somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তনু আর শিল্পীরা কি এভাবেই মরবে ?

২৮ শে মার্চ, ২০১৬ রাত ২:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তনু হত্যার ঘটনায় আজ প্রতিবাদমুখর দেশ । সোহাগী জাহান তনু কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ইতিহাস বিভগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী সেই সাথে ভিক্টোরিয়া থিয়েটারের ও কর্মী বাবা ইয়ার হোসেন সেনানিবাস বোর্ডে একটি ছোট্ট কর্মচারী । কুমিল্লা ময়নামতি সেনানিবাসের ভিতরেই ছিল তনুদের বাসা । বাবার যৎসামান্য বেতনে সংসার চালনো ই যেখানে দায় সেখানে আবার লেখাপড়া ? মেধাবী তনুকে দারিদ্রতা কখনো ই লেখাপড়ার উৎসাহে ভাটা ফেলতে পারে নি নিজের লেখাপড়া চালানোর জন্য টিউশনি ই ছিল একমাত্র নির্ভরতা । প্রতিদিনের মত ২০ মার্চ সন্ধ্যা ও টিউশনি শেষে যথাসময়ে বাসার ফেরার কথা ছিল তনুর কিন্তু তা আর হয়নি মেয়ের ঘরে ফিরতে দেরি দেখে বাবা ইয়ার হোসেন মেয়ের খোঁজে নেমে আসেন রাস্তায় কিছু দূর এগুতেই সেনানিবাসের পাহাড় হাউস এলাকায় মিললো সন্তানের লাশ । প্রথমে ফেইসবুক সহ নানা সামাজিক যোগাযোমাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় উঠলেও সেই ঝড়ো হাওয়া আচরে পড়ে দেশের প্রতিটি বিবেকবান মানুষের মনে। সাড়াদেশ আজ উত্তাল তনু হত্যার বিচারের দাবিতে । ঘটনার এক সপ্তাহের বেশি পার হলেও মামলার আগের জায়গাতেই আছে। আসামিরা আজো ধরাছোয়ার বাহিরে । তদন্তের নামে শুধু তনুর বাবা-মা সহ আত্মীয়স্বজনকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা বলে আইনশৃংখলা রক্ষা বাহীনি কি যে তামসা করছে তা কেন জানি বোধগম্য নয় । সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যার মত সেই একই গদ বাধা কথা অতি শীঘ্রই সত্যিকার আসামিরা ধরা পরবে ।সাগর-রুনি হত্যার পর তো তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিনে মাত্র আটচল্লিশ ঘন্টার মধ্যেই নাকি আসল খুনিরা ধরা পরবে হায়রে কপাল সেই আটচল্লিশ ঘন্টা আজ ও শেষ হয় নি। তনু হত্যার আসল রহস্য শেষ পর্যন্ত কোথায় যাবে সেটা বলা মুসকিল । প্রতি দিন ই আমাদের শুনতে বা দেখতে হচ্ছে এ ধরনের কোন না কোন ঘটনা আর সেই নতুন ঘটনার ছায়ায় আমরা ভুলে যাই পুরোনো সেই ঘটনা কে বা একটি আলোচিত ঘটনার ছাযার মাঝে হারিয়ে যায় অন্য কোন ঘটনা । ঠিক তেমনি তনু হত্যার ঘটনায় ছায়ার মাঝে হারিয়ে গেছে অন্য আরেক দুঃখিনী মায়ের কান্না গত ২৭ মার্চ দৈনিক আমাদেরঅর্থনীতি একটি সংবাদ আমাকে বিশেষ ভাবে ব্যথিত করেছে কণ্ঠশিল্পী কৃষ্ণকলির বাসার গৃহকর্মী হত্যা সম্পর্কিত খবর। কৃষ্ণকলি ও তার স্বামী খালিকুর রহমানের নেশার কারণেই নাকি অকাল মৃত্যুর শিকার হতে হয়েছে গৃহকর্মী জান্নাত আক্তার শিল্পীকে। কৃষ্ণকলির রাজধানীর আগারগাঁওয়ের তালতলার বাসায় দেড় মাস আগে গৃহকর্মী হিসেবে নেত্রকোনা থেকে আনা হয় জান্নাত আক্তার শিল্পীকে। গত ২৩ মার্চ ওই বাসা থেকে ই অচেতন অথবা মৃত অবস্থায় শিল্পীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান খালিকুর রহমান। সেখানে জান্নাতকে মৃত ঘোষণা করে কর্তব্যরত চিকিৎসক । এ সময় খালিকুর রহমানের মুখে খামচি ও আঁচড়ের দাগ দেখে তাকে আটক করে পুলিশ। ২৪ মার্চ সন্দেহজনক ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয় খালিকুর রহমানকে অবশ্য পুলিশ আদালতে ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানালে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। জান্নাত আক্তার শিল্পী পেটের দায়ে পরিবার পরিজন ফেলে দুবেলা দু মুঠো ভাতের আশায় গ্রাম ছেড়ে ইট পাথরের এই রাজধানী ঢাকাতে এসেছিল দেশের একজন খ্যাত নামা কণ্ঠশিল্পী কৃষ্ণকলির বাসার গৃহকর্মী হিসেবে । অথচ কৃষ্ণকলি ও তার স্বামী নেশগ্রস্হ্য হওয়ার করনেই সব সময় খিট খিটে মাজাজে থাকতেন আর সমান্যতেই রেগে গিয়ে নির্যাতন চালাতেন গৃহকর্মী শিল্পীর উপর ।অবশেষে এর পরিনতি গড়ায় শিল্পীর মৃত্যু । যদিও শিল্পীর এই মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্ঠা করছিল কৃষ্ণকলি ও পরিবার । মাত্র কিছুদিন আগে দেশের খ্যাত নামা ক্রিকেটার শাহাদাত হোসেন ও তার স্ত্রী জেসমিন জাহান এগারো বছরের শিশু গৃহকর্মী মাহফুজা আক্তার হ্যাপিকে নির্যাতনের অভিযোগে জেলে যেত হয়েছিল । তনু বা শিল্পীদের হত্যার পর বিচারের দাবিতে উত্তাল হয় দেশ দেশের রাজনীতি কিন্তু কেন জানি সেই উত্তাল হওয়ার ধাক্কা আমাদের মনের মাঝে লেগে ও পাশ কেটে যায় । বিচারের বাণী শুধু নীরবে নিভৃতে কাঁদে ই যায় । তার পর ও আশা করবো তনু হত্যাকারীরা ধরা পরবে শিল্পী হত্যাকারিরা আইনের আওতায় আসবে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে ।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মার্চ, ২০১৬ রাত ২:০১
৫টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মেমোরি লুপ (Memory Loop)

