১৯৮২...এরশাদ সাহেব তখন মাত্র দুর্নীতিবাজগো বিরুদ্ধে সোচ্চার হওন বন্ধ করছে। কারণ পুরানা দুর্নীতিবাজরা তার ছায়াতলে চইলা আইতে শুরু করছে, তখন তিনি ধুয়া তুললেন রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করনের...সামরিক শাসক হিসাবে তখন তিনি আমাগো একমাত্র প্রচারমাধ্যম বিটিভি'র সকল খবরের প্রাণকেন্দ্র। প্রতি জুম্মায় নতুন একখান মসজিদে যান তিনি আর ইসলামরে রাষ্ট্র ধর্ম বানানের প্রতি তার সমর্থনের আর চাহিদার কথা উল্লেখ করেন। বাপ-মা দুইজনেই রাজনীতি সচেতন হওনে আমারও ঐসব সংবাদ দেখতে হইতো ঐ বয়সে।
আমার শৈশবেই আমি মানুষ হইছি অলমোস্ট ইচ্ছাধীন...স্কুলের বাইরে কখন খেলনের টাইম, কখন পড়ালেখা, এইসবে অভিভাবকেরা বেশি নাক গলাইতেন না। নিজের মতোই আমি পড়তাম, না বুঝলে মায়ের কাছে যাইতাম বুইঝা নিতে, মা মাস্টারনী হওনে বুঝানের ক্ষমতা পাইছিলেন অপরিসীম। তাই স্কুলের পর দুপুরটা আমার ছিলো এক্কেরে ছাড়া গরুর মতোন। রাস্তায় বন্ধু-বান্ধব লইয়া দৌড়াদৌড়ি...এক্কেরে বিকাল তমাইৎ!
আমাগো ধানমন্ডির গলির ভিতরেও তখন মিলিটারীগো ভ্যান ঘুরে ফিরে...একদিন দুপুরে সামনের বাসার আন্টিরে দেখি বাড়ির থেইকা বাইর হইতে, তিনি একটু মোটাসোটা ছিলেন। এপ্রিল মাসের গরমে তার হাসফাস অবস্থা। সামনে মিলিটারীর ভ্যান দেইখা তিনি হাটতে শুরু করলেন...আমরা একটু দূরে খেলি সাতচারা।
আন্টি একটা রিকসা ডাকলেন, রিকসায় উইঠা দিলেন হুড তুইলা। তারপর রিকসা চলতে শুরু করলো। আমরা দেখি একটু সামনে দুইজন আর্মি দাঁড়াইয়া কি জানি গুজুর-গুজুর ফুসুর-ফুসুর করতেছে...তাগো সামনে একটা টিনের মধ্যে কিসব! আন্টির রিকসা একটু সামনে যাওনের পর...তারা টিন থেইকা কালা কালা কি তুইলা, রিকসার হুডের পিছনের ফাক দিয়া আন্টির পিঠের যেইটুক অংশ দেখা যাইতেছিলো শাড়ির ফাক দিয়া সেইখানে ছুইড়া দিলো!
...পরে বাপ-মা'র কথোপকথনে শুনছি, এরশাদ সেনাশাসনে নাকি মহিলাগো পর্দা প্রথা চালু করনের উদ্যোগ ছিলো! তাই নারীর শরীরের যেইটুক অনাবৃত অবস্থায় দেখা যাইতো সেইখানে আলকাতরা মাইখা দেওনের নির্দেশ ছিলো...আর্মির বিখ্যাত দৃষ্টান্তমূলকতা!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




