কেমন বোধ হবে সুহৃদ ? হঠাৎ প্রত্যুষে যদি করো আবিষ্কার , তল্পিতল্পাসহ দেশান্তরি হয়েছে তোমার জন্মাবধি আপন পরিবার! পার্বনে কি উপাসনায় যারা ছিলো তোমার স্বার্থশূন্য প্রেমের নিঃশর্ত প্রাপক! প্রাপ্যকে বুঝে নেবার হিসেবে তুমি যে বরাবরি ভীষন অসিদ্ধহস্ত ! হস্তরেখাবিদের জুজুকে তুমি আমলে নেওনি , যেমন হেসেই ওড়াতে চেয়েছিলে বহিরাস্তের সাবধান বানী- "তুমি কোনদিনই কারো হবে না । তুমি চিরএকা । চিরনিঃসঙ্গ । আর ৩৫ এর পরেই কেটে যাবে তোমার সঙ্গ লাভের আকুল বৈধব্য বিলাস।" বিলাসই বটে ! তুমি বিলাসী না হৈমন্তী , সে বিচারে না গিয়েও বলা চলে , আজ তুমি পরাজিত । তোমার ভালোবাসার কাছেই তুমি খুন হয়েছো বড্ড নির্মম ভাবে ! নির্মিত স্বর্গ কাঁচের স্বচ্ছতা নিয়ে সুখ মরীচীকা দিয়েছিলো কি না , সে প্রশ্ন আজ অবান্তর । প্রান্তর ভেদী প্লাবন সে মহল চুর চুর করে মিশিয়ে দিয়েছে পৃথিবীর প্রাচীনতম গ্রানাইট ধুলোয় । ধুলোয় যে ঘর বাঁধে , তার সাজে না স্থিত হবার সাধ । সাধ্য তাকে বার বার করে বিভ্রান্ত , বিপন্ন । সম্পন্ন মানুষের ঘর ছাড়ার দুর্মতি তোমাকে দেখো কেমন আমূল উপড়ে নিয়ে ছুড়ে দিয়েছে অচেনা ভূমিতে । ভূমিহীন , বাস্তুহারা বলে কেউ যদি তোমাকে আজ সাধে ভিক্ষার অপমান , তুমি কি চোখের জলে জানাবে প্রতিবাদ? প্রতি বহ্নি পাঁজর খুড়ে অঙ্গার পেলে আর কাকে পোড়াবে নতুন করে ? কারবারি বিশ্বের চিরপ্রান্তিক ! তুমি আজও ছাড়োনি বাউলিয়ানা আর তোমার বিরহী তৃষ্ণা বৈরাগ্যে খোঁজে অনন্ত সঙ্গ সুখ ! সুখ স্বপ্নলোকের চাবি তুমি দেখবে না তোমার কবি মনের ধুসরলোকে । লোক থেকে লোকারান্তে কি লোকান্তরে , কবিমনের মুসাফির থাকে চির উদবাস্তু , চিরচাতক আর ঘুমের ঘোরে বিনিদ্র!
-----------------------------------------------
আহা , ভালোবেসে এই বুঝেছি
সুখের সার সে চোখের জলে রে
তুমি হাসো আমি কাঁদি
বাঁশী বাজে কদম তলে রে ।
আহা, ভালোবেসে এই বুঝেছি !!
[ জটিলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের গান]
--------------------------------------
তার আগ্নেয় রূপের সম্মুখে
আমি দাঁড়াতে চাই সমাজ সংসার রুখে
সে হাসে অনুকম্পাহীন ঠোঁটে
ফুল চোখে নরক হয়ে ফোটে !
আমি কেন নেই অপমান তুলে?
কেন নেই না প্রাপ্য সুদে -মূলে?
তাকে ভালবাসি, এমন জানতে পেলে -
পুড়তে হবে সর্ব গ্রাসী জ্বেলে!
হারতে আমার রইলো নাত বাকি
নিজের সাথে লড়তে আমি থাকি
কারও দেখি ভ্রুক্ষেপ নেই তাতে -
আমার ছায়াও নেই রে আমার সাথে !
[ যারা কবিতা ভালোবাসে , তারা বুঝি চিরনিঃসঙ্গ তাদের লড়াইয়ে । তারা চিরবিভ্রান্ত বর্তমানে , তারা স্থিত শুধু মহাকালে আর অনুধাবনের যোগ্য একমাত্র অতীতে । হাত বাড়িয়ে কবিতাকে ছুঁতে পারিনি আর পিছন ফিরে দেখি , আমার ছায়া ছেড়ে গেছে দেহের বৈকল্যকে ঘৃণা করে ]

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


