somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্পঃ তমসা অথবা মাইকেল অ্যাসেঞ্জ

০৯ ই অক্টোবর, ২০১২ রাত ১১:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শেয়ারবাজারের অব্যাহত দরপতন আর তেলের মূল্য বৃদ্ধির পেছনে অদৃশ্য কিন্তু নিশ্চিত সিন্ডিকেট খুঁজতে খুঁজতে ক্লান্ত হয়ে আমরা তখন ব্যস্ত উইকিলিকসের ফাঁস করা খবরের পেছনের খবর নিয়ে। আমাদের যে সন্দেহপ্রবণ মন প্রতিনিয়ত সাম্রাজ্যবাদীদের আগ্রাসন নিয়ে চিন্তিত থাকে, সে মন আমাদের অনেক আগেই জানান দিয়েছিল পৃথিবীতে যা কিছু ঘটে তার পেছনে একটা মার্কিনি ষড়যন্ত্র থাকে। এত দিন আমরা প্রমাণ করতে পারিনি এখন উইকিলিকসের বের করা গোপন খবরগুলো বিশ্ববাসী তো বটেই, আমাদের মুচকি হাসা তাত্ত্বিকদেরও বুঝিয়ে দিচ্ছেÑ আমরা কতটা জ্ঞানী। আমরা একজন আরেকজনকে উইকিলিকসের খবর দেখিয়ে দেখিয়ে বলতে থাকি, ‘দেখছেন ভাই, কইছিলাম না, সব মিলা যাইতেছে না?’

এ আলোচনা আরও দীর্ঘ হওয়ার কথা থাকলেও তা হয় না। হঠাৎ করেই দৃশ্যপটে হাজির হন চিত্রনায়িকা তমসা। বিনোদন পত্রিকা কিংবা নায়িকার সফল বিপণন কৌশলের কারণে সদারহস্যময় ‘এক-দেড় ইঞ্চি’ জায়গা আমাদের আলোড়িত করে। আমরা যারা বাংলা চলচ্চিত্রবিমুখ অথবা বিমুখ হওয়াটাকে স্টাইল মনে করি; আমরা যারা জনপ্রিয় পাক্ষিক বিনোদন ম্যাগাজিন ‘তারার মেলা’-এর বর্তমান সংখ্যা দেখিনি, তারাও এক কান-দুই কান করে একসময় জেনে যাই আমাদের রুগ্ন চলচ্চিত্রশিল্পের স্বাস্থ্যবতী চিত্রনায়িকা তমসার কথা। তমসা আমাদের এমন একটি খবর দেন, যা আমরা জানতে চাইনি অথচ জানার পর আমরা আর ভুলতে পারি না। উইকিলিকসকে দৃশ্যপট থেকে সরিয়ে তারার মেলা কিংবা নায়িকা তমসা নিজেই মাইকেল অ্যাসাঞ্জ হয়ে আমাদের সামনে উদয় হন যেন।

মাথায় ঘোমটা দিয়ে নববধূ সেজে পত্রিকার প্রচ্ছদে হাজির হতে আমরা আগেও আরও অনেক নায়িকাকে দেখেছি। নায়িকারা সব সময় অভিনয় নিয়ে যতটা এক্সপেরিমেন্ট করেন, তার চেয়ে ঢেড় বেশি এক্সপেরিমেন্ট করেন নিজের রূপ নিয়ে। নানা রূপে নানাভাবে নিজেকে হাজির করেন আমাদের সামনে। বোধকরি আমাদের প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে নিজেকে সতত মূল্যায়ন করে থাকেন তারা। একেক নায়িকার জীবন যেন একেকটা ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট। ধারাবাহিক মূল্যায়ন আর ফিডব্যাক না পেলে চলে না। তমসাও নায়িকা; তাই তমসাও এক্সপেরিমেন্ট করেন অথবা তমসাদের এক্সপেরিমেন্ট করতে হয়। তবে তমসার এবারের এক্সপেরিমেন্টটা আমাদের অন্য সময়ের চেয়ে অনেক বেশি আলোড়িত করে। আমরা দেখি, তারাঝিলমিলের প্রচ্ছদে তমসার বেনারসি শাড়ির আঁচলে ঘোমটা দেয়া ছবি।

