somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নির্বাচনমূখী রাজনীতি বিষয়ে আমি যা ভাবি আর যা ভাবতে পারি!!

২৭ শে ডিসেম্বর, ২০০৬ রাত ১১:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দেশের রাজনৈতিক অবস্থার যদি একটা গ্রাফ আঁকন যাইতো এই সময়ে সেইটা দেখতে নিশ্চিত কোন পর্বতমালার হরাইজন্টাল ছবির মতো হইতো...এইরম ইসিজি রিপোর্ট টাইপ ছবির প্রতি আমার সেই বাল্যকাল থেইকাই কেরম আকর্ষণ কাজ করে। কিন্তু বর্তমান সময়ের এই চিত্র নিয়া কি আমি খুব আমোদিত!? নিজেরে প্রশ্ন করি...বড্ডই কনফিউসড। এই দেশের রাজনীতির হাওয়া জলেই বড় হইছি...মানুষের যা যা জানি সব এই দেশের...অন্য সংস্কৃতিরে তার মতোই জানি যতোটা সে 'অন্য' থাকে...একটা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি তার জীবন যাত্রা, যাপন, প্রণালী দিয়াই চলে। এই সত্য জানি বইলা...ভালোবাসা-দুঃখ-ক্ষোভ সব নিয়াই এই দেশের রাজনৈতিক মানসিকতা নিয়া ভাবি।

সাম্প্রতিক সময়ে শহরের একদল মানুষের প্রতিক্রিয়ায় আমি হঠাৎ চমকিত হই...আওয়ামি লীগ যখন খেলাফত আন্দোলনের সাথে 5 দফা চুক্তি করে, এই অঞ্চলের তাবৎ মধ্যবিত্তরে আমি আহাজারি করতে দেখি...তাদের হতাশায় ভাইঙ্গা পরা দেখি। চুক্তিতে নাকি বলা হইছে দেশে ইসলামী শরীয়া আর সুন্নাহর সমস্যা হইতে পারে এইরম আইন প্রণয়ন করন যাইবো না, কওমী মাদ্রাসার স্বীকৃতি আর আর ব্যবস্থা আরো উন্নত করতে হইবো, ক্বাদিয়ানিগো মতোন আরো যেইসব পরবর্তী ইসলামী সম্প্রদায় আছে তাগো নিষিদ্ধ করতে হইবো আর সার্টিফাইড ফতোয়াবাজ তৈরী করনের লাইসেনস দিবো আওয়ামি লীগ...যদি তারা ক্ষমতায় আসবার পারে। আমি আমার চারপাশের শুভ বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষগো এমনকি কাঁদতেও দেখি...এ কী!

আসলেই কি আওয়ামি লীগ মুক্তিযুদ্ধের মূলনীতির সাথে প্রতারণা করে? মুক্তিযুদ্ধের মূলনীতি আসলে কি ছিলো? এই দেশের ইসলামী মনোভাবসম্পন্ন মানুষের মুক্তিযুদ্ধ নিয়া আসলে কিরম ভাবনা? তারা আসলে এই দেশের মুক্তির প্রয়োজনীয়তা আর পরবর্তীতে যেই রাষ্ট্রীয় কাঠামো নিয়া কিরম ভাবছিলো? আমি যেইরম জানি তাতে এই দেশে মুক্তিযুদ্ধের সময় মূল শত্রুর মূল অস্ত্র ছিলো ধর্মরাষ্ট্রের সংহতি রক্ষার তাগীদ। তার বিরুদ্ধে একটা জাতি যুদ্ধ করছে হুদাই বঞ্চনার ক্ষোভে? পাকিস্তানীরা বেশি সম্পত্তির ভাগ ভোগ করে এই ঈর্ষায়? আমি জানি না ইসলামী ইতিহাসবেত্তারা কি ভাবেন...কারণ তাগো খুব বেশি লেখালেখি নাই...মাওলানা আব্দুল মতিনের একটা বিশ্লেষণ ছাড়া আর কিছু পাই নাই...অন্যান্য ব্লগারগো কাছ থেইকা সাহায্য পাইলে ভালো হইতো।

