somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একুশে ফেব্রুয়ারী নিয়া কিছু সমৃতিকাতরতা আর প্রাসঙ্গিক ভাবনা

২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ রাত ১:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তখন স্ট্যান্ডার্ড টুতে পড়ি...ভোরে ঘুম থেইকা উঠতে হইবো এই চিন্তায় সারা রাইত নিঘর্ুম...আমার প্রথম প্রভাত ফেরী...বাপ আর মায়ের কেনী আঙুল ধইরা আমরা তিন ভাই-বোন ধানমন্ডি থেইকা খালি পায়ে গেছিলাম শহীদ মিনারে...লাখে লাখে মানুষের আগমন...সেইদিন আমরা নাস্তা করছিলাম চীনাবাদাম দিয়া, এইটুক মনে আছে...তয় কেন যে আর কয় বছরের মধ্যেই শহীদ মিনারে যাওনের আগ্রহটা বাপ আর মা হারাইয়া ফেলছিলো, তা বুঝি নাই বহুকাল...পুঁজিবাদের তত্ত্বমতে কোন এক বড় পুঁজি যখন আমার বাপের ছোট পুঁজিরে গিলা খাইয়া ফেললো তখন থেইকাই তারা কেরম নিস্পৃহ হইলেন...জাতীয়তাবাদের কঠিন পুঁজারী বাপ-মা তখন আইলসামীরে বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করলেন...আমি এই পরিবারে এইরম অস্থিরতায় বাইড়া উঠলাম...

ক্লাস সেভেনে উঠনের পর আমি প্রথম একা একা শহীদ মিনারে যাওনের অনুমতি পাইলাম...অনেকদিন লাগছিলো আমার অভিভাবকগো আমারে এই স্বাধীনতা দেওনের সিদ্ধান্ত নিতে...আর এই সিদ্ধান্ত নিতে তাগো আমার তেলেসমাতি দেখাইয়া একরাইত হাজত বাস করতে হইছিলো...সে অন্য গল্প! কিন্তু ক্লাস সেভেন থেইকা আমি প্রতি একুশে ফেব্রুয়ারী রাইতে অ্যালার্ম দিয়া ঘুমাইতে যাই, 5টায় ঘুম থেইকা উইঠা সোয়া 6টার মধ্যে শহীদ মিনার। তয় এই স্বাধীনতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওনের পর আরো দূর এক্সটেন্ডেড হইলো...20 তারিখ রাইত 12টার পর থেইকাই আমি শহীদ মিনার নিবাসী হই।

একসময় যেইটা ছিলো ভোরের শহরে স্বাধীনভাবে হাটতে পারনের আনন্দ...সেইটা পরিবর্তীত হইয়া জাতীয়তাবাদী প্রকাশ...তারো রূপ পালটানির খেলায় একটা প্রতিবাদী আন্দোলনের রক্তভেজা ঘ্রাণ নেওনের শপথ...এইভাবে একুশে ফেব্রুয়ারী আমার পরানের গহীন ভেতরে আসে। মানজারে হাসীন মুরাদের সাথে একটা ডকু্যমেন্টারীতে সহকারী হিসাবে থাকনের অভিজ্ঞতায় আমি প্রায় জনা দশেক ভাষা সৈনিকের সাথে মোলাকাত করতে পারছিলাম। 2001 সালে আশি অতিক্রান্ত 5 ভাষা সৈনিকের আড্ডায় যেই আলোচনা আমারে নতুন কইরা ভাবতে শিখাইছিলো, সেইখান থেইকা একুশে ফেব্রুয়ারীরে আমি অনেক অন্যরম একটা আন্দোলনের অংশ হিসাবে দেখতে পাই।

এই বৈষম্যমূলক রাষ্ট্রে ভাষা কেমনে শোষণের হাতিয়ার হইয়া উঠছে! সেইটা নিয়া আমি আলোচনা করতে শুনছিলাম বিপ্লবী ঐ মানুষগুলিরে। প্রতিষ্ঠানের ভাষা তাই অনেক সিভিল-সুশীল...এই ভাষা কাউরে আক্রমণ করতে শিখায় না। আক্রমণ করনের অধিকার কেবল উপরের শ্রেণীর। আমার ভাষা যদি সুশীল না হয়, তাইলে তার প্রবেশাধিকার নাই সমাজের সকল সমাবেশে...মানুষ একরম বাংলায় কথা কয় তাদের পারিপাশ্বর্িক যোগাযোগে, প্রতিষ্ঠানের কাছে গেলেই ঐ ভাষা হয় আনস্মার্ট! কারা জানি ঠিক কইরা দেয় বাঙালীর বাংলা ভাষার অভিধান...যেই খানে যারা পড়তে লিখতে পারে তারা এক ভাষা কওনের ক্ষমতা রাখে, আর অন্যরা হয় অন্য কিছুই কয়, নাইলে অপভ্রংশের শৃঙ্খলে বান্ধা!

আমি জানি না ভাষার বৈষম্য নিয়া প্রতিষ্ঠানের আচরণ আসলে কেমনে পালটানো সম্ভব! কিন্তু একুশে ফেব্রুয়ারীর উদাহরণ সামনে নিয়া সবসময় কেরম বিপ্লবী বাসনাই জাগে!

লাল সালাম সকল ভাষা সৈনিকেরে!
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
২৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সেই সৈনিকটি কি রাতে ঘুমাতে পেরেছিল?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:১৯


সেই সৈনিকটি কি রাতে ঘুমাতে পেরেছিল?

এই বাংলাদেশের পলিমাটিতে ইতিহাস খুব ভয়ংকর।

এখানে কখনো কখনো নদী শুধু পানি বহন করে না- বহন করে রক্তের স্মৃতি।
গাছ শুধু ছায়া দেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

কুরআন থেকে মাদ্রাসার ছাত্রের বিস্ময়কর বিদ্যুৎ আবিস্কার :-ls

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৫২

চারিদিকে বিদ্যুতের জন্য ত্রাহি ত্রাহি অবস্থার মধ্যে মাদ্রাসার এই ছাত্রটি কুরআন গবেষণা করে আমাদের জন্য ফ্রি বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছেন। বিজ্ঞান পড়েননি, পড়েছেন কুরআন-হাদিস! সেই মাদ্রাসাছাত্রই বানালেন মাধ্যাকর্ষণ দিয়ে বিদ্যুতের যন্ত্র!

অবেশেষে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন এক মরীচিকা

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:২৬


ফেসবুক এ কতজনই ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায় সবার সাথে কথা হয় না। তানিম ছেলেটি কবে থেকে ফেসবুক এ ছিল মনে নেই। একসময় সে যোগাযোগ করল আমার লেখা, পড়ার আগ্রহ দেখালো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে----- ড্রাকুলা হাসিনা।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৭



ড্রাকুলার হাসিনা তো আর এমনি এমনি বলেনি যে, আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে।

রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। যা মূলত ভারতকে একতরফা সুবিধা দেওয়ার জন্য তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবিশ্বাস্য, অবিস্মরণীয়! বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে!!! :-ls B-)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯



অবিশ্বাস্য, দুর্দান্ত, অতুলনীয়,অবিস্মরণীয় যে বিশেষণই ব্যবহার করি না কেন বাংলাদেশের এই জয়ের মহত্ব বুঝাতে কোন শব্দ ভান্ডারই যেন যথেষ্ট নয়। আমি রীতিমত বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি বাংলাদেশের এমন পারফর্মেন্স দেখে!! বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×