somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পুলিশ কি আমাদের বন্ধু হতে পারবে ?

৩০ শে জানুয়ারি, ২০১৭ বিকাল ৫:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পুলিশ বলতে বুঝায় কি ? যদি এমন প্রশ্নটা সবার কাছে ছুড়ে দেই তা হলে স্বাভাবিক ভাবেই হয়তো এক-এক জন এক-এক ভাবে এর উত্তর দিবেন ।কিন্তু ইংরেজী রুপ Police শব্দ বিশ্লেষন করলে আমরা যা পাই তা হলো P=Polite (মার্জিত), O=Obedient (বাধ্য), L=Loyal (বিশ্বস্ত), I= Intelligent (বুদ্ধি সম্পন্ন ), C= Courageous (বীরত্বপূর্ণ), E= Efficient (দক্ষতা)। এর মূল অর্থ দাড়ায় আইন শৃঙ্খলা ও শান্তি রক্ষা করার ব্যবস্থা অর্থাৎ পুলিশ বলতে বুঝায় রাষ্ট্র তথা সমাজের সমগ্র আইন শৃঙ্খলা রক্ষার প্রতিষ্ঠান, এই প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের কাজ ই হলো রাষ্ট্র তথা নাগরিকের শান্তি-শৃঙ্খলা ও জনস্বার্থ রক্ষা করা। তাই বিশ্বের অনেক দেশেই পুলিশ কে বিভিন্ন উপাধিতে ডাকা হয় যেমন আইরিশ পুলিশদের ডাকা হয় গার্ডা সিওচানা যার বাংলা অর্থ “শান্তির অভিভাবক” আর একজন পুলিশ অফিসারকে শুধু গার্ডা বা শান্তির কর্মী বলে । তবে আমাদের দেশের পুলিশবাহিনীর আচার ব্যবহারের সঙ্গে আইরিশ পুলিশের ঐ উপাধি কতটুকু সামঞ্জস্য পূর্ন এটা ই আজ বড় প্রশ্ন ?



চুরি ছিনতাই খুন গুম হত্যা জমি দখল এমন কোন অপর্কম থেকে বাদ যাবে আমাদের পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের নাম ? যদি ও প্রতি টি ঘটনার পর ই আমাদের পুলিশ বাহিনীর কর্তাব্যাক্তি সহ আমাদের দায়িত্ব প্রাপ্ত মন্ত্রী দায় ছাড়া ভাবে বলে ফেলেন কোন একজন সদস্যের অপর্কমের দায় ভার সমস্ত পুলিশ বাহিনী নিবে না । যদি ও এটা সত্য যে এত বড় একটা বাহিনী দুয়েক জন খারাপ সদস্য থাকাটাই স্বাভাবিক । কিন্তু আমার প্রশ্ন এত বিশল একটি সুশৃংখল বাহিনীতে কিভাবে ঐ সকল পথভ্রষ্ট মানুষ গুলি আশ্রয় পায় ? অতি সম্প্রতি পুলিশ বাহিনীর কিছু সদস্যের কীর্তি সমগ্র জাতিকে স্তম্ভিত ও আতংকিত করেছে তা হলো ২৬ জানুয়ারি ২০১৭ তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি সুন্দরবন বিনাশী রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানের প্রতিবাদে সাড়া দেশে আধা বেলা হরতাল ডেকে ছিল ।হরতালের সমর্থনে ঢাকার শহরের শান্তি প্রিয় দেশপ্রেমিক অনেক মানুষ ই যোগ দিয়েছিলেন শাহবাগে হরতাল সমর্থনের মিছিলে । ঐ মিছিলে আমরা পুলিশের যে নাড়কীয় তান্ডব দেখেছি তা রীতিমত সবাইকে হতবাক করেছে । সাধারন মানুষের ঐ মিছিলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস জলকামান রাবার বুলেট লাঠি লাথি কোন টির ব্যবহার না করেছেন ? অথচ হরতাল সমর্থকরা করে নি কোন ভাংচুরে ফাটায় নি কোন বোমা । তার পর ও প্রশ্ন কোন একটি শান্তি পূর্ন হরতালে পুলিশের এত নির্মমতা ? হরতাল সমর্থকদের উপর পুলিশের এই নির্মমতার চিত্র ধারন করতে যেয়ে পুলিশের নির্মমতার হাত থেকে রেহায় পায়নি পেশাগত দায়িত্বে থাকা সংবাদ কর্মীরা ও । সেদিন পুলিশী নির্যাতনে আহত হতে হয়েছিল বেসরকারি টেলিভিশন এটিএন নিউজের রিপোর্টার এহসান বিন দিদার ও ক্যামেরাপারসন আবদুল আলিমকে । সেই সাথে আমরা দেখছি মিজানুর রহমান নামের বয়োবৃদ্ধ একজন দেশপ্রেমীককে কিভাবে পুলিশ চেংগদোলা করে টেনে হেচরে আহত করেছে । সেদিনের ঘটনায় আহত মিজানুর রহমানকে দেশপ্রেমিক বলায় কেউ আবার মনক্ষুন হতে পারেন । মিজানুর রহমান অবশ্যই দেশপ্রেমিক তিনি সেদিন যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে শাহবাগ এসেছিলেন নিজের কোন ব্যাক্তি স্বার্থ কিংবা রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য নয় বরং আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য থেকে যাতে সুন্দর বন ধ্বংস হয়ে না যায় তার জন্য প্রতিবাদ করতে । সেদিন পুলিশের হাতে শুধু মিজানুর রহমান দিদার কিংবা আলিম ই আহত হননি আহত হয়েছেন আরো অনেকেই । অবশ্য এহসান বিন দিদার ও আবদুল আলিমের উপর নির্যাতনের ছবি যখন সোস্যালমিডিয়া সহ নানা সংবাদ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় তুলে সে প্রতিবাদের ঝরের গতিরোধ করতে সরকার অবশ্য সেই দিন ই এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে শাহবাগ থানার এএসআই এরশাদ মন্ডলকে সাময়িক বরখাস্ত এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে । পুলিশের অপরাধ ও সেই অপরাধ ধামাচাপা দেয়ার জন্য সাময়িক বরখাস্ত ও তদন্ত কমিটি এটা নতুন কিছু নয় এর আগেও সমগ্র দেশে প্রতিবাদ হয়েছিল মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক মাসুদ শিকদার ও তা সহকর্মীদের দ্বারা নির্যাতনের শিকার সাবেক গনমাধ্যম কর্মী ও ব্যাংক কর্মকর্তার গোলাম রাব্বী উপর বর্বর নির্যাতনের পর । তখন ও মাসুদ শিকদারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল তদন্ত কমিটি হয়েছিল কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় নি ফলাফল শূন্য ই রয়েগেছে ।আমাদের পুলিশের নৈতিক চরিত্রের বিন্দু মাত্র পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে হয় না বরং কেন জানি মনে হয়ে আমাদের পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের নৈতিক চরিত্র ক্রমানয়ে নিন্ম দিকে ধাবিত হচ্ছে ।



