীল'কে জড়িয়ে ধরতে এলো। নীল নীচু হয়ে ওদের ফাঁকি দিয়ে ছুটে গেল রাশেদ এর দিকে। কাছে যেয়ে ঝাপিয়ে পড়লো রাশেদের উপর। আচমকা ঝটকা সামাল না দিতে পেরে পড়ে গেল রাশেদ। আর যায় কই ওরা - সবাই একে একে এসে ওদের উপরে লুটিয়ে পড়লো। গুটি কয়েক দর্শকেও যেন মাঠ ফাটিয়ে ফেললো হাততালি আর উল্লাসে।

১-১ হয়ে গেল খেলার ভাগ্য।
আবার হুইসেল পড়লো। ক্যাপ্টেন সেন্টার করলো। এতক্ষনে ওদের টনক নড়লো। আন্ডার-এস্টিমেট করে ওদের কৌশলে মার খেয়ে গোল খেয়ে একটু দিশেহারা হয়ে পরলো ওরা। ম্যাচ টেম্পারমেন্ট এ টান পড়লো। ওরা এগ্রেসিগ খেলা শুরু করে দিল। ফাউল করে চললো একে একে। রেফারী ঐ দলের দুজনকে হলুদ কার্ড দিল। ওদের লাগাতার ফাউল করা দেখে পাগলা সবুজ আরও ক্ষেপে গেল। ওদের মিড ফিল্ডার কাছে আসতেই মেরে বসলো তার পায়ে দুম করে। ফলাফল- লাল কার্ড। দশ জন নিয়েও নীলেরা সমান তালে খেলে যাচ্ছিল। এরপর একবার যখন রাশেদ ওদের মেইন ডিফেন্সকে কাটিয়ে আবার বল নিয়ে ঢুকে পড়লো বড় ডি এর মধ্যে। পেছনে থেকে ছুটে এসে ডিফেন্স স্লাইডিং চার্জ করে সাংঘাতিক একটা ফাউল করলো। ছিটকে পড়লো রাশেদ। এটা দেখে সাইড লাইনে বসা সবুজ দৌড়ে ঢুকে পড়লো মাঠে। সোজা ঐ ডিফেন্ডারের উপর ঝাপিয়ে পরে সমানে কিল ঘুষি চালাতে লাগলো। এর পরের পরিস্থিতি বাঁশীতে ফুঁ দিয়ে রেফারীর নিয়ন্ত্রন করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়লো। সে ফলাফল ড্র ঘোষনা করে খেলা শেষ করে দিল। তারপরও কিছুক্ষন হাতাহাতি চললো। সাথে উত্তপ্ত বাক্যালাপ। কিঞ্চিৎ খিস্তি খেউরও বাদ গেল না। পরে রাশেদ উঠে দাঁড়ালে পরিস্থিতি একটু শান্ত হয়।

বিরক্ত ও ক্লান্ত হয়ে নীলেরা বসে রইলো সাইড লাইনে। রেফারীর সাথে ঐ দলের ক্যাপ্টেন কথা বলছিল। রেফারী ডেকে পাঠালেন নীল কে। ও কাছে যেতেই রেফারী ইশারা করলো ঐ দলের ক্যাপ্টেন এর সাথে হ্যান্ড শেক করার জন্য। নিতান্ত অনিচ্ছায় হাত মিলাতে যেয়ে নীল ঐ ক্যাপ্টেনের দিকে কটমট করে তাকিয়ে থাকলো। ওর জেদ দেখে ঠোঁট বাঁকিয়ে ক্যাপ্টেন বললো- হুম্‌ম। ভাল। তোমরা ভাল খেলেছো। তোমরা বেশ ভাল খেল। এ সময় ক্যাপ্টেন এর চেহারায় আগেকার সেই অহমিকা খুঁজে পেল না নীল।
বরং স্পষ্ট একটা সমীহের ছায়া দেখা গেল। হাল্কা মাথা নেড়ে ও একটা চোরা দীর্ঘশ্বাস ফেলে; ফিরে এলো বাকি দের মাঝে।
সেই রাতে পরম প্রশান্তিতে ঘুমিয়েছিল নীল। ক্লান্ত ছিল হয়তো। তাছাড়াও ঐ দলের ক্যাপ্টেন এর চোখে মুখে দেখা সমীহটুকু টনিকের মত কাজ করছিল ওর রক্তের ধারায়...।
পরে নীল জানতে পেরেছিল। ঐ পাড়ার ক্যাপ্টেন, রাশেদ আর সবুজ আলতাফ ভাইদের সাথে সেকেন্ড ডিভিশনে খেলেছিল।

এরপর গতানুগতিক সময়ের গড়িয়ে যাওয়া।
জীবনের বন্ধুর পথে কোথাও থেমে-কোথাও ঠেকে বেড়ে উঠলো আমাদের গল্পের নায়ক 'নীল'। নিয়ম করে ডায়েরী লেখার লোক সে নয়। অনেক গুলো সাদা পাতা ছেড়ে আবার একটি পাতায় ডায়েরীর মূল তারিখ কেটে হাতে লেখা একটি অস্পষ্ট তারিখ পাওয়া গেল।
এরপরের ঘটনাটির ক্লাইমেক্স ছিল তার কৈশোরের চূড়ায়।
হুম্‌ম...
B-)

ছবিসুত্রঃ Click This Link



সামনেই নীলদের কলেজে জমকালো হাউস পার্টি হবে। এখন সবার আকর্ষন ঐ পার্টি...
(আসছে)

সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মার্চ, ২০১০ সকাল ৮:২৭
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ শরৎ বন্দনা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৯


শরৎ এলেই আকাশ জুড়ে সাদা মেঘের ভেলা
দিনমণি আর মেঘমালার লুকোচুরি খেলা।

রুম ঝুমঝুম নূপুর পায়ে ছুটছে নদীর ঢেউ
ভাটিয়ালি গাইছে গান অচিন সুরে কেউ।

বিলে ঝিলে শাপলা পদ্ম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×