কখনো ভাবিনি যে এতটা তাড়াতাড়ি আমাকে মারা যেতে হবে...
সেদিন যখন ট্রাকটা আমাকে ধাক্কা দেয়, আমি বুঝতে পারি- এটাই শেষ। খুব কষ্ট হচ্ছিল আমার। খুব। কাছের সব মানুষের কথা একটা তীক্ষ্ণ গ্লিপ্সে মনে নাড়া দিয়ে যায়। পর মুহুর্তেই বুঝতে পারি আমার আসলে কষ্ট পাবার কিছু নেই। আমি সারা জীবন ধার্মিক ছিলাম। উপাসনা করেছি স্রষ্টার আর সমাদোর করেছি সকল শুভ জিনিসের। অশুভ শয়তানের প্রোরোচনায় কখনই পা দেইনি সজ্ঞানে। তাই মৃত্যুর পরে সুচি স্রষ্টার প্রতিশ্রুত ওই চির শান্তির জগতেই হয়ত আমার ঠাই হবে। আহ... অসাধারন এক প্রশান্তি নিয়ে আমি আমার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলাম সেদিন।
জ্ঞান ফিরে এলো কখন আমি জানি না। বুঝলাম পুনরুত্থানের সময় এসেছে। আর একটু পরই আমি দেখা পাবো আজীবন লালিত এক স্বপ্নের, সেই অদেখা স্বর্গের।
আমি উঠে দাঁড়ালাম। আশেপাশে আরো অসংখ্য মানুষ। বিশাল প্রান্তরের একদম সামনে একটা প্রকান্ড আসন। সেখানে উঠে বসলেন একজন। তাকে দেখে আমি চমকে উঠলাম- এভাবে তো কখনো তাকে কল্পনা করিনি...
"হ্যালো গাইজ...হ্যালো বেবস। লেট মি ইন্ট্রোডিউস মাইসেলফ- দ্যা লুসিফার। সকল প্রকার অশুভর ধারক ও বাহক।" এরপর এক প্রকান্ড হাসি..
পুরো মাঠে শোরগোল পড়ে গেল। আমি জাস্ট টাস্কি। এটা কি হইলো? মানে কি?
"কি? বুঝতে পারছো না? ভালো-মন্দের যুদ্ধের চিরায়ত যেসব গল্প তোমরা শুনেছ বিভিন্ন ধর্মে, মিথে, সেগুলো আসলে সত্যি। শুরু থেকে তোমাদের সময়ের মাঝপথ পর্যন্ত শুভরা ছিল এগিয়ে। আমি শয়তান মার খেয়েছি পদে পদে, প্রতিটা যুদ্ধে। সুচিশুভ্র গড ছিল তোমাদের উপর ফুল কন্ট্রোলে। আর তাই তোমাদেরকে গাইড করতে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন অবতার, দূত আর বইপত্র। ঘটিয়েছেন নানা মিরাকেল। কিন্তু একটা সময় অশুভ শক্তি ওভারথ্রোন করেছে ওই নির্লিপ্ত শুভ স্রষ্টাকে। ক্ষমতায় এসেছি আমি- মিস্টার লুসিফার" বলে কলার ঝাঁকিয়ে হাসি দিল শয়তান।
সবাই অবাক। আমার পায়ের নিচ থেকে যেন মাটি সড়ে যাচ্ছে। আর সহ্য করতে না পেরে চিৎকার করে বললাম- "এ হতে পারে না। আমি বিশ্বাস করি না।"
শয়তান ক্রুর হাসি দিয়ে বললো- "সিরিয়াসলি? এটা বোঝা কি এতটাই কঠিন ছিল? তুমি তো একবিংশ শতাব্দিতে বেঁচে ছিলে। তুমি জানতে না আগে- বহু আগে শুভস্রষ্টা নিয়মিত তার বানী পাঠাতেন পৃথিবীতে? ঘটাতেন আশ্চর্যকর সব ঘটনা? মানুষ চাইলেই তিনি ধরা দিতেন তাদের চিন্তায়, তাদের চেতনায়। যেখান থেকে উৎপত্তি হয়েছিল তোমাদের সব ধর্মের, উপকথার, মিথলজির। তোমার সময় এগুলো গেল কই? তোমার সময় পৃথিবীতে তারাই রাজত্ব করেছে যারা খারাপ। শুভর পবিত্র ধারা আরো বহু আগেই বন্ধ হয়ে গেছে পৃথিবীতে। এটা বোঝা কি তখন খুব কঠিন ছিল যে শুভ শক্তির পতন হয়েছে উপরে?"