দীর্ঘদিন যাবত আমরা দেখে আসছি যে রাজনৈতিক দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন আমাদের পুলিশ বাহিনীকে তাদের দলীয় কর্মীদের মত ব্যবহারের চেষ্টা করে আসছে । এর ই ফলশ্রুতিতে বিরোধী রাজননৈতিক শক্তিকে দমাতে পুলিশকেই বড় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল । সমাজের বিশষ্টজন সহ অনেকের ই ধারনা বর্তমান সরকারের আমলে পুলিশ আগের চেয়ে অনেক বেশি বেপরোয়া ও হিংস রুপে আর্বিভূত হয়েছে । তার জন্য সকলেই ৫ জানুয়ারি ২০১৪ এর নির্বাচন কে দায়ি করছেন । ৫ জানুয়ারি ভোটার বিহীন নির্বচনের পর সরকারের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য পুলিশ ই অগ্রনী ভূমিকা পালন করে আসছে । তাই অনেকেই এ সরকার কে পুলিশ নির্ভর সরকার হিসেবে মনে করছেন । অবশ্য সরকারে কর্তাব্যক্তিদের কথায় ও পুলিশের প্রতি তদের বিশেষ দূর্বলতার বহিঃপ্রকাশ পায় । সম্প্রতি শহবাগে সাংবাদিকদের উপর পুলিশী নির্যাতনের সাফাই গাইতে গিয়ে মৌলভীবাজারের শমশেরনগরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, সাংবাদিক নির্যাতন পুলিশ করে না, মাঝে মাঝে ধাক্কাধাক্কি লেগে যায়। এ ধরনেরই কিছু হয়েছে। এতে পুলিশ ও মনে করছেন বর্তমান সরকারের ক্ষমতা দীর্ঘাস্হী করার জন্য তাদের বিকল্প বোধহয় সরকারের কাছে নেই তাই পুলিশ আজ এতটা বেপরোয়া ও হিংস রুপে আর্বিভূত হয়েছে।



আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের পুলিশ বাহিনীর অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্ব ও বীরত্ব পূর্ণ । ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে বর্বর হানাদার বাহিনী যখন নির্বিচারে বাঙালিদের হত্যা করেছিল, রাজারবাগ পুলিশ লাইনে তখনো প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা। পরবর্তীতে পুলিশের এ সদস্যরা ৯ মাসজুড়ে দেশব্যাপী গেরিলাযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে এবং পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলে। স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্রে ১২৬২ জন শহীদ পুলিশ সদস্যের তালিকা উল্লেখ পাওয়া যায়। প্রসঙ্গত ঝিনাইদহের তৎকালীন সাব-ডিভিশনাল পুলিশ অফিসার মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম, ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ মুজিবনগর সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে ঐতিহাসিক গার্ড অব অনার প্রদান করেন। এত কিছুর পর ও রাজনৈতিক ও ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলের জন্য আমাদের পুলিশ বাহিনীকে নানা অপকর্মে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং আমাদের পুলিশ ও তাদের কর্তব্য ও ঐতিহ্যের কথা ভুলে গিয়ে তারা ও ব্যবহিত হচ্ছেন। যা আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনা দায়ক সেই সাথে আতংক জনক ও বটে । আমরা চাইবো আমাদের পুলিশ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের মনের ভিতরে মুক্তিযুদ্ধের সেই চেতনা জাগ্রত হবে জাগ্রত হবে তাদের বিবেক ও কর্তব্য বোধ । আমাদের পুলিশবাহিনী ও আমাদের বন্ধু হয় আমাদের সেবক হয়ে ই আমাদের পাশে থাকবে ।



সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জানুয়ারি, ২০১৭ বিকাল ৫:৪৬
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×