‘স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল’— শুনলেই মনে হয় এ কথা মানেন না এমন মানুষ পাওয়া যাবে না। আর যদি কেউ বলে থাকে নিশ্চয় ঠাট্টা হিসেবে বলেছেন। আর যদি সিরিয়াসলি বলেন, তবে তার যুক্তিগুলো মনযোগ দিয়ে শুনুন।
অবশ্য আমাদের এ লেখার বিষয় ‘স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল’ নিয়ে তর্ক-বিতর্ক নয়। বরং এটা জানানো, যদি সুস্থ থাকতে চান তবে কিছু বদঅভ্যাস থেকে দূরে থাকুন। কেন দূরে থাকবেন? একটা উদাহরণ দিয়ে বলা যায়, সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা দেখা গেছে হার্টের সমস্যার মূলে আছে জীবনযাপনের ধরন। যদি ১০ বদঅভ্যাস থেকে বিরত থাকতে পারেন তবে হার্টএ্যাটাকের ঝুঁকি কমবে ৯০ শতাংশ।
আসুন জেনে নিই সে সব বদঅভ্যাসের ঠিকুজী—
অতিরিক্ত টিভি দেখা : বেশি বেশি টিভি দেখা নিশ্চয় আপনাকে বিব্রত করে। অভ্যাস ও অলস সময় বলে কথা! দুঃসংবাদ হল অতিরিক্ত টিভি দেখা হার্টএ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়। ২০১১ সালের কার্ডিওলজি আমেরিকান কলেজ জার্নাল পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায় যারা দিনের বেশিরভাগ সময় টিভির সামনে ব্যয় করেন তাদের হার্টের অবস্থা খুবই বিপজ্জনক।
যদি আপনি নিয়মিত ব্যায়াম করেন এবং দিনে ৪ ঘণ্টার বেশি টিভি দেখেন, তবুও এটা দ্বিগুণ ঝুঁকি হতে পারে। মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
ডায়েট সোডা : ডায়েট সোডা পান করলে নিজেকে যথেষ্ট স্বাস্থ্য সচেতন মনে হতে পারে। কিন্তু নিয়মিত ডায়েট সোডা গ্রহণ বড় ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে। হার্টে সমস্যা হতে পারে, কখনো কখনো স্ট্রোকের কারণও হতে পারে।
এ্যালকোহল পান : যে কোনো ধরনের এ্যালকোহল বা মদ পান শরীরের জন্য ক্ষতিকর। অতিরিক্ত এ্যালকোহল ক্যালরি বৃদ্ধি ও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে ওস্তাদ। আর তার প্রভাব তো হৃৎপিণ্ডে পড়বেই।
ঘুম : আমরা অনেকেই বেলা করে ঘুম থেকে উঠি। নরম বিছানাটি যেন আমাদের ঘুম থেকে উঠতে বাধা দেয়। আবার কেউ কেউ একদম ঘুমাতেই চান না। তাদের জন্য বলছি, যদি পাঁচ ঘণ্টার কম বা নয় ঘণ্টার বেশি ঘুমান তবে তা আপনার রক্তচাপ ও স্ট্রেসের মাত্রা বাড়াতে পারে। তাছাড়া, এটা করোনারি রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
বিষন্নতা : মানসিক চাপ থেকে দুশ্চিন্তা ও বিষন্নতার উৎপত্তি। সহজে এ সব সমস্যা থেকে পার পেতে পারে না, কিন্তু যদি না আবেগ নিয়ন্ত্রণের কৌশল আয়ত্ত করেন।
নাক ডাকা : নাক ডাকা লোকের পাশে ঘুমানো খুবই বিরক্তির বিষয়। যিনি নাক ডাকেন তিনি অবচেতনে ডাকেন। কিন্তু যিনি পাশে ঘুমান তিনি বুঝেন বিরক্তি কাকে বলে। স্লিপ এপিনিয়ারের লক্ষণ হল নাক ডাকা। যারা এই সমস্যায় ভোগেন তাদের হার্টএ্যাটাক হতে পারে। কারণ নাক ডাকার ফলে শ্বাস-প্রশ্বাসে বাধা পায় যা হৃদযন্ত্রের সমস্যার ঝুঁকি এবং রক্তচাপ বাড়ায়।
অতিরিক্ত ব্যায়াম : ব্যায়াম করা সবসময়ই ভাল। যদি সিক্সপ্যাক পেতে অতিরিক্ত ব্যয়াম করেন, সেটা অবশ্যই স্বাস্থ্যের জন্য ভাল হবে না। অতিরিক্ত ব্যায়াম হার্টে প্রভাব ফেলে, যার কারণে অবসাদ বা অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন। শরীরের সক্ষমতা অনুসারে ব্যায়াম করুন। কখনও লিমিট ক্রস করতে চেষ্টা করবেন না।
দন্ত স্বাস্থ্যবিধি : সুস্থ সুন্দর দাঁত কে না চায়! দুর্গন্ধময় দাঁত অনেক সময় শরীরের ওপর প্রভাব ফেলে। যার কারণে আপনি হৃদরোগে আক্রান্ত হতে পারেন। কেননা মাড়ির ব্যাকটেরিয়া রক্তনালিতেও যায়, যা নালিকে সরু করে তোলে এবং রক্তের প্রভাবকে কমিয়ে দেয়। এটি পরবর্তী সময়ে হার্টে সমস্যা তৈরি করে।
অতিরিক্ত খাওয়া : সুস্থ থাকতে হলে অবশ্যই পরিমিত খাবার ও ব্যায়াম প্রযোজন। অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে আপনি মোটা হয়ে যাবেন। আর এটা আপনার হার্টের উপর প্রভাব ফেলবে। তাই কম খেতে হবে, চিনি এড়িয়ে চলতে হবে ও হাই ক্যালোরিযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে।
ধূমপান : দিনে একটি সিগারেটও হার্টএ্যাটাকের কারণ হতে পারে। ক্যান্সারও হতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে হলে অবশ্যই ধূমপান ত্যাগ করতে হবে।
সূত্র - দ্য রিপোর্ট২৪
আরো খবরের জন্য ভিজিট করুন - দ্য রিপোর্ট২৪
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৪:২৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