আজকাল সেলিব্রেটিদের ওই ধরনের বৌ সাজা ছবিতে আমরা আলোড়িত হই না বা হতে পারি না। কেননা আকাশ সংস্কৃতির কল্যাণে নায়িকাদের কাছে আমাদের চাহিদা এখন অনেক বেশি। কিম কারদেসিয়ান বা অ্যাঞ্জেলিনা জোলিকে ‘আমরা’ তেমনভাবে না চিনলেও ক্যাটরিনা আর কারিনাকে চিনি। আজকাল আমরা সুদূর মুম্বাইয়ে থাকা ওদের নিয়ে এমনভাবে কথা বলি, মনে হয় প্রতিদিন বিকালে ছাদে উঠলেই কারিনা বা ক্যাটরিনার সঙ্গে আমাদের দেখা হয়। ওদের মায়েরা বাসায় ভালোমন্দ কিছু রাঁধলে আমাদের বাসায় পাঠাতে ভোলেন না- এমনই সম্পর্ক ওদের সঙ্গে আমাদের। তাই আমাদের চাহিদা আজ নিরূপিত হয় ওদের নির্ধারিত জোগান-রেখা দ্বারা। তমসা তা জানেন। জানেন বিনোদন পত্রিকার চিত্রগ্রাহক; জানেন পত্রিকার সম্পাদক। হিন্দি ছবির নায়িকাদের জোগান-রেখাকে সীমারেখা ধরে খবর পরিবেশনে আমাদের বিনোদন পত্রিকার প্রাণান্তকর চেষ্টার ছাপ আমরা প্রতিনিয়ত পেয়ে থাকি। যদিও তাদের সফল হতে আমরা দেখি কম।

গোটা বাংলাদেশের বিনোদনজগতের উপর্যুপরি ব্যর্থতার মুখেও চিত্রনায়িকা তমসাকে দেখি অনেকদিন পর অভিনয় বা রূপের মহিমা দিয়ে না হলেও গসিপ তৈরি করে তাদের সীমারেখা স্পর্শ করতে। আমরা দেখি, নববধূর সাজে থাকার পরও তারাঝিলমিলের প্রচ্ছদের তমসা আমাদের দিকে চোখ টিপ মেরে তাকিয়ে আছেন এবং লাল পুরুষ্ট ঠোঁট কামড়ে ধরেছেন দাঁত দিয়ে। বুকের আঁচল খসে পড়ো পড়ো হয়ে খাদের কিনারায় আটকে আছে।
আমাদের নববধূরা হয় লাজুক অথবা পিতৃগৃহ ত্যাগের পর অনিশ্চিত আগামীর নিশ্চিত দুঃখে ক্লিষ্ট মানুষ। অথচ যদিও নববধূর সাজে প্রচ্ছদে তমসা হাজির হয়েছেন; তবুও মুখে লজ্জা নেই, দুঃখের ছাপ নেই। উল্টো তিনি আমাদের দিকে চোখ টিপ মেরে তাকিয়ে আছেস! তার ছবি দেখে হিন্দি সিরিয়ালভক্ত আমাদের নারীকুল ভাবে নববধূ সেজে শাশুড়ি-ননদ জাতির সঙ্গে তমসা তামাসা করছেন। কিন্তু আমরা পুরুষরা ভাবি, তমসা আমাদের সঙ্গে একটা গোপন ইঙ্গিতপূর্ণ যোগাযোগ স্থাপন করেছেন।

আমরা ‘দ্বিঅর্থবোধক’ ছবিটাকে অগ্রাহ্য করতে পারি না। আমরা এ ধরনের ছবি দেখলে গরুর মতো তা গিলে ফেলি এবং মস্তিষ্কে সংরক্ষণ করি, রাতের অবসরে কল্পনায় জাবর কাটার জন্য। পকেটের পয়সায় পত্রিকা না কিনে প্রচ্ছদের সুন্দরী নায়িকাকে মস্তিষ্কে ধারণ করে বাড়ি নিয়ে যাওয়ায় আমাদের পারঙ্গমতার কথা পত্রিকার সম্পাদকরাও বহু বছরের অভিজ্ঞতা থেকে জানেন। আমাদের বিনে পয়সায় জাবর কাটা রুখতে পত্রিকাটি আমাদের জন্য একটা ফাঁদ তৈরি করে। চিত্রনায়িকা তমসার ছবির নিচে বড় বড় করে লিখে দেয়, ‘আমি এখনও ভার্জিন- তমসা!’
তমসার নিজেকে ভার্জিন দাবি করায় আমরা একটু দিশাহারা হয়ে যাই। আমরা যারা চিত্রনায়িকাদের কল্পনায় খুলে খুলে দেখি, তারা একটু বিস্মিত হই। আমাদের বিস্মিত করতে পত্রিকার সম্পাদক, চিত্রগ্রাহক এবং চিত্রনায়িকা যে ফাঁদ পেতেছিলেন; আমরা সেই ফাঁদে ধরা দিই। আমরা গন্ধ শুঁকে, খাবার না কিনে চলে যেতে পারি না। আমরা ভাবি প্রচ্ছদে যার এত রহস্য ভেতরে না জানি আরও কত রহস্য জমা আছে! ভাবতে ভাবতে আমরা র্যােক্সিনের মানিব্যাগ থেকে জীর্ণ টাকা বের করে পত্রিকাটি কিনে ফেলতে থাকি।

