somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প কথনঃ কামিনী মরণ, ভোরেই এসো!!!

২০ শে অক্টোবর, ২০০৬ বিকাল ৪:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নিজেকে ধ্বংস করতে চাইছি! জীবন ডাকে কেন? আমি তো আর মাত্র ১ বছর বাঁচতে চাই! তার চেয়ে এক ফোটা বেশি নয়!

আরিফ বড় সুখে আছে। ওর বাচ্চা হয়েছে। এসেছিলো। আমি তখন আমার ঘরে। মামণি বুয়ার কাপড় ধোয়ার তদারকিতে ব্যস্ত। তাই আমরা একা ।
ওর বাচ্চাটা বেবি হোলস্টারে জড়ানো। কোলে নিতে চাইলে বললো, " একবার খুললে আর বাঁধতে পারবো না, তার চেয়ে আমার হাতেই দেখো।" আমি মাথা ঝুঁকে চুমু খাই দেবশিশুর গালে। মাথা উঠাতে পারি না!
আরিফ ডানহাতে আমাকে জড়িয়ে ধরেছে কঠিন আলিঙ্গনে। ওর গাল আমার গালে। ওর ঠোঁট আমার চুলের সমাধিতে খুঁজছে জীবনের আস্বাদ। বন্ধ চোখেই টের পাই, আগুনে অশ্রু ঝরে পড়ছে আমার বুকের উপর। " ফারিয়া, এই বাচ্চাটা আমাদের হতে পারত!" কোন ফোটাটা আমার আর কোনটা আরিফের , পার্থক্য করতে পারি না!

ফয়সল, বাঁচাও। আল্লাহর দোহাই লাগে, আমাকে হয় মেরে ফেলো, খুন করো, না হলে বাঁচাও!

ভয়াবহ দিন গেল একটা । রাগে, দুঃখে , শোকে পাগল হয়ে উঠি আমি। মৃত্যু চাই একটা , অবসান চাই আমার।

আই ওয়াক অন, অন দিস ভ্যালি অফ ডেথ! আরিফ তো আমাকে মেরেই ফেলেছে! আমার লাশটাকে ফয়সল কবর দিতে পারত ওর নিজের বুকে। নাহ! সেখানেও স্থান হলো না, প্রভু? আমি কি এতই হতভাগ্য?

ফয়সলকে বুঝতে পারিনি। ওর দোষ নয়। যে এস, এম,এস গুলো আরিফকে পাঠাতে পারিনি ওর সংসার, ওর সন্তান, ওর লক্ষীমন্ত বউটার মুখ চেয়ে- যে কথা গুলো আরিফকে বলতে পারিনি, পাগলামির চূড়ান্ত করে , সে গুলোকে পাঠিয়েছি ফয়সলকে! কেন? জানি না।

কষ্ট কোন যুক্তি মানে না। দুঃখ পেলে আমি সিগারেট পোড়াতে পারি না! হুইস্কি টানতে পারি না। কোকেন-হেরোইনে ডুবতে পারি না। সেই জন্যই কি ধ্বংস করে দিলাম ফয়সলের সাথে আমার বন্ধুত্বকে? কিন্তু সেটা তো আমি চাইনি! তাহলে কেন করলাম? কেন? কেন? নিজেকে ধ্বংস করার এই খেলা আমি কেন খেলছি?

আগুন তো লেগেছে আমার বুকে! অথচ পুড়ে গেলো নির্দোষ ফয়সল। কষ্ট পেলে মানুষ তার সবচেয়ে প্রিয়, সবচেয়ে দামী, সবচেয়ে পবিত্র সম্পদকে ধ্বংস করে দেয়!

শুক্রবার আরিফকে দেখার পর থেকে আমার ২য় মৃত্যু শুরু হয়েছে। ভাগ্যকে আমি মানতে চাই না কখনো। বার বার তার বিপরীতে কাজ করি আর পুড়ে যায় যত সুন্দর! আমার ভিতর এখন পরস্পর বিরোধী দুটো সত্ত্বা কাজ করছে!
একটা গড়ছে ফারিয়াকে দুনিয়ার মাপকাঠিতে সফল দেখানোর জন্য।
আরেকটা সত্ত্বা খুব যত্ন করে আমাকে প্রস্তুত করছে মৃত্যুর জন্য।

আমি এমন কাউকে ভালবাসতে চাই না যার জন্য আমার আবার বাঁচতে ইচ্ছা হবে। বড় যত্ন করে একটু একটু করে এগিয়ে নিয়ে যাই নিজেকে মৃত্যুর দিকে! সফল মানুষের মুখোশটা এত নিঁখুত ভাবে পরে থাকি যে বাবা -মাও ধোকা খেয়ে যায়। এত দিনের দীর্ঘ একটা পরিকল্পনা স্রেফ একটা ছেলের সাথে পরিচয় হয়েছে বলে ভেস্তে যাবে?

