somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাংবাদিক শিমুলের রক্তমাখা পরিচয়পত্র এবং…

০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ১২:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাংবাদিক হত্যা বা নির্যাতন বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়। মহান মুক্তিযুদ্ধেও পাকিস্তানি হানাদারদের হাতে জীবন দিতে হয়েছিল সিরাজুদ্দীন হোসেন, সেলিনা পারভীন, শহীদুল্লাহ কায়সার প্রমুখ সাংবাদিকদের। স্বাধীনতার পরও এই তালিকা দীর্ঘ হতে থাকে। ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে আওয়ামী লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষের মধ্যে গুলিতে নিহত হন দৈনিক সমকালের শাহজাদপুর প্রতিনিধি আবদুল হাকিম শিমুল। কেউ বলছেন শিমুল দুই গ্রুপের সংর্ঘষের মধ্যে পড়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, আবার কেউ বলছেন, শিমুল দুই গ্রুপের সংঘর্ষের সময় অস্ত্র মহড়ার ছবি তুলতে গেলে পৌর মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা হালিমুল হকের অস্ত্রহাতে ছবি তুলছিলেন, এতে পৌর মেয়র হালিমুল হক রাগে সাংবাদিক শিমুলকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। যেভাবেই হোক ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ফলেই এ ঘটনা, এটাই সত্য। আমি এখানে দুইটা বিষয়কে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি যার প্রথমটি হলো সাংবাদিক হত্যা আর দ্বিতীয়টি হলো ক্ষমতাসীনদের অন্তঃদলীয় কোন্দল ও সংঘর্ষ।

বাংলাদেশে সাংবাদিকরা বরাবরই ক্ষমতাসীনদের চোখের শূল। যে যেভাবেই পেরেছে সাংবাদিকদের মুখ ও কলম বন্ধের চেষ্টা করেছে। এর জন্য জীবন দিতে হয়েছে অনেক সাংবাদিককেই। বাংলাদেশের অনেক সাংবাদিকের দামি গাড়ি ও রাজকীয় বাড়ি থাকলেও শহরকেন্দ্রিক বেশিরভাগ সাংবাদিকেরই নুন আনতে পান্তা ফুরোয় অবস্থা আর মফস্বল সাংবাদিকের অবস্থা না বলাই ভালো। শিমুল ছিলেন তেমনি একজন মফস্বল সাংবাদিক। সংবাদমাধ্যমের খবরে বিস্মিত হয়েছি শিমুল মারা যাওয়ার সময় ঠিকমতো ঘরে খাবারটুকুও রেখে যেতে পারেননি। শিমুল আহত হওয়ার পর তার রক্তমাখা পরিচয়পত্রটি সোশ্যাল মিডিয়াসহ নানা সংবাদমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। শিমুলের রক্তমাখা ওই পরিচয়পত্র দেখে সকল সংবাদকর্মীরই অন্তত এক মুহূর্তের জন্য হলেও বুক কেঁপেছে, কারও কারও চোখ থেকে হয়তো অশ্রুও নেমেছে। সবার মনেই প্রশ্ন, কেন শিমুলকে জনপ্রতিনিধির মতো এক ঘাতকের বুলেটে জীবন দিতে হলো?

আমাদের রাজনীতি তথা রাষ্ট্র পরিচালনায় দীর্ঘদিন যাবৎ মেধার চেয়ে পেশীশক্তি ও অর্থের প্রভাবই বেশি। রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিটা দলীয় নির্বাচনে তাদের মনোনয়নপত্র দিয়ে থাকেন হয় টাকাওয়ালাদের, না হয় সন্ত্রাসীদের। ফলশ্রুতিতে সন্ত্রাসী ও টাকাওয়ালারাই জনপ্রতিনিধির পদ দখল করে নিচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ পর্যায়ের নেতারাও মনোনয়ন বাণিজ্যে অর্থে হচ্ছেন মহাবিত্তশালী। আর যারা নিলামে মনোনয়ন কিনে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন যেকোনো মূল্যে নির্বাচনে লগ্নি করা টাকা সুদে আসলে তুলে নিবেন এটাই স্বাভাবিক। ২০১৪ এর ৫ জানুয়ারি এক রকম ভোটারবিহীন নির্বাচন ও তারপরে সবগুলো নির্বাচনই আমাদের ভাবনার বিশেষ কারণ ছিল। এরপরের প্রতিটি নির্বাচনই ছিল ওই একই ধাঁচের। বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নিজেদের ক্ষমতা দীর্ঘ করা ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের জনপ্রিয়তা প্রমাণের জন্য তারা প্রত্যেকটা নির্বাচনকেই নানাভাবে কলুষিত করেছে। বর্তমানে হামলা মামলার ভয়ে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি একদিকে যেমন গর্তে ঢুকেছে অন্যদিকে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা অর্থ সম্পদ কামাতে কোমরে গামছা বেঁধে নেমেছে। এতে করে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা নানা ভাগে হয়ে পড়েছে বিভক্ত। এই বিভক্তি ও অর্থ সম্পদ কামানোর প্রতিযোগিতায়ই প্রতিনিয়ত ঘটছে নিজেদের মধ্যে নানা সংঘাত ও সংঘর্ষ। এসব সংঘাত, সংঘর্ষ জীবন কেড়ে নিচ্ছে হয়তো দলীয় নেতা-কর্মীদের না হয় দেশের নিরীহ জনসাধারণের।

একজন সাংবাদিক তার দায়িত্ব পালনের জন্য নিজের জীবনবাজি রেখে রাস্তায় নেমেছিলেন আর ক্ষমতাসীনরা অর্থের লোভে, সম্পদের লোভে সংঘাত-সংঘর্ষের জন্যই নেমেছিলেন রাস্তায়। ক্ষমতা ও অর্থলোভের কাছেই জীবন দিতে হলো একজন প্রান্তিক নিরীহ সাংবাদিককে। যে মৃত্যুর ঘানি আজীবন বইতে হবে একটি পরিবারকে। জানি না সাংবাদিক শিমুলের পরিবারের ভাগ্যে কি আছে? সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর-রুনির খুনিদের সরকারও আইনশৃঙ্খলা আজ পর্যন্ত ধরতে না পারলেও শিমুলের ঘাতক খুনি পৌর মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা হালিমুল হককে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে এজন্য সরকার ও আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী অবশ্যই ধন্যবাদ প্রাপ্য। তবে এই গ্রেফতার সম্পদ ও ক্ষমতালোভী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের কতটুকু শৃঙ্খলার মধ্যে আনবে আর হত্যাকারীদেরই বা কি বিচার হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়

সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ১২:২৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×