তারপর আমরা ভাবতে বসি। বস্তুত পত্রিকা আর তমসা মিলে আমাদের ভাবতে প্ররোচিত করে।
তমসা এত কথা থাকতে ভার্জিনিটি প্রসঙ্গের অবতারণা করেন কেন? আমাদের মধ্যে কোন কোন ‘আমি’, কোন অলস সময়ে তমসার ভার্জিনিটি নিয়ে যে ভাবেননিÑ সে বিষয়ে আমরা নিশ্চিত নই। তবে এসব খুচরা ‘আমি’রা ভাব প্রকাশে সংকোচবোধ করায়, সে ভাবনা কখনোই ‘আমাদের’ ভাবনা হয়ে ওঠেনি। আমরা বিগত দিনগুলোয় ভেবেছি তমসার বিয়ে নিয়ে। তমসা কবে বিয়ে করবেন? আমরা জানতে চেয়েছি, বিয়ের জন্য কোন ধরনের পুরুষ তার পছন্দ? তার প্রিয় নায়ক কে? কী তার প্রিয় খাবার? সামনের দিনগুলোয় তার কোন কোন ছবি মুক্তি পেতে যাচ্ছে? সেসব ছবিতে তার বিপরীতে নায়ক কারা? চিত্রনায়ক সিয়াম খানকে জড়িয়ে প্রেমের যে গসিপের কথা বিগত দিনগুলোয় আমরা শুনেছি, তা কত দূর সত্য? অথচ আমাদের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা প্রশ্নগুলোর উত্তর না দিয়ে, অবিবাহিত চিত্রনায়িকা তমসা আমাদের অনেকটা গায়ে পড়ে জানান, তিনি ভার্জিন!

আমরা ভাবি। একা একা ভাবি। দলে দলে বিভক্ত হয়ে ভাবি। সুশীল সমাজের অনেক বাসিন্দা, আমাদের চিত্রনায়িকা তমসার ভার্জিনিটি নিয়ে ভাবতে দেখে বিরক্ত হন। মার্কিন মুলুকের রিসেশন কিংবা স্টিভ জবসের মৃত্যু নিয়ে আমাদের ভাবা উচিত বলে তারা মনে করেন। গ্লোবালাইজেশনের এই যুগে একজন নায়িকার ভার্জিনিটি নিয়ে আমাদের আগ্রহ; আমাদের চিন্তা-চেতনায় যে মেধাহীনতা বিদ্যমান, তারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করেন।

সুশীল সমাজের ভাবনায় আমরা মধ্যবিত্তরা খুব বিচলিতবোধ করি। বাংলার মধ্যবিত্ত ‘চিরবিচলিত মধ্যবিত্ত’। বিচলিত থাকার জন্য মধ্যবিত্তের জš§। মধ্যবিত্তের চির বিচলিতবোধকে পুঁজি করে সুশীল সমাজের প্রচার ও প্রসার। তাই আমরা থমকে যাই সুশীল সমাজের বিরক্তিতে। তবে আমরা নিজেদের ভার্জিনিটি-বিষয়ক আলোচনায় ইস্তফা দিই না। কদিন ফিসফাস করে আবার সদলবলে নায়িকা তমসার ভার্জিনিটি নিয়ে আলোচনায় নেমে পড়ি; যখন দেখি সময়ের জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল ‘টিটিভি’ ‘বিনোদন পত্রিকার দায়বদ্ধতা ও নায়িকার শালীনতাবোধ’ শীর্ষক টক শোর আড়ালে মূলত নায়িকা তমসার ভার্জিনিটি নিয়ে মাঝরাতে আলাপ শুরু করে। আলাপে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক এবং বিদেশী ডিগ্রিধারী দু’জন আলোচকের অংশগ্রহণ আমাদের সাহস জোগায়। আমরা তখন বুঝি, আমাদের আর আমাদের কাছ থেকে সমীহ পাওয়া সুশীল সমাজের মধ্যে তেমন কোন প্রভেদ নেই। আমরা বলি কথাটা সরাসরি তারা বলে ‘নারী-পুরুষ কাছাকাছি আসে’। তাদের দখলে এমন কিছু শব্দ অথবা বাক্য আছে যা আমাদের দখলে নেই। শব্দ বা বাক্য চয়নের পার্থক্যের কারণে তারা সুশীল আর আমরা সাধারণ।

