আশেপাশে খুঁজলে দেখা যায় এ যুগেও বাংলাদেশে রাজাকারের সংখ্যা নেহায়েত কম না।
কী??রাজাকার??এই স্বাধীন বাংলায়!!
জ্বী,আঁতকে উঠার কিছু নাই,রাজাকার ই...
এই তো কিছুক্ষণ আগে হরতালের সমর্থনে বিপ্লবী সাহসী ভাইবোনদের ফেসবুকে পুলিশই নির্যাতনের ছবি দেখছিলাম,
এক মেয়েকে পুলিশ তলপেট বরাবর লাথি মারছে এমন একটা ছবি।ছবি দেখে শিউরে যাই, ভীমরি খাই এসব আবাল বলতে ইছা করতেছে না।ওই ছবিগুলার নিচে এক ধার্মিক হিজাব পরা মহিলার কমেন্টঃ
“মেয়ে মানুষরা পিকেটিং করতে রাস্তায় নামছে, পুলিশের মাইর খাইছে,এটাই দরকার ছিল।”
হায়রে আবাঙ্গাল নারী!কি ইস্যুতে হরতাল,কারা হরতাল ডাকল,কাদের বিরুদ্ধে ডাকল কোন হুঁশই নাই,সে যে কোন মুল্লুকে আছে খোদাই জানে!!তার সবকিছুর ফোকাস চিন্তা হল বেগানা নারীদের মাথায় কাপড় নাই ক্যান!!তারা পরপুরুষ পুলিশের সামনে কেন বেপর্দা মিছিলে নামবে!
আমরা কটা মানুষ (নারী বা পুরুষ) পারব দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে নিজের আরাম-আয়েশের কথা ভুলে,নরম গদির বিছানা ছেড়ে মায়ের সম্পদের স্বার্থে রাজপথে নামতে?কে পারব নিজের সম্মান-মর্যাদা ভুলে পুলিশের বেয়নেটের সামনে বুক পেতে দাঁড়াতে?
তবে আশার কথা তার এই কমেন্টের প্রতিবাদে প্রথমে এক নারী কণ্ঠই জেগে উঠল! এবং আরও কতজন মিলে তার কথার যোগ্য উত্তর দিয়ে তাকে “রাজাকার” উপাধি দিয়ে দিল।
আমি বুঝতে পারলাম রাজাকার কারা, এ যুগের এরাই “ডিজিটাল রাজাকার”।
এবার বিশ্বাস হল তো!!
হায়রে রাজাকার!!!তোমাদের চিন্তা-ধারার গণ্ডি এত সংকীর্ণ কেন??শুধু জাহান্নাম-দোজখের জন্যই কি এই জীবন?চারপাশের দেশ-মাটি-মানুষ এরা কিছু না?এরা আপন না? দেশমাতার জন্য যুদ্ধ কি জায়েজ না?
তোমাদের কাছে তোমরা নিজেরা আর নিজেদের পরকাল ছাড়া কিছুই বড় না!
যেসকল নারীরা দেশের সম্পদের জন্য লড়াই করছে তাদেরকে ধিক্কার করে সে।
তারা এ যুগের “ডিজিটাল রাজাকার”।
এভাবে খুঁজলে আরও রাজাকার পাওয়া যাবে বৈ কি!না না, বেশি দূরে যেতে হবে না, আপনার ফেসবুক ফ্রেন্ডলিস্টে চোখ কান খোলা রেখে চেক করুন, আমি নিশ্চিত মীর জাফর আরও বেরোবে।
৩ জুলাই হরতাল গেল, তাতে আমার দৈহিক সমর্থন ছিল না , কিন্তু নৈতিক সমর্থন অবশ্যই ছিল।অবশ্য নৈতিক সমর্থন দিতে কোন কষ্টই করতে হয় না, শুধু বুদ্ধি জীবীদের মত বুঝে না বুঝে মাথা ঝুলাতে হয়- হুমম হুমম বলে।
হুমায়ুন আজাদ স্যরের বুদ্ধিজীবীর সংজ্ঞাটা মনে আছে তো?
“এটি এক অত্যন্ত মর্মস্পর্শী করুন প্রজাতি, এর কোন মগজের দরকার হয় না, এর দরকার শুধু গায়ের রং, গলা ও জিভ।যখন যে কুমিররা আসে তাদের পছন্দ মত রং বদলায় এ গিরগিটিগুলো আর মগজের দরকার নেই বলে এদের কোন মাথা নেই, আছে শুধু গলা ও জিভ। মগজ নেই বলে এরা টিকে আছে, এরা টিকে আছে এটাই আমাদের গৌরব।”
হুম, আশেপাশে খুঁজলে সেই বুদ্ধিজীবীর সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়, বরং কাকের সংখ্যার চেয়ে বেশিই।
এইতো সেদিন আমার ফ্রেন্ড লিস্টের এক ফ্রেন্ড- বিশিস্ট বুদ্ধুজীবী তার ফেসবুক ওয়াল জুড়ে বিদ্রোহী শিল্পে রক্তাক্ত করে ফেলল!!
''আরও একটা যুদ্ধের পথে আজকে পা বাড়ালাম….. বহুত হ্যান ত্যান।''
আমি জিজ্ঞেস করলাম- হরতালে attend করে আসলেন?
কোন উত্তর নেই।
আবার পরেরদিন বুদ্ধুজীবীকে অনলাইনে পেয়ে ধরলাম- হরতালে গিয়েছিলেন?
বুদ্ধিজীবীদের আছে শুধু গলা ও জিভ। সে তার গলা ও জিভের সুনিপুণতায় বুঝিয়ে দিল ''হরতালের আগে আমাদের জনসমর্থন গড়ে তোলাটা জরুরি,আরও জরুরী......এর সাথে দেশ ও জনগণের স্বার্থে হ্যান জরুরি এবং তার সাথে দেশপ্রেমিক হিসেবে ত্যানও জরুরি।আর আমি হলাম হ্যান ত্যান হ্যান ত্যান (মানে সে হল বুদ্ধিজীবী মানুষ সেটা বুঝাছে) আমার পক্ষে তো সরাসরি হরতালে নামা সম্ভব নয়।''
জি, বুদ্ধিজীবী বলে কথা,চাইলেও অনেক কিছুই করা যায় না।
ভাবছি আরেকটু বড় হলে আমিও বুদ্ধিজীবী হব!!
এতে কিছু না করেও অনেক কিছু করার ভান করা যায়,কিন্তু কিছুই খোয়াতে হয়না, বুদ্ধিও না, সাহসও না, শক্তিও নাহ।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জুলাই, ২০১১ বিকাল ৩:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


