কামাল হোসেন, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ও মাহমুদুর রহমান মান্না ত্রয়ীর সাম্প্রতিক দৌড়ঝাঁপসমূহ মোটেই তাৎপর্যহীন নয়। পর্দার অন্তরাল ও উপান্তরালে অনেক কিছুই ঘটছে বলে অনুমান করি। রাজনীতির ভাষায় একে প্রাসাদ ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করা হয়।
আমেরিকা থেকে প্রকাশিত বাংলা সাপ্তাহিক আজকালের বরাত দিয়ে আমাদের সময় বলছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নাকি প্রধানমন্ত্রী হাসিনা ওয়াজেদকে ফোন করে বিরোধীদের সাথে সংলাপে বসা ও খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের অভিলাষ ত্যাগ করতে আহবান জানিয়েছেন। অবশ্য এখনই এই খবরকে বিশ্বাস করার কিছু নেই। কারণ এটা সম্পূর্ণ উড়ো খবরও হতে পারে। এখন দেশে চলমান গৃহবিবাদে প্রোপাগান্ডাও চলছে দস্তুরমতো যুদ্ধকালীন তৎপরতায়। ফলে কথিত ফোনালাপের এই খবরে উল্লসিত বা ব্যথিত হবার অবকাশ এখনও আসেনি।
তবে এই খবরে যদি সত্যতা থেকে থাকে, তাহলে এটা বলা যায়, বিগত প্রায় সাত বছরে দিল্লী বাংলাদেশে অনৈতিক আধিপত্য জারীর যে প্রকাশ্য ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলো, নরেন্দ্র মোদীর মার্কিনপন্থী সরকার তার থেকে সরে এসেছে, অথবা নিদেনপক্ষে বাংলাদেশে প্রকাশ্যে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা পরিহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থাৎ কংগ্রেস আমলের মতো দ্ব্যর্থহীন ভারতীয় আনুকূল্য এখন যে আওয়ামী লীগের জন্য ব্রাত্য, তা প্রকাশ্য হলো। এই একটি বিষয়ে অবশ্য গত মে মাস থেকেই আমার অনুমান ছিল অটুট। অধিকিন্তু, কথিত এই ফোনালাপ যদি সত্যি হয়ে থাকে, তবে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিংয়ের বরখাস্তের একটি অন্যতম সম্ভাব্য কারণও আমাদের সামনে উপস্থিত হয়েছে।
সবকিছুর বিবেচনায়, সম্ভবত আসন্ন ফেব্রুয়ারী মাসটি অপসৃয়মান জানুয়ারীর চেয়ে বেশি ঘটনাবহুল ও নাটকীয়তাময় হতে যাচ্ছে...!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