আমাদের ভাবনায় যে দোষ নেই, তা আমাদের মধ্যে শেকড় গেড়ে বসতে থাকে। বিশেষত যখন আমরা আবিষ্কার করি, প্রেস ক্লাবের সামনে আমরণ অনশনরত শেয়ার ব্যবসায়ীরা, না খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়া সহযোদ্ধাকে যে পত্রিকাটি দিয়ে বাতাস করছে তা পাক্ষিক বিনোদন পত্রিকা ‘তারার মেলা’। আমরণ অনশনরত শেয়ার ব্যবসায়ীরা যদি মৃত্যু আলিঙ্গনের প্রাক্কালে চিত্রনায়িকার ভার্জিনিটি-বিষয়ক রচনা পাঠ করতে পারেন, তবে আমরা অবসর সময় কেন পারব না?
পত্রিকা যেমন কোন বিষয়কে জনপ্রিয় করে, তেমনি জনপ্রিয় হয়ে যাওয়া বিষয়ের সঙ্গে নিজেকে জড়াতেও ভালোবাসে। তাই আমরা দেখি এ সময়ের জনপ্রিয় ও বহুল পঠিত এক পত্রিকার উপসম্পাদকীয়তেও নায়িকাদের শালীনতাবোধবিষয়ক লম্বা একটি আলোচনা। সেখানে সরাসরি তমসার উল্লেখ না করে নায়িকাদের করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়ে সবক দেয়া হয়েছে। পত্রিকার তরুণ উপসম্পাদক তার পদবিতে ‘সম্পাদক’ লেগে যাওয়ার ভারে ভারাক্রান্ত হয়ে দেশের তরুণ সমাজের বিপথগমনে নায়িকারা কী করে ভূমিকা রাখছেন, তা তুলে ধরতে প্রয়াস চালালে আমরা আরও একবার কুণ্ঠিত হই বটে। তবে আমাদের এই কুণ্ঠাবোধও দীর্ঘস্থায়ী হয় না। কেননা থিসিসের সঙ্গে পিঠ ঠেকিয়ে আসে অ্যান্টি থিসিস। পর দিন প্রচারসংখ্যায় কাছাকাছি আরেকটি পত্রিকায় আমরা দেখি, আমাদের উৎসাহ জোগানো অন্য আরেক বিশ্লেষণ। সেখানে বলা হয়, আমরা যে সময় নষ্ট করি বা করতে চাই, তা আমরা করেই ছাড়ি। সুতরাং কারিনা কিংবা ক্যাটরিনাদের নিয়ে ভেবে সময় নষ্ট না করে আমরা অনেকদিন পরে চিত্রনায়িকা তমসার কল্যাণে দেশীয় চিত্রনায়িকাদের নিয়ে যে ভাবছি বা ভাবতে শুরু করেছি, তা আমাদের দেশাত্মবোধের পরিচয় বলে মনে করা যেতে পারে; তখন আমরা আবারও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠি।
মানুষ যা ভাবতে চায়, তার পক্ষে যুক্তি খোঁজে সব সময়। চলমান টক শো, আমরণ অনশনরত শেয়ার ব্যবসায়ী আর পত্রিকার উপসম্পাদকরা আমাদের ভাবনার পালে হাওয়া দেন। আমাদের ভাবনার পাল পেট ফুলিয়ে তীরবেগে ছুটতে থাকে।

