somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভ্রুণবিদ্যার একজন গবেষক এবং বিখ্যাত টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর "ডা. কিথ্ এল মূর" এর ইসলাম গ্রহণের ঘটনা।

৩০ শে জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ৮:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কয়েক বছর পূর্বে সৌদি আরবের রিয়াদে কিছু লোক পবিত্র কুর'আনে ভ্রুণতত্ত্বের তথা মাতৃগর্ভে মানব জন্মের ক্রমবিকাশ সর্ম্পকে যে সব কথা আছে তা একত্রিত করেন। অতঃপর তারা প্রশ্ন রাখেন কুর'আনের এই তথ্যের সত্যতা কিভাবে যাচাই করা যায়?

ঘটনাক্রমে যাচাই এর জন্যে তারা টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্রুণতত্ত্বের অমুসলিম প্রফেসার ডঃ কিথ মুরকে বেছে নেন। ডঃ মুর ভ্রণতত্ত্বের একাধিক বইয়ের লেখক এবং এ বিষয়ে তিনি একজন বিশ্ব বিশ্লেষক। তাকে রিয়াদে আমন্ত্রণ করে বলা হল কুর'আন ভ্রুণতত্ত্ব বিষয় সর্ম্পকে যা বলে তা সত্য ও সঠিক কিনা!

ডঃ মুর রিয়াদে থাকাকালীন তাঁকে কুরআনের অনুবাদসহ সবধরনের সাহায্য সহযোগিতা দেয়া হয়। ডঃ মুর যা খুঁজে পান তাতে এতটাই বিস্মিত হন যে, তিনি এম্ভ্রীয়লজি তথা ভ্রূনতত্ত্বের উপর তার লেখা পাঠ্যবইগুলি পরিবর্তন করেন।

তাঁর বইগুলির একটি হল “Before we are born” (আমাদের জন্মের আগে) এর দ্বিতীয় সংষ্করণে ভ্রুনতত্ত্বের ইতিহাস সংক্রান্ত অধ্যায়ে তিনি কিছু বিষয়ের সংযোজন করেন যা তিনি কুর'আন পড়ে খুঁজে পান এবং তা প্রথম সংষ্করণে ছিলনা। বস্তুতঃ এ ঘটনা স্পষ্টভাবে এ কথাই প্রমাণ করে যে আল কুর'আন তার সময়ের চেয়ে অগ্রগামী।

ডঃ কিথ মুর তাঁর এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে এ ব্যপারে সবিস্তারে স্লাইড ইত্যাদির প্রদর্শন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, মানুষের জন্ম বৃদ্ধি (মাতৃগর্ভে) ও কিছু কিছু ব্যপারে কোরআন যেভাবে তথ্য দিয়েছে যা মাত্র ত্রিশ বছর পূর্বেও জানা ছিলনা। তিনি বলেন বিশেষ করে এ ব্যাপারে কুর'আন একটি স্তরে মানুষের ভ্রুণের প্রাথমিক অবস্থা বর্ণনা করেছে “জোঁক সদৃশ জমাট বাঁধা রক্তপিণ্ড” (আরবী শব্দ আলাক্) হিসাবে। (সুরা আল হাজ্ব আয়াত:২২)। একই বক্তব্য আছে সূরা কুর'আন ২৩:১৪ তে।

কুর'আনে আরও আছে,

"আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি মাতৃগর্ভে তিনটি পর্দার আড়ালে।"(৩৯:৬)

আধুনিক বিজ্ঞান এই তিনটি পর্দা আবিষ্কার করেছে সম্প্রতি। এগুলো হল, ১) তলপেটের সম্মুখ প্রাচীর ২) জরায়ুর প্রাচীর ৩) ভ্রুণের পর্দা।

"মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে মিশ্রিত বিন্দু থেকে।"(৭৬:২)

