somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্বর্গীয় ভ্রান্তি

২৩ শে জুলাই, ২০১৬ রাত ১২:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কখনো ভাবিনি যে এতটা তাড়াতাড়ি আমাকে মারা যেতে হবে...
সেদিন যখন ট্রাকটা আমাকে ধাক্কা দেয়, আমি বুঝতে পারি- এটাই শেষ। খুব কষ্ট হচ্ছিল আমার। খুব। কাছের সব মানুষের কথা একটা তীক্ষ্ণ গ্লিপ্সে মনে নাড়া দিয়ে যায়। পর মুহুর্তেই বুঝতে পারি আমার আসলে কষ্ট পাবার কিছু নেই। আমি সারা জীবন ধার্মিক ছিলাম। উপাসনা করেছি স্রষ্টার আর সমাদোর করেছি সকল শুভ জিনিসের। অশুভ শয়তানের প্রোরোচনায় কখনই পা দেইনি সজ্ঞানে। তাই মৃত্যুর পরে সুচি স্রষ্টার প্রতিশ্রুত ওই চির শান্তির জগতেই হয়ত আমার ঠাই হবে। আহ... অসাধারন এক প্রশান্তি নিয়ে আমি আমার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলাম সেদিন।
জ্ঞান ফিরে এলো কখন আমি জানি না। বুঝলাম পুনরুত্থানের সময় এসেছে। আর একটু পরই আমি দেখা পাবো আজীবন লালিত এক স্বপ্নের, সেই অদেখা স্বর্গের।
আমি উঠে দাঁড়ালাম। আশেপাশে আরো অসংখ্য মানুষ। বিশাল প্রান্তরের একদম সামনে একটা প্রকান্ড আসন। সেখানে উঠে বসলেন একজন। তাকে দেখে আমি চমকে উঠলাম- এভাবে তো কখনো তাকে কল্পনা করিনি...
"হ্যালো গাইজ...হ্যালো বেবস। লেট মি ইন্ট্রোডিউস মাইসেলফ- দ্যা লুসিফার। সকল প্রকার অশুভর ধারক ও বাহক।" এরপর এক প্রকান্ড হাসি..
পুরো মাঠে শোরগোল পড়ে গেল। আমি জাস্ট টাস্কি। এটা কি হইলো? মানে কি?
"কি? বুঝতে পারছো না? ভালো-মন্দের যুদ্ধের চিরায়ত যেসব গল্প তোমরা শুনেছ বিভিন্ন ধর্মে, মিথে, সেগুলো আসলে সত্যি। শুরু থেকে তোমাদের সময়ের মাঝপথ পর্যন্ত শুভরা ছিল এগিয়ে। আমি শয়তান মার খেয়েছি পদে পদে, প্রতিটা যুদ্ধে। সুচিশুভ্র গড ছিল তোমাদের উপর ফুল কন্ট্রোলে। আর তাই তোমাদেরকে গাইড করতে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন অবতার, দূত আর বইপত্র। ঘটিয়েছেন নানা মিরাকেল। কিন্তু একটা সময় অশুভ শক্তি ওভারথ্রোন করেছে ওই নির্লিপ্ত শুভ স্রষ্টাকে। ক্ষমতায় এসেছি আমি- মিস্টার লুসিফার" বলে কলার ঝাঁকিয়ে হাসি দিল শয়তান।
সবাই অবাক। আমার পায়ের নিচ থেকে যেন মাটি সড়ে যাচ্ছে। আর সহ্য করতে না পেরে চিৎকার করে বললাম- "এ হতে পারে না। আমি বিশ্বাস করি না।"
শয়তান ক্রুর হাসি দিয়ে বললো- "সিরিয়াসলি? এটা বোঝা কি এতটাই কঠিন ছিল? তুমি তো একবিংশ শতাব্দিতে বেঁচে ছিলে। তুমি জানতে না আগে- বহু আগে শুভস্রষ্টা নিয়মিত তার বানী পাঠাতেন পৃথিবীতে? ঘটাতেন আশ্চর্যকর সব ঘটনা? মানুষ চাইলেই তিনি ধরা দিতেন তাদের চিন্তায়, তাদের চেতনায়। যেখান থেকে উৎপত্তি হয়েছিল তোমাদের সব ধর্মের, উপকথার, মিথলজির। তোমার সময় এগুলো গেল কই? তোমার সময় পৃথিবীতে তারাই রাজত্ব করেছে যারা খারাপ। শুভর পবিত্র ধারা আরো বহু আগেই বন্ধ হয়ে গেছে পৃথিবীতে। এটা বোঝা কি তখন খুব কঠিন ছিল যে শুভ শক্তির পতন হয়েছে উপরে?"
নরওয়ের কিছু ছেলেপেলেকে দেখলাম আনন্দে হেডব্যাং করছে। সানি লেওন তার গেঞ্জি তুলে চিৎকার করলো- "ফাক মি লুসিফার, ফাক মি"
লুসিফার লুইচ্চা একটা হাসি দিয়ে বলল- "অবশ্যই বেবি। শুভ জিউস এটা পারলে আমি কেন পারবো না? হাহাহাহা..."
একজন বিখ্যাত নাস্তিক প্রশ্ন করলেন- "তুমি তাহলে তখন তোমার বাণী প্রচার করনি কেন? আমরা বুঝতাম।"
"তোমার কি মনে হয় আমি এসব নিয়ে একফোঁটা বোদার্ড? কাম অন, আমি লুসিফার, দ্যা ইভেল। আমি স্যাডিস্ট। আমি চেয়েছিই তোমাদেরকে এক চোট দেখে নিতে। আল্টিমেটলি তোমাদের জন্যই এত সব ক্যাচাল।"
আমি এক অদ্ভুত ঘোরের মাঝে চলে গেলাম। এ আমি কি দেখছি? এ কি স্বপ্ন? নাকি আসলেই বাস্তব? ওদিকে শয়তান বলেই চলছে- " যেদিন স্বর্গের কারারক্ষীকে ফাঁকি দিয়ে তোমাদের আদিপিতাকে আপেল খাইয়েছিলাম, সেদিন থেকেই শুরু হয়েছে আমার জয়ের ধারা। আসলে কি জানো? তোমরা মানুষরাই হচ্ছো ইভেল। আমার থেকেও বড় শয়তান। একদম অপয়া। পৃথিবীকে কি সুন্দর ধংস করে দিয়েছো তোমরা। হাহাহাহা.."
মাঠজুড়ে তখন সোরগোল। শয়তান গলা খাঁকড়ি দিয়ে উঠলো- " এখন এই স্বর্গ নরকের মালিক আমি। আমি তোমাদেরকে নিক্ষেপ করবো জ্বলন্ত ওই আগুনে যার কথা তোমরা শুনে এসেছো। তাদেরকে নিক্ষেপ করবো, যারা সারা জীবন শুভশক্তির চর্চা করেছো, শয়তানকে দিয়েছো গালি। আর যারা শুভশক্তির এত প্রভাবের ভিতরেও আমার রাস্তায় চলেছো, পৃথিবীকে ধংস করেছো, মেতেছো আদিম আনন্দে, তারা যাবে চিরশান্তির স্বর্গে। তারা উপভোগ করবে নিজেদের কুৎসিত সত্ত্বাকে, উপভোগ করবে আদিম পাপের চর্চাকে- অনন্তকাল ধরে... আই লাভ ইউ মাদাফাকারস.... উম্মাহ... "
মাঠের বিশাল একটা অংশ এবার উল্লাশে ফেটে পড়লো। লুসিফারের দলবল এসে সবাইকে আলাদা করতে থাকলো দুটো দলে। একটু পর আমার পালা- আমি নিসড় মনে ভাবতে থাকলাম- জীবনে কি ভুলটাই না করেছি....
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুলাই, ২০১৬ রাত ১২:৩৯
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চিরবিদায়ে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় শায়িত ডা. খায়রুল ইসলাম – Regional Director for South Asian Countries, WaterAid UK