আমাদের মধ্যে একদল ভাবে- এ নিশ্চয় তারার মেলা পত্রিকার হলুদ সাংবাদিকতা! নায়িকা হয়তো বলেছেন বা বলতে চেয়েছেন- ‘নারীর জীবনে ভার্জিনিটি মূল্যবান’, কিন্তু পত্রিকার সংবাদ সংগ্রাহক বলে দিয়েছেনÑ ‘তমসা এখনও ভার্জিন’। তবে আমরা যারা এরূপ ভাবতে চাই তারা তর্কে গলা উঁচুতে চড়াতে পারি না। বিশেষত যখন পত্রিকার প্রচ্ছদে চোখ-টেপা দ্বিঅর্থবোধক ছবিটার কথা ভাবি; তখন মনে হয়, তমসা স্বজ্ঞানে এবং পরিকল্পিতভাবে এই কাজ করেছেন। সাংবাদিকরা তা বাজারজাত করে পত্রিকার বিক্রি বাড়িয়েছেন মাত্র।

আমাদের মধ্যে আরেকদল ভাবতে থাকে, তমসার কী প্রয়োজন আমাদের জানানোর যে, তমসা এখনও ভার্জিন। অবিবাহিত মেয়েমাত্রই ভার্জিন হবে। সেটাই স্বাভাবিক। আমাদের চোখে যদিও নিজের মা-বোন ছাড়া আর সব নারী সন্দেহভাজন, তথাপি আজ পর্যন্ত আমরা সন্দেহভাজন কোন মেয়েকে চ্যালেঞ্জ করে বলিনিÑ আপনি প্রমাণ দিন, আপনি ভার্জিন। বাংলাদেশে মিডিয়ার বদৌলতে কতজনই তো তারকা হন। আর কেউ তো তমসার মতো পত্রিকার প্রচ্ছদে হাজির হয়ে জানান না, তিনি ভার্জিন। তাহলে তমসা কেন জানান? এই দল আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয়, ‘ঠাকুর ঘরে কে রে? কর্তা আমি, কলা খাই না’ প্রবাদটিকে।

আমাদের তৃতীয় দলটি, যারা রাস্তাঘাটে নারীর বুকের দিকে সরু চোখে তাকান, মেয়েদের শরীরে হাত দিতে ভিড় খুঁজে ফিরেও নিজেদের সৎপুরুষ ভাবেন এবং নিজের জন্য একজন পর্দা করা পাত্রী খোঁজেন; তারা সিগারেটের ধোঁয়া ওড়াতে ওড়াতে পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘তমসা ভার্জিন হইলেই আমার কী, আর না হইলেই আমার কী? আমারে তো কোটি টাকা দিলেও তমসার মতো সিনেমার নায়িকারে বিয়া করতাম না।’

আবার আমরা আরেকদল ভাবি, তমসার মুখের কথা আমরা কেন বিশ্বাস করব? তমসা যখন নিজের ভেতরে নিজের ভার্জিনিটি প্রমাণের তাড়না অনুভব করছেন তাহলে পত্রিকার প্রচ্ছদে কেন? তিনি কেন গুলিস্তানের চৌরাস্তায় দাঁড়িয়ে মহিলা ডাক্তার দিয়ে প্রমাণ করান না, তিনি আসলেও ভার্জিন। তমসার ভার্জিনিটির দাবি এভাবে নানা রঙে, নানা ঢঙে আমাদের আলোচনায় উঠে আসে। আমরা যারা বাংলা সিনেমা দেখি না, এমনকি বাংলা সিনেমার অধঃপতন নিয়ে চিন্তা করে যথেষ্ট সময় ব্যয় করতেও কার্পণ্যবোধ করি, তারাও চিত্রনায়িকা তমসাকে নিয়ে সময় ব্যয় করি। আমরা বলতে চাই, বাংলা চলচ্চিত্রের বর্তমান অসুস্থ ধারার এ আরেক প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
আমরা তমসার দাবি নিয়ে সূত্রপাত হওয়া আলোচনায় বক্তা হয়ে ওঠার আশায় আরও নিবিষ্ট হই। আমরা আবিষ্কার করি, তমসা তার নাতিদীর্ঘ ক্যারিয়ারের শুরুতে আমাদের সামনে হাজির হয়েছিলেন এক লবণ কোম্পানির বিজ্ঞাপন দিয়ে। সেখানে তিনি আয়োডিনযুক্ত লবণ খেয়ে পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়েছিলেন; সঙ্গে সঙ্গে তার ভাগ্য খুলে গিয়েছিল। এরপর কখনও তাকে আমরা দেখেছি আমাদের মাঝরাতে অল্প রেটে মোবাইলে কথা বলতে প্ররোচিত করতে, কখনও দেখেছি টেলিফিল্মে শরীরভরা গহনা নিয়ে বাচ্চা উৎপাদনের জন্য অপারেশন রুমে ঢুকতে, কখনও দেখেছি আবাসন কোম্পানির পক্ষে জোর করে দখল করা জমিতে দাঁড়িয়ে আমাদেরও তার সঙ্গে বসবাসের আমন্ত্রণ জানাতে। সব শেষে দেখেছি কোন এক সিনেমায় সেন্সর বোর্ডের বৃদ্ধ সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে নায়কের সঙ্গে ১০ সেকেন্ডের এক দীর্ঘ (!) চুম্বনদৃশ্যে অভিনয় করে সাহসী নায়িকার মর্যাদা পেয়ে যেতে।

