গত আড়াই বছরে সারাদেশে খুন হয়েছেন পাঁচ ব্লগার। এদের মধ্যে ব্লগার রাজিব হায়দার শোভন হত্যা মামলার বিচার শুরু করেছেন আদালত। তবে বিচার শুরু হওয়ার পরও সাক্ষী না আসায় থেমে আছে এ মামলার বিচার কার্যক্রম। নির্ধারিত দুই ধার্য তারিখে কোনো সাক্ষী আদালতে হাজির করতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ।
অপরদিকে ব্লগার অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর রহমান বাবু ও অনন্ত বিজয় হত্যা মামলার তদন্ত কূলকিনারা করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তদন্ত শেষ না হওয়ায় ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে অপরাধীরা। এরই মধ্যে গত ৭ আগস্ট খুন হয়েছেন আরেক ব্লগার নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় (নিলয় নীল)।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এ বিষয়ে অনলাইন নিউজ সাইট দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় হত্যায় আমরা ক্লু পেয়েছি। খুব দ্রুত এ মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারব। অপর ব্লগার হত্যা মামলাসমূহের তদন্তের কাজ চলছে। আমরা আশা করছি তদন্তের কাজ খুব দ্রুত শেষ হবে।’
ব্লগার রাজিব হত্যা মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে সাক্ষীদের হাজির করে না। আদালতে সাক্ষী হাজির না হওয়ায় বিচার কার্যক্রম থেমে রয়েছে।’
ফারুক আহমেদ বলেন, ‘মামলার বিচার শেষ না হওয়ায় কারাগারে আটক রয়েছেন আসামিরা।’
ঢাকার দ্রুত বিচার-৩ এর পাবলিক প্রসিকিউটর মাহবুবুর রহমান অনলাইন নিউজ সাইট দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘চলতি বছর ৪ আগস্ট ম্যাজিস্ট্রেটের ও ৯ আগস্ট দুই ব্যক্তির সাক্ষীর জন্য সমন জারি করা হয়েছিল। এদের মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেট ব্যস্ততার জন্য এবং দুই ব্যক্তিকে খুঁজে না পাওয়ায় সাক্ষ্যগ্রহণ সম্ভব হয়নি। সাক্ষীদের আদালতে হাজির করার চেষ্টা চলছে। ১৬ আগস্ট মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য রয়েছে, সেদিন আদালতে সাক্ষী উপস্থিত হবেন বলে আশা করা যায়।’
ব্লগার রাজিব হায়দার হত্যা মামলার অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বাসায় ফেরার পথে পল্লবীর কালশীর পলাশনগরে আততায়ীর হাতে নিহত হন তিনি। এ ঘটনায় নিহতের বাবা ডা. নাজিম উদ্দীন পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পরিদর্শক নিবারণ চন্দ্র বর্মণ ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে ৫৫ জনকে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী করা হয়।
এ মামলার ৮ আসামি হলেন— নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফয়সাল বিন নাইম ওরফে দিপু (২২), মাকসুদুল হাসান অনিক (২৬), এহসানুর রেজা রুম্মান (২৩), মো. নাঈম সিকদার ওরফে ইরাদ (১৯), নাফির ইমতিয়াজ (২২), সাদমান ইয়াছির মাহমুদ (২০), মুফতি জসীম উদ্দিন রাহমানী ও রেদোয়ানুল আজাদ রানা (৩০)।
চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে রানা পলাতক রয়েছেন। অন্য আসামিরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।
২০১৫ সালের ১৮ মার্চ ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক রুহুল আমীন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এ মামলায় ৫৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।
ব্লগার রাজিব হত্যার পর এ বছর ৪ জন ব্লগার ধর্মীয় উগ্রবাদীগোষ্ঠীর হাতে নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ গত ৭ আগস্ট রাজধানীর গোড়ানে একটি বাসায় খুন হন ব্লগার নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায়। গত ১২ মে সকালে সিলেটে কুপিয়ে হত্যা করা হয় ব্লগার ও ব্যাংকার অনন্ত বিজয় দাশকে। ৩০ মার্চ রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার বেগুনবাড়ী এলাকায় সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাসা থেকে অফিসে যাওয়ার সময় আরেক ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান বাবুকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ২৬ ফেব্রুয়ারি বইমেলা থেকে বের হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা ও লেখক অভিজিৎ রায়কে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা৷
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই আগস্ট, ২০১৫ দুপুর ২:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