কিন্তু আওয়ামি প্রতারণা নিয়া আমি তা'ও অনেক দুঃখ পাইনা কেন? চাইরপাশের অনেক মানুষের হতাশায় কেন আমার কোন প্রতিক্রিয়া হয় না? আবারো প্রশ্ন করি নিজেরে...এইবার দেখি উত্তর রেডী...আমি আওয়ামি গো থেইকা আসলে কোন কিছুই প্রত্যাশা করি না। তারা যখন গোলাম আযমের সাথে দেখা কইরা নির্বাচন পূববর্তী দোয়া নিয়া বৈতরনি পাড় হয়, তারা যখন দলে রাজাকারগো অন্তর্ভূক্ত করে, তারা যখন পতিত স্বৈরাচাররে নির্বাচনী সহযোগী বানায়...তারা যখন ফতোয়াবাজিরে সাংবিধানিক করনের উদ্যোগ নেয়...আমার কাছে মনে হয় এইসবতো স্বাভাবিক!! আওয়ামি লীগ কি কেবল আন্দোলন করবার দল! তাগো ক্ষমতামূখীন স্বভাব কি এক্কেরেই নাই! শেখ মুজিব এই দেশের ক্ষণজন্মা যেই কয়জন রাজনৈতিক চরিত্র ছিলো তাগো মধ্যে এক নম্বর হইবেন এই বিষয়ে আমি নিশ্চিত। আওয়ামি লীগ তো তার ভাবধারায় চলে চিরকাল...তিনি আসলে কিরম ভাবে এই দলের গতিপথ তৈরী করছিলেন?

স্বাধীনতার আগে শেখ মুজিবের ছয় দফা দাবী ছিলো পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রথম ক্ষমতাকেন্দ্রীক আন্দোলন। এই ছয় দফা কি এই দেশের মুক্তির সনদ? নাকি ক্ষমতায় কার অংশীদারিত্ব বেশি থাকবো সেইটার আমল নামা? শেখ মুজিব তখন এই ভাবেও সমাধান সম্ভব তা ভাবতেন বইলাই আওয়ামি লীগ 6 দফারে সমাধান ভাবছে...মার্কিন নীতির সমর্থক আওয়ামি প্রধান শেখ মুজিব কিন্তু প্রয়োজনরে আবার অস্বীকার করতে পারেন না...তিনি পক্ষ পালটান, তিনি তাগীদ পালটান, তাড়না পালটান...এই দেশের মুক্তির পথ হিসাবে সামনে চইলা আসে স্বাধীনতা আন্দোলন। আবার যেই লোক নিজে ধর্ম নিরপেক্ষতারে মূলনীতি বলেন সংবিধান প্রণয়নে...সেই লোক চইলা যান মধ্যপ্রাচ্যে, উদ্দেশ্য দেশটারে মুসলিম সাটিফাইড করন। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে ইসলামী গবেষণা করনের কথা ভাবেন...এই সব কিছু ক্ষমতাকেন্দ্রীক ভাবনা। একটা বুর্জোয়া রাজনৈতিক দলের যেই চিন্তা থাকে ক্ষমতারে কেন্দ্র কইরা তার সবটাই তিনি দেখান তার ছোট্ট বাংলাদেশী সময়ে। যেহেতু মতাদর্শের পুরাটা জুইড়াই থাকে প্রয়োজনবাদ তাই জনতারে হাতে রাখনের কৌশল! তিনি জানতেন ধর্ম কেমনে ম্যানিউপুলেশনের অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করা হয়...তার পথ বন্ধ করনের চেষ্টা তিনি করেন। কিন্তু রাজনীতিতে অনেক সময়েই প্রতিরোধে কাজ হয় না...প্রতিষেধক, প্রতিশোধ লাগে!