যদিও আমরা এত দিন জানতাম শিকারিরা সাহসী হন; সাহসী হন অন্যায়ের প্রতিবাদকারীরা, এখন বিনোদন পত্রিকার সূত্রে জেনেছি, সাহসী মানে বস্ত্রহীন হয়ে ওঠা অথবা নর-নারীর গোপন বিষয়াদি প্রকাশ্যে নিয়ে আসা। আমরা আরও লক্ষ্য করিÑ একই চুম্বনদৃশ্যে অভিনয়ের পরে নায়িকা ‘সাহসী’ খেতাব পান অথচ নায়ক ‘সাহসী’ খেতাব পান না। আমরা বুঝিÑ আমাদের চোখে পুরুষমাত্রই প্রকাশ্য চুম্বনের অধিকারী; নারী নয়। নারীর জন্য প্রকাশ্য চুম্বন তাই সাহসিকতার পরিচায়ক।

অথচ একসময় আমরা দৈনিক পত্রিকার বিনোদন পাতার সূত্রে অবগত হয়েছিলাম, চলচ্চিত্রের বর্তমান অসুস্থ ধারায় নিজেকে তমসা জড়াতে চান না; তবু কী কারণে যেন তিনি একসময় জড়িয়ে যান। হয়তোবা মধ্যবিত্তের জন্য তৈরি হওয়া এক ঘণ্টার টেলিফিল্ম কিংবা ধারাবাহিক নাটক তাকে তৃপ্ত করতে পারেনি। হয়তোবা আমরা বুঝতে পারিনি, তিনি প্রতিনিয়ত চেয়েছেন ছোট পর্দার প্রতিদ্বন্দ্বিদের পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে। আমরা আরও ভাবিÑ কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ আর ফ্যানদের ঝাঁপিয়ে পড়ার দৃশ্য উপভোগের যে আকুতি তমসা সব সময় নিজের ভেতরে অনুভব করেছিলেন, টেলিভিশনের ছোট পর্দা তার জোগান দিতে পারে না; এ সত্য অনুধাবনের ফলে তিনি ধীরে ধীরে মধ্যবিত্তের ছোট পর্দা থেকে শ্রেণীবৈষম্যহীন চলচ্চিত্রের বড় পর্দায় চলে গেছেন। ছোট পর্দার সব নায়িকাকে পেছনে ফেলে চলচ্চিত্রে এসে তমসা আবিষ্কার করেন এ কোন জয় নয়; আরেক যুদ্ধের প্রস্তুতি। তিনি যেন নতুন এক রেসের ময়দানে। এখানে শুরু হয় নতুন আরেক দৌড়। ‘জনপ্রিয়’ শব্দের অন্তর্ধান ঘটে, শুরু হয় ‘হিট’ আর ফ্লপের খেলা। হিটেরও যেন শেষ নেই। হিটের পরে আসে সুপার হিট; তারপর বাম্পার হিট। সিনেমায় দর্শকরা শুধু মুখশ্রী দর্শনে তৃপ্ত হন না; তাদের চাহিদা হয় ক্রমশ নিুগামী।

এমনিতে যে দেশে বেকার মানে সফল ব্যবসায়ী, সে দেশে আমরা সত্যি সত্যি নানা কাজে ব্যস্ত মানুষ চিত্রনায়িকাদের নিয়ে রাতের অবসর ছাড়া খুব বেশি ভাবার সময় করে উঠতে পারি না! তার পরেও মাঝে মাঝে চিত্রনায়িকারা আমাদের ভাবনাকে দিনের আলোয় কিংবা চায়ের আড্ডায় টেনে আনতে পারেন। যেমন পেরেছেন তমসা। আমাদের আলোচনা গভীর থেকে গভীরতর হয়। আমরা জানতে চাই, তমসা যে ভার্জিনিটির কথা বলছেন, সে কি বাংলার কুমারিত্বের ইংরেজি ভার্সন? নাকি ‘কুমারিত্ব’ শব্দ যা বোঝাতে চায় তার বাইরে আরও কিছু কথা আছে, যা কেবল ভার্জিনিটি শব্দ দিয়েই প্রকাশ করা যায়?

