যারা ব্লগার হত্যার সঙ্গে জড়িত এবং যারা নবী হযরত মোহাম্মদ (সা.), ধর্ম ও কোরআন নিয়ে যুক্তিহীনভাবে আঘাত করে ব্লগে লেখেন তাদের সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে। কারণ যারা যুক্তিহীনভাবে ধর্ম নিয়ে ব্লগে লেখেন তারাও উগ্রবাদী। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগের একজন কর্মকর্তা (স্পোকসম্যান) এ বক্তব্য দিয়েছেন। এর আগের দিন পুলিশের আইজি ও র্যাব প্রধান সংবাদ সম্মেলন করে একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছিলেন। ব্লগার নীলাদ্রি খুনের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নীতি নির্ধারণী পর্যায় থেকে দেয়া এ বক্তব্যকে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি বলা যায়।
পুলিশের এ বক্তব্য প্রমাণ করে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে- নীলাদ্রিসহ যে সব ব্লগার খুন হয়েছেন তারা নবী মোহাম্মদ (সা.), ধর্ম (ইসলাম অর্থে) ও কোরআন সম্পর্কে তাদের ব্লগে যুক্তিহীনভাবে লেখালেখি করেছিলেন। আর যারা তাদের খুন করছেন তারা সবাই ধর্ম হিসেবে ইসলামে বিশ্বাসী এবং তাদের বিশ্বাসে আঘাত লাগায় তারাই প্রতিশোধের পথ বেছে নিয়েছেন।
যারা অপরাধ বিষয় নিয়ে কাজ করেন তারা জানেন পরিকল্পিত অপরাধের ক্ষেত্রে অপরাধীর মোটিভ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী ব্লগার খুনের ক্ষেত্রে খুনের মোটিভ পুলিশের কাছে স্পষ্ট। এখন শুধু খুনীদের খুঁজে বের করা এবং বিচারে সোপর্দ করা বাকি।
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে কেউ লেখালেখি করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, যে যার ধর্ম পালন করবে এবং সম্মান করবে, কোনো ধর্ম নিয়েই কটূক্তি করা যাবে না। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ সব কথা বলেন।
ব্লগার নিলয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলার অগ্রগতি নিয়ে আসাদুজ্জামান খান জানিয়েছেন, সরকারের কাছে যথেষ্ট ক্লু আছে, যাচাই-বাছাই করে আসল হত্যাকারীকে গ্রেফতার করা হবে। অনুমাননির্ভর কাউকে গ্রেফতার করলে প্রকৃত আসামিরা পালিয়ে যায়, সুযোগ খোঁজে।
সরকারের বক্তব্য সত্য ধরে নিলে এটাই মেনে নিতে হয় যে, ব্লগাররা ধর্ম নিয়ে (ইসলাম) বাড়াবাড়ি করেছে এবং তার পরিণতিতে আহত ব্যক্তিরা তাদের খুন করছে। অর্থাৎ ধর্মকে আঘাত করার ঘটনা না ঘটলে ব্লগার খুনের কোনো ঘটনা ঘটত না। তা হলে বলা যায়, সরকারের এই উপলব্ধি যদি আগে ঘটত এবং মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার কারণে ব্লগারদের আইন আমলে আনা হতো এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হতো— তাহলে প্রতিক্রিয়ার ঘটনাগুলো ঘটত না। ব্লগার নামে পরিচিত এ সব তরুণকে এভাবে আত্মাহুতি দিতে হতো না।
ধর্মের প্রতি যারা দুর্বল, নবীকে যারা ইহকাল ও পরকালের কাণ্ডারি মনে করেন সে সব ধর্মপ্রাণ মানুষ সরকারের এই উপলব্ধিকে নিশ্চয়ই স্বাগত জানাবে। কিন্তু মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় যারা বিশ্বাস করে তারা এটাকে কিভাবে নেবে সেটাই দেখার বিষয়।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে আগস্ট, ২০১৫ সকাল ৮:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