যাউগ্গা আওয়ামিরা যখন আবার একইরম ভাবে 70'এ প্রণীত হওয়া দলীয় মূলনীতি পালটাইয়া নিজেদের বাজার অর্থনীতি মূখী করে...তারা 72'এর সংবিধান থেইকা নিজেরাই অনেকদূর সইরা আসে। এতো সব কথা কইলাম আওয়ামি লীগের নির্বাচনমূখী বাস্তবতা বুঝাইতে। তারা খেলাফত মজলিশের সাথে চূক্তি করুক, তারা রাজাকাররে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করনের সুযোগ দেক, কিচ্ছু যায় আসেনা...আমার মনে হয় এইটাই একটা নির্বাচনমূখী দলের আদর্শ হইতে হয়...শেখ হাসিনারে হত্যার ষড়যন্ত্র কইরাও নৌকা প্রতীকে ভর করনের রাস্তা কইরা দেয় এই নির্বাচনমূখী মানসিকতা।

আমার এতো বড় পোস্ট আসলে একটা ছোট কথা কওনের ভূমিকা...দেশের এই যে অদ্ভুত রাজনৈতিক সংকট...এই সব হইলো নির্বাচনমূখী রাজনীতির অসারতার প্রমাণ...প্রয়োজন আসলে পরিবর্তনের...আমি নিজেরে পরিবর্তনের স্রোতে রাখতে পারি নাই...কিন্তু কেউ যদি সঠিকতার ডাক দেয় তারে ফিরাবার পারুম!!!????


সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সী পার্ল এবং চারপাশ

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৪


খুব ভোরে ঘুম ভাঙ্গল। সূর্য তখনও জাগেনি। ব্যালকুনিতে গিয়ে বসলাম কিছুক্ষন। সামনে সাগর আপনমনে ঢেউ তুলে নাচছে। একজন মানুষও নাই সাগরপাড়ে। এমন নিরিবিলি সাগরপাড়ই চেয়েছিলাম। যেখানে পুরোটাই আমার থাকবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ড. ইরফান আল-হোসাইনীর রহস্যজনক মৃত্যু - জীবনের চেয়ে কোনো সম্পর্ক বড় নয়

লিখেছেন এমএলজি, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪০

= ড. ইরফান আল-হোসাইনীর রহস্যজনক মৃত্যু - জীবনের চেয়ে কোনো সম্পর্ক বড় নয় =

বিশ্বখ্যাত আমেরিকান বহুজাতিক প্রযুক্তি কোম্পানি এনভিডিয়া (NVIDIA)-তে কর্মরত, বুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং অত্যন্ত সম্ভাবনাময় তরুণ বিজ্ঞানী ড.... ...বাকিটুকু পড়ুন

জলসার আসর

লিখেছেন নিচু তলাৱ উকিল, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:১০

রঙ্গিন শহররের বুকে তাম্বু টাঙিয়ে বসিয়েছি জলসার আসর।
ধর্মীয় বয়ানের ফাঁকে;
গলির মাথায় বেজে উঠছে উলুধ্বনি।
এদিকে তুমি আর আমি ডুবে আছি কলকির ধোঁয়ায়।
নোনতা ঘামের ব্যবচ্ছেদে পুটিমাছের বুক চিরে মেখে দিয়েছি পাঁচ প্রহরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ শেষ জীবনে

লিখেছেন সামিয়া, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৯



ঘুমিয়ে থাকা একজন মানুষ কখনো কখনো জেগে থাকা একজন মানুষের চেয়ে অনেক বেশি ভালো থাকতে পারে? কথাটা শুনতে অদ্ভুত। কিন্তু বয়স হলে মানুষ অনেক অদ্ভুত কথাই বিশ্বাস করে চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রপতি পদে আনভীর সোবহানকে দেখতে চাই।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪২


সায়েম সোবহান আনভীর। এক বিশাল বিজনেস টাইকুন, বসুন্ধরা গ্রুপের যোগ্য কান্ডারী। আহা, কী তার ব্যক্তিত্ব! দেখতে যেমন সুন্দর, চরিত্রও যেন মাশাআল্লাহ্ ফুলের মতো পবিত্র। আর বসুন্ধরা গ্রুপের কথা তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×