এত দিন তমসা যখন চাবুকের আঘাতে সিনেমার লম্পট জমিদারের সামনে স্বল্পবসনা হয়ে নৃত্য প্রদর্শন করেছেন, তখন আমরা তার চোখের অশ্র“ দেখিনি, আমরা ১০ টাকার টিকিট কাটা জমিদার হয়ে তার শরীরটাকে দেখেছি। যদিও আমরা ভিলেন হতে চাই না; ভিলেনদের ঘৃণা করি তবু তমসাকে যখন ভিলেন ধর্ষণ করেন তখন আমরা ক্ষণিকের জন্য নায়কের দল ত্যাগ করি। সেন্সর বোর্ডের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিংবা চলচ্চিত্রশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থে তমসার বুকের যতটা বের হয়ে আসে, তা আমরা দ্রুত গিলে নিতেই অভ্যস্ত।

সেই ভাবমূর্তির তমসা যখন দাবি করেন তিনি ভার্জিন, তখন আমাদের কারও কারও সম্বিত ফিরে আসে। আমাদের মনে হয়, আমাদের তমসাকে নিয়ে একান্ত গোপন ভাবনাগুলো কেউ তমসাকে বলে দিয়েছে। আমরা যে কখনোই তমসাকে পাই না বা পাওয়ার মতো যোগ্যতা রাখি না অথবা আমাদের কল্পনায় করা ‘মেহনত’ যে তমসার ভার্জিনিটিকে কখনোই আঘাত করতে পারেনি; তমসা যেন পত্রিকার মাধ্যমে তা-ই আমাদের জানাতে চান। আমাদের কারও কারও স্ত্রীরা, যারা তমসার প্রতি আমাদের দুর্বলতার বিষয়ে সচেতন; তারা বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আমাদের বলেন, ‘ছেমরি তো তুমরারে কলা দেহায় দিছে’।
এরূপ কথা আমাদের মধ্যে অপমানের উদ্রেক করে বটে। আমাদের এই অপমানিত হওয়ার পথ প্রশস্ত করে দেয়ার জন্য আমরা মনে মনে তমসার ওপর ক্ষিপ্তও হই। মনে মনে বলি, ‘তোর পিছনে কম খরচ তো করি নাই; আর তুই ঃ ঃ’

চিত্রনায়িকা তমসার স্বীকারোক্তি অথবা স্বগতোক্তি শুধু আমাদের যে আলোড়িত করে তা নয়; আমাদের বাইরের চারপাশের জগতেও নানা রূপে ঢেউ তুলতে সক্ষম হয়। তমসার সঙ্গের প্রতিদ্বন্দ্বী নায়িকারা, যারা চলচ্চিত্রজগতে এক নম্বর আসন নিয়ে বিচলিত; তারা ভাবতে থাকেন মিডিয়ার ফোকাসটা না সরে গেল। তমসাকে নিয়ে চারদিকে যে আলোচনা, তা থামিয়ে কী করে মিডিয়াকে আবার নিজের দিকে ফিরিয়ে আনা যায়; সে বিষয়ে নিজের ঘরানার চলচ্চিত্রবোদ্ধাদের নিয়ে দফায় দফায় আলোচনায় বসেন তারা।

তারার মেলার প্রতিদ্বন্দ্বী বিনোদন পত্রিকার সম্পাদকরা নিজের সংবাদ সংগ্রাহকদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। চিত্রনায়িকা তমসার ভার্জিনিটির চেয়ে আরও বেশি এক্সক্লুসিভ কোন আইটেমের জন্য তাদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে যায়। তারা একেকজন সাংবাদিককে একেক নায়িকার কাছে পাঠান। কেউ আনেন নায়িকাদের ব্রা’র সাইজের খবর, কেউ আনেন নায়িকাদের প্রথম চুম্বনের অভিজ্ঞতার বিশদ বর্ণনা। তাতে প্রচারসংখ্যা খানিকটা বাড়ে হয়তো কিন্তু তারাঝিলমিলের মতো গগনচুম্বী প্রচারনাকে স্পর্শ করা হয় না। তারাঝিলমিল আর নায়িকা তমসা মিলে যে চাপ চলচ্চিত্রশিল্প আর বিনোদনজগতের ওপর তৈরি করেছে, সে চাপ আর কমে না। আমাদের মাঝে ‘দেশীয় নায়িকা’ নিয়ে অনেকদিন পর তৈরি হওয়া বিপুল চাহিদাকে ধরে রাখতে যে ধরনের খবর জোগান দেয়া উচিত, সে ধরনের খবর পত্রিকার সম্পাদকরা সরবরাহ করতে না পেরে বিব্রতবোধ করতে থাকেন।

ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও চিত্রনায়িকা তমসা সময় দিতে পারেন না। নিজেকে ‘ভার্জিন’ ঘোষণার পর থেকে প্রযোজক-পরিচালকরা ছবির অফার নিয়ে তমসার বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন। তমসা তাদেরই সময় দিতে পারছেন না আর বিনোদন পত্রিকার সাংবাদিককে কী করে সময় দেন! তিনি জানেন, নায়িকা হওয়ার চেয়ে কঠিন নায়িকা হিসেবে টিকে থাকা। তমসার চেয়েও নামকরা কত নায়িকা যে গুলশানের ফ্ল্যাটের কিস্তি আর ব্যক্তিগত গাড়ি ধরে রাখার জন্য এখন রান্নার অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন কিংবা নাটকে নায়িকাদের মা-ভাবী- শাশুড়ির চরিত্রে অভিনয় করে যাচ্ছেন; তা তমসার অজানা নয়। সঙ্গে নিত্যনতুন রূপ আর স্টাইল নিয়ে হাজির হওয়া ‘নতুন মুখ’-এর আক্রমণ তো আছেই! বাঙালি নায়িকার ক্যারিয়ার টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট; স্টেডিয়ামে না বসতেই খেলা শেষ। তাই তমসা রাতদিন শুটিংয়ে ব্যস্ত। কখনও যাচ্ছেন থাইল্যান্ড, কখনও কক্সবাজার। দিনের পর দিন কৃত্রিম বৃষ্টিতে ভিজে কখনও ভুগছেন জ্বরে। সাংবাদিকদের সাক্ষাৎ দেয়ার সময় করে উঠতে পারেন না।

আমাদের মধ্যে ভাবনার জন্ম দিয়ে প্রয়োজনীয় মাল-মশলার জোগান দিতে না পারায় আমরা বিনোদন সাংবাদিক আর বিনোদন পত্রিকার বিরুদ্ধে বিষোদগারে ব্যস্ত হয়ে যাই। আক্ষেপ করে বলি, এ দেশে বিনোদন সাংবাদিকতায় আর উইকিলিকসের জন্ম হবে না। যে দেশের নায়িকারা নিজেই সব খুলে না বলার আগে অথবা নিজেই সব খুলে না ফেলার আগে সাংবাদিকরা কিছুই জানতে পারেন না, সে দেশে মাইকেল অ্যাসাঞ্জও তৈরি হতে পারে না।
আমরাও সংবাদের তোয়াক্কা করি না। আমাদের চরিত্রের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক, আমাদের কল্পনাশক্তি ব্যবহারে মনোযোগী হয়ে উঠি। আমরা ভার্জিন তমসাকে ছাড়ি না। এবং আমরা তাকে কল্পনায় সান্ত্বনা দিই যে- একবার ভার্জিনিটি হারালে পরবর্তীতে তার আর কষ্ট হবে না এবং সে দিনকে দিন অভ্যস্ত হয়ে যাবে। আমরা ভুলতে পারি না, তমসা এখন ভার্জিন। তাই আমাদের কল্পনার তমসা এখন লজ্জা পান।

লেখক মাসউদুল হক-এর এই গল্পটি জলভূমি [সাহিত্য,শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়ক একটি ওয়েব ম্যাগাজিন] থেকে নেয়া। আবারও সেই পুরনো কথা-ভালো লাগলো তাই শেয়ার দিলাম।

১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ শরৎ বন্দনা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৯


শরৎ এলেই আকাশ জুড়ে সাদা মেঘের ভেলা
দিনমণি আর মেঘমালার লুকোচুরি খেলা।

রুম ঝুমঝুম নূপুর পায়ে ছুটছে নদীর ঢেউ
ভাটিয়ালি গাইছে গান অচিন সুরে কেউ।

বিলে ঝিলে শাপলা পদ্ম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×