নরওয়ের কিছু ছেলেপেলেকে দেখলাম আনন্দে হেডব্যাং করছে। সানি লেওন তার গেঞ্জি তুলে চিৎকার করলো- "ফাক মি লুসিফার, ফাক মি"
লুসিফার লুইচ্চা একটা হাসি দিয়ে বলল- "অবশ্যই বেবি। শুভ জিউস এটা পারলে আমি কেন পারবো না? হাহাহাহা..."
একজন বিখ্যাত নাস্তিক প্রশ্ন করলেন- "তুমি তাহলে তখন তোমার বাণী প্রচার করনি কেন? আমরা বুঝতাম।"
"তোমার কি মনে হয় আমি এসব নিয়ে একফোঁটা বোদার্ড? কাম অন, আমি লুসিফার, দ্যা ইভেল। আমি স্যাডিস্ট। আমি চেয়েছিই তোমাদেরকে এক চোট দেখে নিতে। আল্টিমেটলি তোমাদের জন্যই এত সব ক্যাচাল।"
আমি এক অদ্ভুত ঘোরের মাঝে চলে গেলাম। এ আমি কি দেখছি? এ কি স্বপ্ন? নাকি আসলেই বাস্তব? ওদিকে শয়তান বলেই চলছে- " যেদিন স্বর্গের কারারক্ষীকে ফাঁকি দিয়ে তোমাদের আদিপিতাকে আপেল খাইয়েছিলাম, সেদিন থেকেই শুরু হয়েছে আমার জয়ের ধারা। আসলে কি জানো? তোমরা মানুষরাই হচ্ছো ইভেল। আমার থেকেও বড় শয়তান। একদম অপয়া। পৃথিবীকে কি সুন্দর ধংস করে দিয়েছো তোমরা। হাহাহাহা.."
মাঠজুড়ে তখন সোরগোল। শয়তান গলা খাঁকড়ি দিয়ে উঠলো- " এখন এই স্বর্গ নরকের মালিক আমি। আমি তোমাদেরকে নিক্ষেপ করবো জ্বলন্ত ওই আগুনে যার কথা তোমরা শুনে এসেছো। তাদেরকে নিক্ষেপ করবো, যারা সারা জীবন শুভশক্তির চর্চা করেছো, শয়তানকে দিয়েছো গালি। আর যারা শুভশক্তির এত প্রভাবের ভিতরেও আমার রাস্তায় চলেছো, পৃথিবীকে ধংস করেছো, মেতেছো আদিম আনন্দে, তারা যাবে চিরশান্তির স্বর্গে। তারা উপভোগ করবে নিজেদের কুৎসিত সত্ত্বাকে, উপভোগ করবে আদিম পাপের চর্চাকে- অনন্তকাল ধরে... আই লাভ ইউ মাদাফাকারস.... উম্মাহ... "
মাঠের বিশাল একটা অংশ এবার উল্লাশে ফেটে পড়লো। লুসিফারের দলবল এসে সবাইকে আলাদা করতে থাকলো দুটো দলে। একটু পর আমার পালা- আমি নিসড় মনে ভাবতে থাকলাম- জীবনে কি ভুলটাই না করেছি....
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুলাই, ২০১৬ রাত ১২:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


