মোবাইল বেজে উঠে। আমার ডার্লিং ফোন করেছে। চট করে ধরি ফোনটা । মেয়েটা একা একা বাসায় থাকে! খুব মিস করে আমাকে ! কিন্তু কি করবো? এমনই বালের কাজ করি। দিন রাতের কোন বেইল নাই। কখন আসুম, কখন যামু, জানে শুধু আল্লায়! কথা বলতে শুরু করেই বুঝি , মন খারাপ। পাককা 15 মিনিট লাগে, মন ভালো করতে । ওরে টেলিফোনে ফানাহ ছবিটার গান শুনাই। ও শোনে। আমি চোখ বন্ধ করে ওর সি্নগ্ধ, মায়াময়, শান্ত মুখটা কল্পনা করি! আর গভীর কালো এক জোড়া চোখ! ও রকম ডাগর এক জোড়া চোখের জন্য বাড়ি ফিরতে ভালোই লাগবে!!ফোনটা রেখে চ্যাট উইনডোটা আবার ওপেন করি। মেয়েটা খুব দ্্রুত টাইপ করে। 15 মিনিটে অন্তত 15 লাইন লেখার কথা, সাথে 2/1 টা "বায" । কই? কিচ্ছু নেই!ঃ আপনি ঘুমালে আপনার নাক ডাকে। এখান থেকে শুনতে পাচ্ছি! ঃ ভাইয়া , আজকে যাই, বিজি আছি!বিরক্তি আগুন ধরায় সারা শরীরে। মেয়েটা লগ অফ করার আগেই আমি চট করে লগ আউট করি। ভাবেটা কি নিজেকে ও? আমি কি ওর জন্য বসে থাকি? আরে কত মেয়ে পটাইলাম! কত মেয়ে এখনও অনলাইনে এসে কান্নাকাটি করে ! চড়চড় করে রাগের পারদ চড়তে থাকে ! ইচ্ছে করে আগুন ধরিয়ে দেই ! কম্পিউটারে, এ্যাসাইনমেন্টে , বাইরের আকাশটায়! এত কষ্ট হচ্ছে কেন? যেমন হঠাৎই শরীরের কোষে কোষে জ্বলে উঠেছিলো কিছু দুর্বোধ্য উত্তাপ, তেমন হঠাৎই দপ করে নিভে যাই!!!! বহুযুগ বন্ধ , জানালা খুলে একটা ঝড়ো দমকা হাওয়া ভিতরে ঢুকে পড়ে । আমার অন্তর জুড়ে টিপটিপ জ্বলতে থাকা একমাত্র শিখাটাকেই নিভিয়ে দেয় সে। হাত পা অসার হয়ে আসে, পিঠ বেয়ে নামতে থাকে ঠান্ডা স্রোত ।বরফ শীতল কবরের আঁধারে ডুবতে ডুবতে , অফিসের স্তব্ধ , অক্সিজেনহীন বাতাসে বসে আমি ভয়ংকর একটা সত্যকে উপলব্ধি করি- এই বুদ্ধিহীন , যুক্তিহীন,ভীষন বোরিং মেয়েটাকে আমি ভালবাসতে শুরু করেছি!!!!!!
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