পাগল? আমি তাই হতে দেব নাকি!!! ফয়সলকে তাই কৌশলে বিদায় করে দিল ফারিয়ার দ্বিতীয় সত্ত্বা! আরিফ বড় সুখে আছে। আমি বেঁচে থাকলে যদি কোন দুর্বল মুহূর্তে আমার অভিশাপ লাগে আরিফের সংসারে? আরিফ এখনও আমাকে ভালবাসে। আমি পারবো না এই ভয়ংকর সত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বেঁচে থাকতে। পালাতে হবে। যে ভাবেই হোক!!

না না করেও পারলাম না। ফয়সলের সাথে যে অন্যায় আচরন করেছি, তার কোন ক্ষমা হয় না! তিনকে পাঁচ আর পাঁচকে তিন বানিয়ে মিথ্যে দিয়ে আড়াল করেছি সবটুকু। ভুল বুঝাবুঝি? সবই নাটক। তোমাকে আসলে ভালো লাগে।প্রচন্ড ভালো লাগে। বছরের পর বছর যেই মেয়েটার ছবি মোবাইলে সেভ করে রেখেছ, হীরক খন্ডের মত একটা অপরিবর্তনীয় প্রেম আমার বুকেও সমাধি হয়ে আছে।

তোমার আমার কষ্টে এত মিল? ঘর ফাটিয়ে হাসতে ইচ্ছা করছে। আজকে থেকে যুগ আগে আরিফ না এসে, সাগর কন্যা না এসে, যদি তুমি আমি কাছাকাছি আসতাম? আমরা দু'জন কি হতাম জগতের সবচে'পারফেক্ট কাপল?

না মনে হয়। আল্লাহ কখনো পারফেক্ট সুখ দেয় না। কোথাও না কোথাও থাকে আকাশ সমান শূণ্যতা, মহাসাগরের সমান গভীর ক্ষত!!
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:১২
১৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ম্যাজিস্ট্রেট

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:০০



আমাদের এলাকায় নতুন একটা ওষুধের দোকান হয়েছে।
অনেক বড় দোকান। মডেল ফার্মেসী। ওষুধ ছাড়াও কনজ্যুমার আইটেম সব পাওয়া যায়। আমি খুশি এক দোকানেই সব পাওয়া যায়। আমাদের এলাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহ্‌কে কীভাবে দেখা যায়?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩

যে কোন কিছু দেখতে হলে, তিনটি জিনিসের সমন্বয় লাগে। সেই জিনিসগুলো হচ্ছে - মন, চোখ এবং পরিবেশ। এই তিন জিনিসের কোন একটি অকেজো হয়ে গেলে, আমরা দেখতে পারি না। চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকে জুলাইযোদ্ধাদের উপর পুলিশের ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।

লিখেছেন তানভির জুমার, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:১৪

জুলাই যারা ঘটিয়েছে, তাদের উপর পুলিশের কী পরিমাণে ক্ষোভ, এটা ইলেকশনে যাস্ট বিএনপি জেতার পরই টের পাবেন।
আমি বলছি না, বিএনপির ক্ষোভ আছে।
বিএনপি দল হিসেবে অকৃতজ্ঞ হতে পারে, কিন্তু জুলাইয়ের উপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাশা : বাংলাদেশের নতুন জাতীয় খেলা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৩৯


"ও শ্যামরে, তোমার সনে একেলা পাইয়াছি রে শ্যাম, এই নিঠুর বনে। আজ পাশা খেলব রে শ্যাম।" প্রয়াত হুমায়ূন ফরীদির কণ্ঠে ছবিতে যখন এই গান শুনেছিলাম ,তখন কেউ ভাবেনি যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারেক রহমানের নির্বাচনী ইশতেহার এবং আমার পর্যবেক্ষণ

লিখেছেন জীয়ন আমাঞ্জা, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭

বিএনপির প্রতি আমার যথেষ্ট ভালোবাসা কাজ করে, এবং ভালোবাসা আছে বলেই আমি তার প্রতিটি ভুল নিয়েই কথা বলতে চাই, যাতে সে শোধরাতে পারে। আপনিও যদি সঠিক সমালোচনা করেন, সত্যকে সত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×