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৫৪




২০ অগাস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার রাতে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে ফিরে ঘুমাতে ঘুমাতে কিছুটা দেরি হয়ে গিয়েছিল। ফলে সকালে উঠতেও দেরি। আগের দিন দুপুরে বিদ্যুৎ এক ঘণ্টার জন্য চলে যাবার পর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আন্দোলনের সময় বেকারদের দরকার ছিল, এখন কি আর নেই?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:২০


সারজিস আলমকে দেখে একসময় মনে হয়েছিল, বাংলাদেশের রাজনীতিতে হয়তো সত্যিই নতুন কিছু আসতে যাচ্ছে। কোটা আন্দোলনের আইকনিক মুখ, গর্বিত ঢাবিয়ান, এনসিপির বড় নেতা। শেখ হাসিনার আমলে সকাল বিকাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ কি মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হবে?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৩২

বাংলাদেশ কি মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হবে?

প্রশ্নটি এখন আর নিছক কল্পনা নয়।
গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান Makkah Joint Defence Agreement-এ স্বাক্ষর করেছে। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা জানেন না তাদের জন্য! কফি এনিমা (Coffee Enema)!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৩

কফি এনিমা হলো মলদ্বার দিয়ে কোলন বা বৃহদন্ত্রে তরল কফি প্রবেশ করিয়ে পেট পরিষ্কার করার একটি বিকল্প পদ্ধতি। নিচে এটি শরীরে দেওয়ার সাধারণ প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে উল্লেখ করা হলোঃ

প্রয়োজনীয় উপকরণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিলাদুন্নবী: ভালোবাসার নবী, মানবতার শ্রেষ্ঠ আদর্শ

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৮


মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিন বা মিলাদুন্নবী শুধু একটি ঐতিহাসিক স্মরণদিন নয়; এটি মানবতার জন্য এক মহান আদর্শের কথা স্মরণ করার উপলক্ষ। তাঁর আগমন ছিল এমন এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×