এখানে মিশ্রিত দ্বারা নারী ও পুরুষের জনকোষের(শুক্রানু ও ডিম্বানু) মিশ্রনে জাইগোটের ইঙ্গিত করা হচ্ছে। অথচ সেই যুগে মানুষ ভাবত এমনকি চিকিৎসা বিজ্ঞানীরাও ভাবত সন্তানের জন্ম হয় কেবল পুরুষের বীর্যে।

"অতঃপর জোঁকের ন্যায় মাংসপিণ্ডকে পরিণত করি চর্বিত গোশতের(মুদগাহ) আকৃতির।"(২৩:১৪)

ডা. মুর অনুবীক্ষণ যন্ত্র দ্বারা ভ্রুণের এ পর্যায়ের ছবি নিয়ে প্রমাণ করেন যে এটি চর্বিত মাংসপিণ্ডের অনুরূপ। এমনকি দাঁতের কামড়ের দাগের ন্যায় চিহ্নও পরিলক্ষিত হয় ভ্রুণের এই পর্যায়ে। গুগলে এ বিষয়ে তাঁর উপস্থাপিত স্লাইডগুলো পাবেন।

এটা তার কাছে ছিল অভিনব, কিন্তু যখন তিনি তা ক্লিনিক্যালি পরখ করে দেখলেন যে তথ্য সঠিক অতঃপর তিঁনি এ তথ্য (leach like substance) তার বইয়ে সংযোজন করে নিলেন। তিঁনি বলেন “আমি এ ব্যাপারে কখনই চিন্তা করিনি”।

তিঁনি প্রানীবিদ্যা বিভাগে চলে যান এবং একটি জোঁকের ছবি চান। যখন তিঁনি দেখলেন এটা দেখতে আসলেই মানব ভ্রুণের প্রাথমিক স্তরের মতই, তখন উভয় ছবিই তার লিখিত একটি পাঠ্য বইয়ে সংযোজন করেন।

ডঃ মুর যখন টরেন্টোতে এই বই প্রকাশ করলেন তখন এ বিষয়টা বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং Canada'র বিভিন্ন পত্রিকায় এ খবর ছাপা হয়। কোন কোন পত্রিকায় হেডিং বা শিরোনাম ছিল এ রকম “প্রাচীন বইয়ে বিস্ময়কর বস্তুর সন্ধান”।

এক সাংবাদিক প্রফেসার মুরকে প্রশ্ন করেন, “আপনি কি এটা মনে করেন না যে আরবরা আগে থেকেই এসব ব্যপারে অবশ্যই অবগত ছিল, ভ্রুণের বর্ণনা, এর আকৃতি এবং কিভাবে এটা পরিবর্তিত হয় ও বৃদ্ধি লাভ করে। তারা বৈজ্ঞানিক না হতে পারে কিন্তু হতে পারে তারা কোন অমার্জিত স্থুল পন্থায় কাটা-ছেঁড়া (crude dissections) করে (অর্থাৎ কোন মহিলার পেট কেটে কুটে) এ সব জিনিস জানতে পেরেছে!”

প্রফেসার মুর তখনই তাকে বুঝিয়ে দেন যে একটি বিরাট গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তারা ভুলে গেছে , ভ্রুণের সকল স্লাইড যা দেখানো হয়েছিল তার সবই "অনুবীক্ষণ যন্ত্র"র সাহায্যে দেখা। নিশ্চয় দেড় হাজার বছর পূর্বে কোন মরুচারীর "অনুবীক্ষণ যন্ত্র" দিয়ে কারো নাড়ি-ভূড়ি কেটে ভ্রুণতত্ত্ব নিয়ে লেখা অসম্ভব ছিল কেননা "অনুবীক্ষণ যন্ত্র" সাম্প্রতিকতম আবিস্কার।

যাহোক, এই ছিল ডা. কিথ মুরের ইসলাম গ্রহণের ঘটনা।

এ পড়ে বাঙালীর কি কাজ! বাঙালি বিজি থাকুক বেজ্ঞানী জাফর ইকবাল কিংবা বুদ্ধিজীবী হুমায়ুন আজাদের ধর্মতত্ত্বে।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে আমি কয়েকটা জিনিস বুঝতে পারলাম।

প্রথমত,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×