লিখেছেন চারাগাছ, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০৪




মেমোরি লুপ (Memory Loop)

​গভীর রাত। ল্যাবের নিস্তব্ধতা চিরে শুধু ভেসে আসছে মনিটরের নীলচে আলোর মৃদু কম্পন। টেবিলের ওপর ঝুঁকে বসে আছেন ডা. আরিয়ান। স্ক্রিনে ভাসছে তার বহু বছরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

'মেসি’ নামক মুগ্ধতা

লিখেছেন সালমান মাহফুজ, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৪২


লিওনেল, রোজারিও থেকে ঢাকা । বার্লিন থেকে নিউইয়র্ক । ২০০৬ থেকে ২০২৬ । উড়ন্ত কৈশোর থেকে পড়ন্ত যৌবন । ফুটবল পায়ে তোমার প্রতিটা পদক্ষেপের সাথে আমরা ছিলাম । আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

টাই চাই

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩১

সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে: অদ্য হইতে কোনো সরকারি বা বেসরকারি কার্যালয়ে ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানে টাই ও বেল্ট পরিধান দণ্ডনীয় অপরাধ। কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে একবাক্যে: "কর্মক্ষেত্র ও যত্রতত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের জন্য ৭-গ্রেডভিত্তিক ন্যায়সংগত সরকারি বেতন ও প্রশাসনিক সংস্কার একটি প্রস্তাবিত নীতিপত্র

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


ন্যায়সংগত পারিশ্রমিক, বেতন বৈষম্য হ্রাস, মেধার মূল্যায়ন এবং দক্ষ রাষ্ট্রীয় প্রশাসন প্রতিষ্ঠার একটি সমন্বিত প্রস্তাব

বাংলাদেশের সরকারি বেতন কাঠামো দীর্ঘদিন ধরে ২০টি গ্রেডের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছে। ভেবেছিলাম দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুlie ২৪ আন্দোলন পরবর্তী বৈষম্যহীন বাংলায় (যেহেতু বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই), বেসরকারী ও সরকারী কর্মজীবীর জীবন...

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২১

/বাংলাদেশের মোট কর্মজীবীদের মধ্যে সরকারী আর বেসরকারী কত শতাংশ?

/গত ২ বছরে যত শিল্প কারখানা ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে এবং তাতে যত সংখ্যক বেসরকারী কর্মজীবী (কর্মকর্তা, কর্মচারী, শ্রমিক….) চাকরী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×