somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রসঙ্গঃ- ঢাবির শিক্ষক গ্রেপ্তার এবং আমার প্রতিক্রিয়া

১২ ই জুন, ২০১২ রাত ১:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

খবরঃ- স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জাফর আহমেদ খানকে আজ সোমবার গ্রেপ্তার করেছে শাহবাগ থানা-পুলিশ।
গতকাল রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করে স্বামী জাফর আহমেদ খানের বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতন ও যৌতুক চাওয়ার অভিযোগ করেন তাঁর স্ত্রী রেবেকা পারভীন। এ বিষয়ে তিনি গত ২৯ মার্চ আদাবর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি ও ৩০ মে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে যৌতুকবিরোধী আইনে মামলা করেছেন তিনি।
----------------------------------------------------
ঘটনা যেহেতু আমাদের ডিপার্টমেন্টের টিচারকে নিয়ে, তাও আবার এমন টিচার, ডিপার্টমেন্টের বেস্ট টিচারের নাম জানতে চাইলে নিশ্চিতভাবে ৯০% তার নাম বলবে। তাকে নিয়ে এই হুলস্থূল কান্ড আর টিভি পেপার জুড়ে প্রতিক্রিয়া, এমন কি তার স্টুডেন্টদের কাছ থেকেও খুবই ভয়াবহ বাজে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখতে দেখতে আমি আমার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত না করে পারলাম না।

জাফর স্যার একটা খারাপ কাজ করছে, সে বউ-সংসার-বাচ্চা থাকতে পরকীয়া করছে, আরেকটা বিয়ে করছে, এইটা খুবই ঘৃণিত কাজ!সন্দেহ নাই।
কিন্তু তার বিরুদ্ধে যে মামলা দেয়া হয়েছে(সূত্রঃ প্রথম আলো), কোন জায়গায় এই সেকেন্ড ম্যারেজের কথা বলা হয়নি, তার বিরুদ্ধে যৌতুক ও নির্যাতনের অপরাধে মামলা করা হয়েছে।
আমার দৃঢ় বিশ্বাস জাফর স্যারের মতন মানুষ যৌতুক নেয়া বা শারীরিক নির্যাতন করেন নি, বরং দ্বিতীয় বিয়ের ব্যাপারে হয়ত স্যারকে মামলায় ফাসানো যেত না, আর নারী নির্যাতন মামলা অনেক বেশি ভয়ানক ও কার্যকরী, তাই তাকে এই মামলায় ফাসানো হইছে।
চতুর্থ বর্ষের তোফায়েল ভাইয়ের সাথে আমিও ে ব্যাপারে একমত--"যৌতুকের বিষয়টা সাজানো খুব সুন্দর নাটকের গল্প ছাড়া কিছুই না।প্র্ধান যে কারণে স্যারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা যেত সেটা এখানে করা হয়নি।করা হয়েছে বানোয়াট বিষয় নিয়ে।আমার মনে হয় যৌতুকের এই অভিযোগ গু্লো গত কয়েক মাস ধরে সাজনো হয়েছে, নয়ত দ্বিতীয় বিয়ের পর পরই কেন অভিযোগ দায়ের করা হলো না?"

কিন্তু স্যারকে আমরা অনেক রেস্পেক্ট করতাম, স্যারের পার্সোনালিটির জন্য, স্যারের পড়ানোর স্টাইলের জন্য, আমরা খুব গর্ব করে বলতাম- পরিসংখ্যান ডিপার্টমেন্টে এত ভালো টিচার বোধহয় আর নেই!হি ইজ দ্য মোস্ট ট্যালেন্টেড এন্ড জিনিয়াস টিচার ইন আওয়ার ডিপার্টমেন্ট!

এখন অনেকের রেস্পেক্টের জায়গা হয়ত স্যার হারাবে, ইতিমধ্যে সে তার নিজস্ব সম্মানের জায়গা হারিয়েছে সত্যি।
অনেকে আবার খুব হাস্যকরভাবে বলছে-"স্যার এমন করবে চিন্তাও করি নি", আচ্ছা স্যারকে তো আমরা প্রোফেশনাল জায়গায় চিনি,সে তার প্রাইভেট লাইফে কেমন তা তো কখনও আমাদের সামনে আনার প্রয়োজন মনে করেন নি! স্যার কবে আমাদের কাছে বদ্ধ পরিকর ছিলেন যে স্যার তার পুরনো সংসার ভাংবে না!অথবা নতুন প্রেম করবেন না!(শারীরিক নির্যাতনের কথা হলে ভিন্ন, কিন্তু স্যারকে যারা চিনে তারা অন্তত জানে স্যার আর যাই করুক, যৌতুক বা বউ পিটানোর মানুষ না)।

অনেকেই বলছেন এই স্যারের কাছ থেকে তার ছাত্ররা কি শিখবে?
এই প্রশ্ন গুলো আসলে গতানুগতিক।আমরা যারা স্যারের ছাত্র,আমরা জানি স্যার কতটা মেধাবী।এ্কটা ছাত্রকে শেখানোর জন্য উনি কতটা আন্তরিক।
আর স্যারের কাছ থেকে আমরা পরিসংখ্যানই শিখব,এর চেয়ে বেশি কিছু শেখার আশা এখন আর নেই। (যারা স্যারের মেধা নিয়ে কিংবা সেখানো নিয়ে প্রশ্ন তুলেন তাদের জন্য বলি, স্যারকে আমরা পরিসংখ্যানের জীবন্ত কিংবদন্তি বলি।)

স্যার তার পারিবারিক লাইফ নিয়ে খুব বাজে একটা অকারেন্স ক্রিয়েট করল, এইটার জন্য সে তার সম্মানের জায়গা হারালো। কিন্তু আশা করি- স্যার যখন আবার ডিপার্টমেন্টে ফিরে আসবেন, তখন তিনি আবার আগের মতন অসাধারণ লেকচার দিবেন, তার ফার্স্ট ইয়ারের লেকচার শুনতে মাস্টার্সের ভাই আপুরা এসে বসে থাকবে।পারসোনাল লাইফের (হয়ত) খারাপ একটা মানুষ টিচার হিসেবে আবার সবার পছন্দের হয়ে উঠবে।
২৫টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×